শাড়ির ভেতর হাত ঢুকিয়ে নিচে নামতে নামতে হঠাৎ ভয় পেয়ে হাত বের করে ফেলে রাহুল। চিৎকার দিয়ে বলে, ও আমার ইশ্বর। এটা কী? এখানে তো কুয়া থাকার কথা। এখানে গাছ আসলো কিভাবে?
তার নববিবাহিত স্ত্রী নন্দিতা হেসে বলল, আমি আসলে মেয়ে না। আবার ছেলে ও না।
রাহুল অবাক হয়ে বলল, তার মানে তুমি হিজড়া।
সকালবেলা রাহুল বর ঘরের বাইরে বসে আছে। গভীর মনে উঠানে তাকিয়ে রাহুল এখনও গতরাতের বাসর ঘরের কথা ভুলতে পারছে না। এদিকে ঘরের ভেতর নন্দিতা ঘুমাচ্ছে।
রাহুলকে টাচ করতেই চমকে উঠলো সে। তাকে কাধে হাত রেখেছে তার দাদা বিক্রম।
বিক্রম দাদা বললেন, কিরে। মন খারাপ কেন? বিয়ের প্রথম প্রথম একটু টেনসন হবেই। প্রথমবার আমারও মন খারাপ ছিল। কারন কুয়ায় পানি ঢালার আগেই বিছানায় পানি পড়ে গেছিল। তখন তোর বৌদি আমাকে থাপ্পড় মেরেছিল। বলছিল সংসার করবে না।
রাহুল বলল, আমিও সংসার করব না। তাকে ডিভোর্স দিব।
বিক্রম দাদা বললেন, কেন? মেয়ের কি কোন সমস্যা?
রাহুল সত্য কথা বলতে পারলো না। কারন গতরাতে সে নন্দিতাকে প্রমিজ করেছে। এই কথা গোপন থাকবে।
রাহুল বলল, মেয়ের না। আমার সমস্যা। আমার মেয়ে নয়, ছেলে পছন্দ আমি গে (সমকামি)
বিক্রম দাদা রাগি চোখে তাকিয়ে আছে রাহুলের দিকে৷ তিনি ধার্মিক মানুষ। সমকামি দুচোখে দেখতে পারেন না। সেদিন ই উনি পুরোহিত ডাক দিলেন। উনার মতে রাহুলকে অশুভ আত্মা ধরেছে। তাকে শুদ্ধ করতে হবে।
বিকেলবেলা বাড়ি থমথম করছে। নন্দিতা এখনও নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। এদিকে রাহুলকে চেয়ারে বেধে রাখা হয়েছে রশি দিয়ে। পুরোহিত এসে তাকে মা কালির কাছে উৎসর্গ করবে।
সন্ধা বেলা পুরোহিত আসলেন। বিক্রম দাড়িয়ে। রাহুলের মা কান্না করছে মুখে আচল দিয়ে। চারিদিকে গ্রামের মানুষ জমে গেছে। আজ একটা বিরাট ফাটাফাটি হবে।
রাহুল কে ধরে শোয়ানো হলো উঠানে।৷ তার সামনে মা কালির মূ্র্তি রাখা। পুরোহিতের হাতে বড় ছুড়ি। সে রাহুলের সামনে আসলো। তারপর বলল, এখনও সময় আছে ভালো হ। নয়তো গলা যাবে।
রাহুল মনে মনে গীতা পড়তে লাগলো। এমন সময় নন্দিতার ঘুম ভেঙে গেল। সে বাইরে এসে দরজা খুলে অবাক। তার স্বামীকে.......
(সোডোম এন্ড গামোরা) #রুদ্র সিয়াম
---