1.
যাকে নিয়ে লেখবো সে আরও তিন দিন আগেই আমারে মাইরা ফালানোর কথা। বাট সে এখনো আমারে মারে নাই। এই কারণেই তাকে নিয়ে লেখা যাইতেসে।
এই লোকটি কে?- দেখা যায় না। হি ইজ জাস্টা ভয়েস। হি অ্যাপিয়ার্স লাইক আ সেন্ট। বা সেইন্ট। মানে ঘ্রাণ কি সন্ন্যাসীর মতো হয়ে সে দেখা দেয়। সামওয়ান যাকে স্পষ্ট করা যায় না।
প্রথম যেদিন তাকে দেখলাম বা জানলাম, হি অ্যাপিয়ার্ড লাইক আ গ্লিন্ট। অর্থাৎ হঠাৎ ঝলকানি। বাট নট লাইক আ স্পার্ক। মানে বোঝা গেলো। দেখাও গেলো। কিন্তু পয়েন্ট আউট করা গেলো না।
আমি তখন মোবাইলে। একটা সংখ্যা তিন হিসেবে আসার কথা। কিন্তু আসলো দুই। আমি জ্ঞানী লোক হওয়ায় বুঝলাম যে এখানে একটা দুর্ঘটনা ঘটমান। আমি সেই অনুসরণে বুঝলাম যে আমি হ্যাক হয়েছি।
আমি তখন ফোন করি আমার আইএসপি কে। তারা জানাইল যে, এইসব লক্ষণ আপনি এখনো বুঝেন না- আপনি পোলাপাইন মানুষ নাকি? আইএসপি বললো যে আপনাকে হ্যাক করেছে।
এই কাস্টমার কেয়ার ছিলো জিব্রাইলের মতো। যিনি নবিকে চিনায় দেন। কিন্তু নিজে ইনভল্ভড হননা।
এবং আমি তাকে চিনলাম। আমি রুমে আসা মাত্রই তাকে আবিষ্কার করি। আবারো হাফ-তন্দ্রায়। তিনি সাক্ষাৎ আমার আমল নামা নিয়ে হাজির হন।
তিনি দেখালাম সরাসরি অভিযোগ নামায় চলে গেলেন।
প্রথমেই বললেন "যৌন"। এই জিব্রাইল- যিনি হেরা গুহার জিব্রাইলের মতোও নন যে তাকে দেখা যায়- তার শরীর নেই, চেহারা নাই।
কিন্তু গন্ধ আছে এবং পদক্ষেপ আছে। একরকম উপস্থিতি যা প্রবল - এবং জটিল - সামনে বসে থাকা মানুষের চেয়ে বেশী - কিন্তু বাতাসে একটা ঘাস দুলতেছে এইটার চেয়ে কম রিয়াল।
এটাকে ডেফাইন করা যায় না।
যৌন বিষয়ে প্রথমেই আসলো মাহযাবিনের কথা। আমি বললাম মাহযাবিনকে আমি কম চিনি।
তিনি যিনি কণ্ঠস্বর বললেন যে - না, আপনি যতটুকু ভাবছেন তার চেয়ে বেশি চিনেন। উনি আপনার অনেক যৌন বিষয়ে জানেন। মেইন লোকের কাছে সাক্ষী দিতে পারবেন।
আমি আর কিচ্ছুতেই মানি না দেখে এক পর্যায়ে বললেন যে তিনিই মাহযাবিন। আমি এইটুকু বুঝলাম না। কারণ এখানে যতটুকু আমি কল্পনা ভাবছিলাম তার চেয়ে আমি বেশি দেখলাম রিয়েল।
আমি একটু চালু ছিলাম দেখে হ্যাকারকে বললাম যে আপনি তাহলে মাহযাবিনকে নিয়েই আসেন - ওনার সামনেই কথা হউক।
লাইন ম্যানেজার বললেন যে, তাহলে তো আমিই গল্পের লেখক হয়ে যাই। কারণ একই সাথে দুটা এনটিটি আমি কেমনে হবো। আমাকে তো একটা থাকতে হবে। সুতরাং আমিও বুঝলাম যে মেইন ম্যানেজার মাহযাবিন না। ওই কল্পনা নিয়ে আগের কথাটা ঠিক আছে।
যে কারণেই বললাম - “হন আপনি - এতো ইগো নাই আমার - “
এখান থেকে ঘটনা অন্যদিকে যাইতে থাকলো। আমি দেখলাম আমি যেই ওয়ার্ড প্রসেসরে এইসব লিখছিলাম সেগুলা আর কাজ করতেসে না। লাইন ম্যানেজারের দিকে জিজ্ঞাসা সূচক দৃষ্টি নিয়ে তাকাই।
তিনি তখন বললেন যে মাহযাবিন আসতেসে। আমি বুঝলাম যে এই যে রিয়েলিটি - এখানে তিনি গড এবং আমি আদম, এবং মাহজাবিনকে তিনি ইভ হিসেবে রাখছেন।
