তুমি যেন এক অনন্ত রূপের বিস্ময়,
যার সৌন্দর্য কোনো উপমায় সম্পূর্ণ হয় না,
যাকে দেখতে দেখতে চোখের ভাষা ফুরিয়ে যায়,
অথচ মনের বিস্ময় একটুও কমে না।
তুমি কখনো ভোরের প্রথম আলোর মতো,
নীরব পৃথিবীর কপালে এঁকে দেওয়া সোনালি স্বপ্ন,
কখনো শ্রাবণের মেঘে জমে থাকা বিষণ্নতা,
কখনো বৃষ্টিভেজা বিকেলের এক টুকরো মায়া।
তোমার মধ্যে যেন ঋতুরা ঘর বেঁধেছে,
বসন্ত রেখে গেছে তার ফুলের সুবাস,
শরৎ দিয়েছে শুভ্র মেঘের উদারতা,
আর বর্ষা দিয়েছে গভীরতার অনন্ত আকাশ।
তুমি নদীর মতো,কখনো শান্ত, কখনো দুরন্ত,
তোমার সৌন্দর্য ছুঁয়ে যায় দুই তীরের নিঃসঙ্গতা,
তুমি সমুদ্রের মতো,শেষহীন, রহস্যময়,
যার গভীরতা মাপতে গিয়ে হারিয়ে যায় সব ভাষা।
তোমাকে ভাবলে মনে পড়ে রূপসী বাংলার কথা,
সবুজ ধানের মাঠে বাতাসের গোপন আনাগোনা,
কাশফুলের শুভ্রতায় মিশে থাকা এক অনন্ত বিকেল,
আর দূর দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া পাখিদের ঘরে ফেরা।
তুমি কি তবে সৌন্দর্যের কোনো চিরন্তন সংজ্ঞা,
নাকি সমস্ত সংজ্ঞার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক অনুভব?
তোমাকে লিখতে গিয়ে শব্দেরা বারবার থেমে যায়,
কারণ তুমি শেষ নও,তুমি এক অনন্ত উপাখ্যান।