তখন শুরুতে কিছুই ছিল না। ছিল শুধু অনেক রকম হরেক রঙের আলো। রঙের মধ্যে ছিল কেবল সফেদ সাদা।
তারপর যখন আজকের এই পৃথিবী অক্ষরেখা হয়ে দ্রাঘিমারেখায় মিলে আমাদের অমিলের নিয়মের সময়ের ছায়া পথ ধরে ধরে কেন যেন কী অনুযায়ী পৃথিবী যখন থেকে ঘুরতে থাকলো, তখন থেকে ঘুরতে ঘুরতে যখন সূর্য ঘুরেটুরে কিংবা সূর্য টারে প্রদক্ষিণ ক'রে পৃথিবী তার অন্য পাশে এলো, তখন দেখা হলো আঁধার কালো আলোর সাথের রাত্রির... জমকালো প্রভাতের প্রহরীর রেশের ...
বায়ুমণ্ডলের অসংখ্য স্তরের একে একে নানা রকম বৈজ্ঞানিক পদার্থের মৌলের সমন্বয়ের অনেকগুলো লেয়ারে লেয়ারে স্তরে স্তরে সাজানো স্বন্নিবেশিত সুসজ্জত পরিবর্তনশিল বিভিন্ন রকম পদার্থের ও মৌলের সংস্পর্শে মেঘ হোলো তৈরি ~ তৈরি হলো আকাশ এর ~ আকাশের আবরণ এর বিবরণের পৃথিবীর আবরণ।
তারপরে দেখা গেল সেখান থেকে ধূসর একটা বলয়। চমকে ডাকছে বারে বারে শব্দ মেঘ কখন যখন তখন ইচ্ছেমতন এরে ওরে - কো'রে কে ডাকে কা'রে ...
তারপর উপর থেকে দেখা গেল (?) একগুচ্ছ আলো এসে পড়ল মৃত্তিকাতে, পৃথিবীর মাটিতে স্পর্শ করল প্রথম... সেই প্রাণকে। প্রাণের নাম পানি।
তারপর পানি হলো বাষ্প, বাষ্প উড়লো বাতাসে, বাতাস থেকে গেল আবারও আকাশের দরবারে। সেখান থেকে আবার হলো বৃষ্টি, বৃষ্টি হয়ে হলো জল। সেই পানির রঙে সৃষ্টি হলো নীল। সেই নীলটা দেখা গেল আবার আকাশে। আকাশে এতো নীল তবু কেন আসে প্রহর লাল রক্তিম।
আকাশ থেকে তখন সেই যেই আলো এলো গাছের মধ্যে প্রাণ হাসল , সেই গাছের মধ্যে পেলাম নতুন রঙ সবুজ ~ সবুজ যখন পেলাম, তখন সবুজ থেকে সবুজের নানা রকম বৈচিত্র্য—গাঢ়, হালকা গাঢ়, একটু গাঢ়, অল্প গাঢ়। তারপর দেখা গেল একটু একটু করে টিয়ারা হাজারো হরেক রকম হরিত রং গড়মিল ~ সকলেই তাতে হলো সামিল।
তারপর দেখা গেল গাছের রং কি? দেখা গেল হালকা গাছের পাতা যখন সবুজ থেকে ঋতু বৈষম্যের বৈচিত্র্যের চারিতার্থীর চিরাচরিত অচেনা কারণের ব্যাকরণে ধাঁধার অংক কষে একটু একটু করে রং বদলিয়ে হলুদ হলো, তারপর হলো কমলা, তারপর হলো খয়েরি রঙের আরো একটা অন্যরকম মাটির রঙের মাটির একই রং। খয়েরি তৃষ্ণ মেটাতেই করলেন হট্টগোল, পৃথিবী তখন থেকে ডিম্বাকার গোল।
তারপর এতসব রং ঘুরে বেড়াতে ঘুরে (?) বেড়াতে লাগলো সম্পূর্ণ জগৎ জুড়ে অবিচল অটল। কিন্তু কোথায় গিয়ে আটকাবে রঙের খেলার বদল ? আবেগের গতির ভাবনায় তথ্যের রদবদল ~ জেনে নেয়া কোথায় ঘটছে দায়িত্বের পদ পদবির কৌশলের চলের ছলের অদল বদল ~ জিতেছো পেয়েছো কী ভ্রমান্ডের দখল ?
