হেমন্তের ধানে ধানে হাসছে সারা দেশ
কৃষকের মুখে দেখো সুখের আবেশ।
সোনারঙা মাঠজুড়ে ঢেউ খেলে যায়
হিমেল বাতাসে মন জুড়িয়ে জুড়ায়।
শিশিরের ছোঁয়া লেগে ধান শিষ দোলে
মেঠো পথ ভেসে যায় আনন্দ রোলে।
পিঠেপুলি হাতে নিয়ে কিষাণীরা হাসে
নতুন ধানের ঘ্রাণ বাতাসে বাতাসে।
ভোরবেলা মাঠে ছোটে চাষীদের দল
ঘামে ভেজা ক্ষেতে ফোটে শ্রমে সুফল।
আঙিনায় মাড়াইয়ের শুরু কলতান
পল্লীর বুকে বাজে নবান্নের গান।
মৌ মৌ গন্ধেতে ভরে যায় চারপাশ
অঘ্রানে শুরু হয় সুখের বিলাস।
ঢেঁকিতে ধানের সুর বাজে বারোমাস
পিঠে-পুলি বানানোর জাগে অভিলাষ।
রোদেতে শুকায় কাঁচা সোনালী ধান
ঘরে ঘরে জেগে ওঠে আনন্দের গান।
দুধে-গুড়ে জ্বাল দিয়ে ফোটে যে পায়েস
হেমন্তের উৎসবে কেটে যায় ক্লেশ।
শিশিরের কণা জমে যেন মুক্তার মালা
প্রকৃতি সাজালো আজ রূপেরই ডালা।
পরিশ্রমী মানুষের ঘামে ফোটে ফুল
ধানের হাসিতে আজ প্রশান্ত দু’কূল।
গোলা ভরা ধানে হবে সমৃদ্ধির দিন
মাটির কাছে যে বাঁধা জীবনের ঋণ।
দুঃখ ভুলে যায় চাষী বুকভরা সুখে
শান্তির আলো জ্বলে গৃহকোণ মুখে।
হেমন্ত চুপি আসে নবান্নের ঘ্রাণে
শীতে সুবাস ছড়ায় বাংলার প্রাণে।