নিশীথ রাতের নীরবতায় চাঁদ যখন হাসে,
রুপালি আলো ছড়িয়ে পড়ে নদীর বুকের পাশে।
দূর আকাশের নক্ষত্রেরা গল্প বলে মনে,
কত অজানা স্বপ্ন জাগে নিঝুম পৃথিবীর কোণে।
শিউলি ঝরা পথের ধারে শিশির জমে ঘাসে,
বুনো ফুলের মিষ্টি সুবাস বাতাসে ভেসে আসে।
কৃষ্ণচূড়ার লাল পাপড়িতে সন্ধ্যা যখন নামে,
প্রকৃতি যেন রঙিন ছবি আঁকে আপন মনে।
পাহাড়ের ওই শ্যামল বুকে মেঘের বসতখানা,
ঝরনার জলে মিশে থাকে অচেনা কোনো গাথা।
বনপথের ওই নিভৃত ছায়ায় পাখির মধুর সুর,
মনে হয়, পৃথিবীর সব ক্লান্তি আজ বহুদূর।
কখনো শ্রাবণ মেঘের কোলে বৃষ্টিরা গান গায়,
কখনো আবার শরৎ এসে কাশফুল দোলায়।
হেমন্তের সোনালি মাঠে রোদের মায়াবী হাসি,
বসন্তের ফুলেল সুবাসে পৃথিবী হয় উদাসী।
কী অপূর্ব এই ধরণি, কী অপরূপ তার সাজ,
প্রতিটি প্রভাত নতুন করে লেখে জীবনের আজ।
পাতার বুকে বাতাস যখন মৃদু পরশ বুলায়,
মনে হয় সৃষ্টির সৌন্দর্য নীরবে কথা শোনায়।
আমি যদি কোনোদিন হারিয়ে যাই অচেনা কোনো পথে,
আমায় খুঁজো গোধূলিবেলার অস্তরাগের সাথে।
খুঁজো আমায় নদীর ঢেউয়ে, জোছনামাখা রাতে,
খুঁজো আমায় নাম না জানা কোনো ফুলের প্রভাতে।
আমি হতে চাই না আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা,
হতে চাই কোনো বুনো ফুল, যার নেই কোনো অহংকার।
যার সৌন্দর্য দেখবে পথিক, থামবে ক্ষণিক তরে,
তারপর সে চলে যাবে নিজের গন্তব্য ধরে।
কারণ সৌন্দর্য মানে শুধু চোখে দেখা নয়,
কিছু অনুভূতি থাকে, যার কোনো ভাষা হয় না।
কিছু মুহূর্ত হারিয়ে গিয়েও হারায় না কখনো,
কিছু মায়া সময় পেরিয়েও ফুরায় না কোনোদিন।