কোথায় কোথায়, কোথায় খুঁজতে ? খুঁজতে খুঁজতে ? খুঁজলে কেনো ?
খুঁজতে কোন দেখা মিলে না যেমন কোন কিছুই হয় না তখন অন্য রকম... একই সুতোয় গাঁথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সেইতো একই সেজন ~ মাটির দেহের যোজন বিয়োজন জীবন মরণ ভূতের যুগের অধঃপতন ...
কি করি আমরা? এত রঙ এর রঙিন হয়েছি কি আদৌ আমরা? আমরা আদর বানাই ~ বানাই বেদনা ~ দৃষ্টির জীবন, এই আমরা তবে থাকবো কি করে দেহের ভেতর?
আমরা এক জায়গায় আবদ্ধ হবো কি করে ~ একই দেহের রং ওযে হরেক রকম নানান বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্য? কী কেমন ?
তখন আমরা তৈরি করলাম কোষ - কারাগারের বেশের কোষের থেকে তৈরি হলো একটু একটু করে ছোট্ট ছোট্ট অ্যামিবা। অ্যামিবা থেকে তৈরি হলো আস্তে আস্তে করে টরে উড়ে পুড়ে একটা মন রূপ দেহ , অনেক অনেক মাখলুকাত ~ আলোকছটার প্রত্যাঘাত ...
সেখান থেকে ঘোষিত করলে সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুকাত ও তার অজুহাত - সেটাই হলো তাঁর ?
বিবর্তনের সর্বশেষ যেই রক্তপিণ্ড সেই রক্ত পিণ্ডের ভাবনা পৃষ্ঠের প্রেক্ষাপঠের দেহের প্রক্ষাগৃহের অস্থিমজ্জার সময়ের সমন্বয়ে গঠিত অসাধারণ একটা বুদ্ধিমত্তা সত্য মানুষ রূপি মানবদেহ বোঝাপোরার চেতনার সত্য সত্যি সত্য স্বাশত স্বত্তা ~ বড্ড বেশ'ই সস্তা ( S.O.S.) থা ~ প্রতীক চিহ্নের কারিক্যচাল সকাল বিকেল সন্ধ্যা ~ আপোষের দ্বিধার ধাঁ ধাঁধা ~ বোধি চেত না ...
শান্ত বেশে মিলন শেষে শেষে শ্লেষের ক্লেষে মিথ্যে অথবা সত্যি হেসে তখন সেখানে এলো চেতনা, এ আলোর চেতনা দেখে তখন থেকে জন্ম থেকে কাঁদছে প্রত্যেক প্রাণ শিশু অস্থিত্বের বেদনা...।
তখন আলো গুলোকে এক জায়গায় করে বন্দি তৈরি করল শরীর বয়সের কাঠামোতে সামনে বিবেক আদালতের কাঠগড়ায় , আঁধার ক্ষেতের ইথারিক জোছোনা ...
মাটির মাঝে মিশে মিশে রেষারেষির পলকের ফাঁকে এঁকে দিলাম একটু একটু করে জগতের মাঝে নতুন ইলেকট্রিক ( Trick ) আলোর সাথে হলো সন্ধি, রক্ত মাংস দেহের কোষের সাথে হলো যুক্তির নিষিদ্ধ শুদ্ধির শুদ্ধুতার দেখা পাওয়ার চুক্তি, এবার বোধহয়য় ......
তারপরে হলো কত রকম যোজন বিয়োজন, কত চিন্তা কত ভাবনা—কি করে আটকে থাকি এই দেহের মাঝের আমি!
