২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোয় রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ১২ হাজার বই নিষিদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংস্থা পেন আমেরিকা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
অক্টোবরের শুরুতে ‘ব্যানড ইন দ্য ইউএসএ’ নামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পেন আমেরিকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ১১ হাজার ৯৮২টি বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০২১ সালে পেন আমেরিকা যখন স্কুল পর্যায়ে সেন্সরশিপের ওপর নজর রাখা শুরু করেছে, তখন থেকে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এবং ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই রাজ্য দুটিতে বইয়ের উপর কড়াকড়ি আরোপ করে আইন করা হয়েছে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় লেখক স্টিফেন কিং। তার বই ৩১২ বার নিষিদ্ধের মুখে পড়েছে। এরপরই রয়েছেন তরুণ কথাসাহিত্যিক এলেন হপকিন্স। তার বই ২৩৪ বার সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এদিকে সবচেয়ে বেশিবার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া একক বইটি ছিল প্যাট্রিসিয়া ম্যাককর্মিকের ‘সোল্ড: দ্য ফিকশনাল স্টোরি অব আ টিনেজ ট্র্যাফিকিং ভিকটিম’। ২০০৬ সালে প্রকাশিত উপন্যাসটি ভারতে যৌন দাসত্বে বিক্রি হয়ে যাওয়া এক মেয়েকে নিয়ে লেখা হয়েছে। বইটি ২৫ বার সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন আমেরিকা।
প্রতিবেদনটিতে স্কুলে বই নিষিদ্ধ করার প্রবণতা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে সুসংগঠিত চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান আইন প্রণয়নকে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অনেক স্কুল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে লাইব্রেরির বই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অডিট করছে এবং আংশিক প্রমাণের ভিত্তিতে একসঙ্গে অনেক বই সরিয়ে ফেলছে। মূলত বর্ণবাদ, যৌনতা ও লিঙ্গপরিচয় এবং সহিংসতাভিত্তিক বইগুলোই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ছে।
পেন আমেরিকার ‘ফ্রিডম টু রিড’ কর্মসূচির পরিচালক ক্যাসি মিহান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সব বয়সী মানুষের মধ্যেই যখন পড়ার প্রবণতা কমে আসছে, তখন জনপ্রিয় বই নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগের বিষয়। শিশুদের আকর্ষণীয় গল্প ও বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পড়ার অভ্যাসের সাথে যুক্ত করার জন্য স্কুলগুলোর সম্ভাব্য সবকিছু করা উচিত। অথচ অনেক স্কুল এর ঠিক উল্টোটা করছে। তারা এমন সব বই নিষিদ্ধ করছে, যা শিশুদের সাহিত্যের আয়নায় নিজেদের খুঁজে পেতে, অন্যদের প্রতি তাদের বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করতে এবং তাদের কল্পনাশক্তি বিকাশে সহায়তা করে।'