আমি যে মেয়েটিকে ভালোবাসবো বলে ঠিক করেছি
সম্ভবত সে এখন অমাবস্যার আকাশে তারা খুঁজে বেড়াচ্ছে।
হয়তো চোখের ওপর গোল ফ্রেমের চশমাটা আরেকটু এঁটে নিচ্ছে।
হয়তো ভাবছে চাঁদ-তারা ছাড়াও আবার রাত হয় নাকি ?
আমি যাকে ভালোবাসবো ঠিক করেছি
সে তার চিবুকখানি বাম হাতের তালুতে ঢেলে ফেলে রেখেছে।
তার ডান হাতের পাশে একটা নীল রঙের চা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।
কিন্তু তবু সে কাপটার গায়ে আলতো করে চুমু এঁকে দেয়নি।
যে মেয়েটিকে আমি ভালোবাসবো
তার চুলের ওপর দুলে ওঠে কৃষ্ণ সাগরের ঢেউ।
কানের পিঠে একটি কুঞ্জলতা রক্তের মতো গড়িয়ে পড়ে।
ঠোঁটের নিচে একটি তিল কড়া পাহারায় জেগে থাকে সারা রাত।
আমি যাকে ভালোবাসবো
সে তার ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখে কবিতা।
বইয়ের তাকে গুছিয়ে রাখে এক একটি বিশ্বলোক।
তার ঘরের দেয়াল- গোটা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ক্যানভাস।
যাকে আমি ভালোবাসবো ঠিক করেছি
সেই মেয়েটি অবাক চোখে আকাশ দেখে,
পাখি দেখে, নদী দেখে; বাতাস ছুঁয়ে আনন্দ পায়।
ছাদের জলে পা ডুবিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়।
আমি যাকে ভালোবাসবো ঠিক করেছি
সে তার চোখের মধ্যে আটকে রাখে ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত বিষন্নতা।
সমস্ত আঁধার শুষে নিয়ে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে দেয় অসামান্য দ্যুতি।
এর পরেও তার চাহনি কি অদ্ভুত শান্তির পায়রার মতো সাদা
আসিফুল হক
৮ নভেম্বর ২০২৬ || পাবনা