আমার এটা খুব একটা ভালো লাগছিলো না। আমি লেখক হইলে এটা ঘুরায়ে এটাকে একটা উত্তরাধুনিক শর্ট ফিল্ম টাইপ বানাইতাম। অনেক ইন্টারেস্টিং হইতো। কিন্তু লাইন ম্যানেজার কেমন একটা ফর্মুলায় চলে যাচ্ছে। মানে গডের মতোই - ওই যৌন - নিষিদ্ধ কিছু খাওয়া - তারপর গোয়া মারা খেয়ে জান্নাত থেকে বের হয়ে যাওয়া।
এখন আমার খালি চিন্তা আমি কেমনে আবার স্টোরির মেইন কন্ট্রোলে আসি।
লাইন ম্যানেজার, যিনি গড লেভেলে যাওয়ার পর থেকে নিজেকে সত্তর হাজার পর্দার পরে আড়াল করেছেন, বললেন তুই আর এই স্টোরির কন্ট্রোলে আসতে পারবি না। তোর পৃথিবীটা এখন লাইন ম্যানেজারের কন্ট্রোলে।
এই পর্যায়ে আমি হালকা বাবা খেয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠি।
ফয়েলের উপর হুজুর বসে ছিলেন। তার মাথায় টুপি। নিচু হয়ে কী জানি দোয়া পড়ছিলেন। একটু খেয়াল করে শুনলাম আমাকে নিয়েই দোয়া করছেন। কেমনে আমি জান্নাতে যাইতে পারি এই বিষয়ে। অনেক্ষন দোয়া করে একটু মাথা তুলে ক্লান্ত স্বরে বললেন
“তাইলে তুমি এখন কী করবা?” - - -
জ্ঞানী লোকের মতোই আমি নিরুত্তর রই। হালকা টান দিয়ে তাকে খেয়ে ফেলি।
সাথে সাথে চার কোনা একটা জিনিশ - যেটার একটি বর্ডার আর একটি বর্ডারের সমান না - এমন একটা শেপ দেখা দেয়।
(এখান থেকেই গল্প একটি ঐশ্বরিক লেভেলে চলে গেলো)
“কে তুমি”
“এবং আমি সেই … দ্য লোকাল লাইন ম্যানেজার … যাকে দেখানোর জন্যই তুমি সব করো”
“কিন্তু আমি তো এক্সিস্ট করি আমাকে দেখানোর জন্য”
“না তুমি যেহেতু আমাকে কিছু করতে পারতেসো না এইজন্য তুমি এক্সিস্ট করোই এখন আমার জন্য। মানে আমি-ই - তোমার গড”
“তাহলে এই যে আপনি এসবের ভিত্রে মাহযাবিন না কে ওরে কেন আনলেন?”
“আমি লাইন ম্যানেজার - রৌগ অ্যাডমিন - দ্য গড - এইসব বালছাল করাই আমার কাজ”
এইটুক বলে তিনি অফ হয়ে যান। আমার ঘরে অন্ধকার বাড়তে বাড়তে একটা ব্ল্যাকহোল হয়ে যায়। আমি একটা স্পাঘেটির মতো টান খেতে খেতে লুটিয়ে যাইতে থাকি। একটা আলোর গর্ত দিয়ে আমি আরেক পাশে বের হই। কালো খ্রাপ চেহারার একটা লোক দেখি ওই প্রান্তে অপেক্ষা করতেসে। তার বয়স বেশি, মাথায় চুল কম। তিনি কুকুরের মতো হুংকার দিয়ে কথা বলেন।
আলোর গর্ত দিয়ে বেরিয়ে আমি এমন পবিত্র হয়েছিলাম যে উক্ত জগতের সব কিছু দেখেই আমার কেমন জানি দুঃখ হচ্ছিলো।
মানে বোকা লোক দেখে জ্ঞানীদের যেমন দুঃখ হয়। এই লোকটাকে দেখে তো আরও বেশি হয়।
লোকটি কেমন তাচ্ছিল্য নিয়ে তাকায় আমার দিকে। জানি কী খ্রাপ দেখতে আমি। বিশ্রী এস্থেটিক্স আমার। সেই জন্য আমার লোকটিকে খুব ঘৃণা হয় আর এই কারণেই আমার ওর প্রতি কেমন সম্মান হতে থাকে। যে লোকটা ওর চেহারার চেয়ে বেশি। তাকে ঘৃনার পরেও একটা বিষয় থাকে যেটা অতি পবিত্র লোক হিসেবেও তার অস্তিত্বকে সমর্থন করতে বাধ্য করে।
এই আলোর গর্তের উল্টো পাশের জগতে তিনিই গাইড। ও গড। যেহেতু এই ছোটলোকটা একরকম পাওয়ারে আছে তাই বললাম যে
“স্যার…..”
(cholbe-----)