ইতিহাসবিদ এডমন্ড রিচার্ডসন তার লেখা ‘আলেকজান্ডার: গড, কিং, ম্যান’ বইটির জন্য ২০২৬ সালের বেইলি গিফোর্ড প্রাইজ জিতেছেন। গ্রিক বীর মহান আলেকজান্ডারের জীবন নিয়ে লেখা এই বইটির মাধ্যমে তিনি প্রাচীন ইতিহাসের ওপর রচিত কোনো বইয়ের জন্য এ পুরস্কার জয়ী প্রথম লেখক হলেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৫০ হাজার পাউন্ডের মর্যাদাবান এই পুরস্কার লাভ করেন রিচার্ডসন। তিনি ছয় জন লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে বিজয়ী হয়েছেন। এই তালিকায় পূর্বের বিজয়ী প্যাট্রিক র্যাডেন কিফের ‘লন্ডন ফলিং’ বইটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
‘আলেকজান্ডার: গড, কিং, ম্যান’ বইটিকে ‘ব্লকবাস্টার ইতিহাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিচারক প্যানেলের প্রধান কারস্টি ল্যাং। তার মতে, এই বইয়ে রয়েছে পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার মতো আখ্যানশৈলী। তিনি এটিকে প্রাচীন বিশ্ব নিয়ে রচিত একটি ‘চমৎকার সিনেমাটিক কাহিনি’ বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে গবেষণালব্ধ তথ্যের সুনিপুণ বিন্যাসের পাশাপাশি ফুটে উঠেছে অসাধারণ সাহিত্যিক দক্ষতা।
তিনি বলেছেন, 'নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোকে একত্রিত করে রিচার্ডসন এমন এক অসাধারণ নেতার কাহিনি তুলে ধরেছেন, যিনি প্রাচীন গ্রিস থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত এক সাম্রাজ্য জয় করেছিলেন।'
এই বইতে আলেকজান্ডারের জীবনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৬ অব্দে ২০ বছর বয়সে প্রায় দেউলিয়া এক রাজ্য ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এক সেনাবাহিনীর দায়িত্ব গ্রহণ করা থেকে শুরু করে পারস্য সাম্রাজ্য জয় এবং পরিশেষে ৩২ বছর বয়সে ব্যাবিলনে তার মৃত্যু পর্যন্ত সময়ের উত্থান-পতনের গল্প তুলে ধরেছেন রিচার্ডসন।
রিচার্ডসন এই বইয়ের জন্য চারটি মহাদেশ জুড়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা চালিয়েছেন এবং ১২টি প্রাচীন ভাষায় রচিত উৎসগুলোকে নিজে অনুবাদ করেছেন। এছাড়া তিনি সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোকেও বইটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আলেকজান্ডারের সমসাময়িক ব্যাবিলনীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নথিপত্র, যা সম্প্রতি পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, বেইলি গিফোর্ড যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক সাহিত্য পুরস্কার, যা ইংরেজি ভাষায় রচিত বিশ্বের সেরা ননফিকশন বইয়ের জন্য প্রদান করা হয়। ১৯৯৯ সালে স্যামুয়েল জনসন প্রাইজ নামে এটি চালু হয়। এরপর ২০১৬ সালে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বেইলি গিফোর্ড এই পুরস্কারের পৃষ্ঠপোষকতা করায় এটির নাম বেইলি গিফোর্ড প্রাইজ রাখা হয়। পুরস্কারটি চালু হওয়ার পর এই প্রথম প্রাচীন ইতিহাসের ওপর লেখা কোনো বই এ সম্মানজনক পুরস্কারটি জিতল।