আমাদের চেনা পৃথিবীর সমান্তরালে আরেকটি সম্পূর্ণ আলাদা সমাজ লুকিয়ে রয়েছে, যাকে বলা চলে ‘যান্ত্রিক কৃত্রিমতার নগরী’। এই সমাজে কোনো সূর্য বা চাঁদের আলো নেই; আকাশ সবসময় কৃত্রিম নিয়ন আলোয় রাঙানো, আর মানুষের হৃদস্পন্দনও যেন পরিচালিত হয় কোনো অদৃশ্য কোডিং বা অ্যালগরিদমের নির্দেশে।
এই সমাজের সবচেয়ে অদ্ভুত নিয়ম হলো—এখানে কারও কোনো ব্যক্তিগত স্মৃতি বা অতীত থাকতে পারে না। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রত্যেক নাগরিককে একটি বিশেষ রাসায়নিক ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা আগের দিনের সমস্ত সুখ, দুঃখ, প্রেম কিংবা হতাশার স্মৃতি মুছে ফেলে। ফলে এখানকার মানুষগুলো দেখতে আস্ত মানুষের মতো হলেও ভেতরে তারা একেকটি অনুভূতিহীন পুতুল। তারা কেবল কাজ করে, খায় এবং ঘুমায়।
এই সমাজে নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে ব্যতিক্রম ছিল শুধু একজন—অর্ক। সে পুরোনো আমlর কিছু কাটা কাগজ, ধুলোবালি জমে থাকা কিছু জং ধরা ঘড়ি এবং মানুষের হাতের লেখা কিছু পুরোনো ডায়েরি নিজের ঘরের মেঝেতে লুকিয়ে রাখত। নিষিদ্ধ এই জিনিসগুলোর সংস্পর্শে আসার কারণে অর্কের স্মৃতিশক্তি পুরোপুরি মোছা যায়নি। সে মনে রাখতে পারত মানুষের চোখের জল, ভালোবাসার উষ্ণতা এবং হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা কষ্টের তীব্রতা।
একদিন সকালে অর্ক শহরের কেন্দ্রীয় গবেষণা কেন্দ্রের দেওয়ালের গায়ে ঝুলতে দেখল একটি নতুন ডিজিটাল নির্দেশিকা—"স্মৃতি সংরক্ষণ এবং অতীত রোমন্থন একটি রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ।"
অর্ক বুঝতে পারল, তার মতো আরও কেউ হয়তো এই যান্ত্রিক সমাজের খাঁচা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। সে নিজের বুকপকেটে লুকিয়ে রাখা পুরোনো এক টুকরো চিঠি শক্ত করে চেপে ধরল। সেই চিঠিতে কোনো এক অচেনা মানুষের হাতে লেখা ছিল: "যন্ত্র আমাদের শরীর চালাতে পারে, কিন্তু আমাদের কান্নাকে অস্বীকার করার ক্ষমতা পৃথিবীর কোনো অ্যালগরিদমের নেই।"
নিয়ন আলোর সেই ঠান্ডা ও নির্মম শহরের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে অর্ক সিদ্ধান্ত নিল, সে আর এই অনুভূতিহীন পুতুলের জীবন মেনে নেবে না। সে এবার সেই গোপন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর খোঁজ শুরু করবে, যারা এই কৃত্রিম সমাজের অন্তরালে মানুষের আসল আত্মাকে ফিরিয়ে আনার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে
...