গোধূলির রক্তিম আভায় যখন দিনান্তের বিষাদ নামে,
দিগন্তের বুকে তখন কে যেন নীরবতার ছবি আঁকে।
দূর আকাশে মেঘের ভেলায় জমে থাকে অচেনা বিষণ্নতা,
আর বাতাসের দীর্ঘশ্বাসে জেগে ওঠে হারানো দিনের কথা।
নদীর বুকে চাঁদের ছায়া, জলের বুকে রুপালি ঢেউ,
নক্ষত্রেরা নীরব চোখে দেখে পৃথিবীর কত না কেউ।
শিউলি ঝরা পথের ধারে শিশিরভেজা ঘাসের বুকে,
রাতের মায়া চুপিসারে গল্প লেখে অন্ধকারের মুখে।
কোনো এক দূর অরণ্যে ঝরনা যখন সুর তোলে,
পত্রপল্লব মৃদু দোলে বাতাসেরই ছন্দতালে।
মনে হয়, এই ধরণিতে সৌন্দর্যের শেষ নেই,
শুধু মুগ্ধ হয়ে দেখার মতো অবসর আমাদের নেই।
হে অনন্ত প্রকৃতি, তোমার রূপের নেই অবসান,
তোমার বুকে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির আদিম গান।
তোমার নীলিমা, তোমার সবুজ, তোমার মেঘমেদুর
সবকিছুতে খুঁজে ফিরি এক অনির্বচনীয় জীবন।
যদি কখনো হারিয়ে যাই সময়েরই অতল স্রোতে,
আমায় খুঁজো কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম পাপড়ি ঝরা পথে।
হয়তো কোনো নামহীন ফুলের সুবাসে,
হয়তো কোনো জোছনামাখা নিশীথের নিঃশ্বাসে—
আমার রেখে যাওয়া অনুভূতি
নীরবে বেঁচে রবে এই ধরণির বুকে,
যেমন করে চাঁদ হারিয়েও
জ্যোৎস্না থেকে যায় নদীর গভীর সুখে।