তারপর আমিই ডাকলাম, "এই সাদা এখানে আসো, এই কালো এখানে এসো, সবুজ এদিকে এদিকে বসো, হরিত এদিকে থামো"। তারপরের মোদ্যা কথা এইযে, একে একে করে নানা রকমের আমির রং চলে এলো আমার কাছে।
আমি থেকে তৈরি হলো আমার।
অতঃপর, আমিই তোমাদের নাম দিলাম তুমি।
তারপরে, আতুমিরা ~ একে একে আলোর সংঘর্ষে, সংস্পর্শে, আয়োজনে, ঘর্ষণে ধর্ষনের দ্রোহে মোহে স্পষ্ঠের স্পর্শে প্রতি তাড়নায় প্ররনায় হোলো তৈরি তোমাদের আমাদের দর্শন এর ( না ) তবুও আকর্ষণ করা শুরু করলাম, একে একে করে প্রতিটি আবেগের নাম দিলাম কনটা দুঃখ, কনটা আনন্দ, কনটা বেদনা, কনটা উচ্ছ্বাস, কনটা উদ্দীপনা, কতোটা আয়োজন ( কি অপচয় আহ ... ) কনটা উল্লাস, কনটা আবেগ, কনটা বিবেগ কোনটা কোনটার বোধে বাঁধা পরে থেকে থেকে টিকে ঠেকে থেকে থাকার ছলে জমতে থাকে জগতের ঘনঘটার মেঘ ~ প্রহরী শব্দদল হলো তৈরি হোলো রোদ থেকে ক্রোধের আরশ তৈঁরী বসলাম যেখানে সেটাই পাকস্থলী ... বায়ুর বাতাস হলো জোটের অংশ , আলোর যাত্রা পথের পথযাত্রী সেজে যেচে শব্দ করলাম জব্দ ~ আর, আড়ৎদার বুঝি বিমুগ্ধ, ঠকল স্বাশত সংসারের শুদ্ধ সত্যির সত্য...
তখন এক আলো অন্য আলোর সাথে করল গোপন অভিসন্ধি। দেহ কাঠামোর মাঝে সাত চক্রে বাঁধা, চক্রের চক্রান্তে চরকা কাটার অন্ধ কারখানার পথ যাত্রার শুরু, শূন্য থেকে শুরু আবার শূন্যতেই ফিরল —মাঝে হলো সংখ্যার তত্ত্বের উৎপত্তির পথযাত্রার প্রারম্ভের প্রারম্ভ মাত্র সংগীতের তিন মাত্রার হিসেবের ত্রিমাত্রিক দৈবের সৃষ্টি।
তখন আলো আলারা ভাবলো, "আমরা তাহলে দেখব কিভাবে? আমাদের একটা চক্ষু লাগবে।" তখন আমি সবাইকে বললাম, " যেই সব দেহ আছে সেই সব দেহের ভেতর আসলে সবই দৃষ্টির নির্ধারিত ইন্দ্রিয়"। এই সব দেহটারই পাঁচ ইন্দ্রিয়ের এটম, ফোটন, মলিকিউল, পার্টিকেলস সবকিছু যুক্ত হলে একটু একটু করে আলোক ছটার উপস্থিতিতে তৈরি হলো আলোর দৃষ্টির।
সাত চক্রের পাঁচ ইন্দ্রিয়ের সাত সমুদ্রের তেরো নদীর দেহতত্বের লুকায়িত তথ্য যত্রতত্র ...
কোষের মাঝে তার রইল, সৃষ্টি রয়ে টিকয়ে রাখল মগজের নাবিক আমার সন্ধি, তোমার অনুপস্থিতি তখন কোথায় ? এইতো বিস্তৃতি। বিস্তৃত বিস্তৃতির। আমির তুমির শেশাত্মক উক্তি ~ ষষ্ঠ ইন্দ্রের কারসাজি ...
স্থিতি ও অস্থিরতার রীতিনীতির কত শত নিয়ম কানুন আইন করে করে আমরা আটকে থাকতে চাইলাম শরীরের ভেতরটার মাঝে। তখন কে যেন গেল ক্ষেপে। সে বলল, "না, এ তো হতে পারে না। তোমাদের মুক্ত হতে হবে, যেখান থেকে আসেছ সেখানেই ফিরতে হবে, সেটা প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য প্রতিশ্রুতির।"
আলোর শরীর তাই এখনো জানতে থাকে।
উপস্থিতি।