হেমন্তের রাতে আচ্ছন্ন কুয়াশায়,
ভিড় ঠেলে অল্প আসে জোছনা;
না কিছু চেনায়,
শুধু বিভ্রম বাড়ায়।
সহস্র বিন্দু ঝরায় কুয়াশার বৃষ্টি,
না পারে কান্না লুকাতে,
পারে না সিক্ত করতে।
নীরবতা ভেঙে ডানা ঝাপটায় বাদুড়ে,
হট্টগোল বাঁধায় চামচিকার দলে,
শিয়াল হাঁকায় বিকট চিৎকারে,
ডাহুকেরা ডাকে বেদনার সুরে;
চোখ-গেলো কাঁদে সাথী হারিয়ে।
আমি আছি দাঁড়িয়ে,
স্মৃতিরা ভাসে অক্ষিপটে—
এই কাঁদায়, এই পোড়ায়!
হাসনাহেনার সৌরভ আসে,
চাপালিশের গন্ধ ভাসে;
না পারে ব্যথা সারাতে,
শুধু পারে ক্ষত বাড়াতে।
তুমি ফোটো প্রিয় ফুল হয়ে,
আলো ছড়াও প্রিয় জোনাকি হয়ে,
জোছনা ছড়াও পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে,
ছুঁয়ে দাও নম্র শীতল পরশে।
তুমি এসো ক্লান্তি দূর করাতে,
তুমি এসো গ্লানি ঘুচিয়ে দিতে,
আলোর দিশারি হয়ে পথ দেখাতে,
শীতল হাওয়ায় দহন নিবাতে।
নিবু নিবু চাঁদ নিভে গেলে কী ক্ষতি?
মিটিমিটি তারা ডুবে গেলে কী ক্ষতি?
তুমি হয়ে যাও প্রিয় চন্দ্রলোক—
আমি তোমায় গায়ে মাখি।
শিউলি ঝরে গেলে কি ক্ষতি?
বকুল ঝরে গেলে কি ক্ষতি ?
তুমি হয়ে যাও প্রিয় বৃষ্টি—
আমি ভিজতে থাকি।