এক
বই পড়া মূলত মানুষের প্রিয় শখগুলোর একটি। বেশিরভাগ মানুষ পাঠ্য বই পড়ে বাধ্য হয়ে আর অ-পাঠ্য বই পড়ে শখের বশে। পাঠ্যবই মানুষকে লালসা দেখায় ভবিষ্যতে অর্থপ্রাপ্তির বা চাকরি প্রাপ্তির আর অ-পাঠ্য (পাঠ্য বহির্ভূত) বই মানুষকে দেয় নির্মল আনন্দ, কখনো কখনো দেয় বেদনা। তবে, সাহিত্য জগতে যার নাম আনন্দ, প্রমথ চৌধুরীর মতে, তার নামই বেদনা।
শখ হিসেবে বই পড়াটা একটা অভিজাত ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। কেউ যদি বলে আমার শখ বাগান করা, সে যতটা জাতে উঠে, আর সে যদি বলে আমার শখ বইপড়া, সে সম্ভবত আরেকটু বেশি জাতে ওঠে। এজন্যই অনেক চাকরি প্রত্যাশী মৌখিক পরীক্ষায় শখ হিসেবে ‘বইপড়া’ কথাটা বলতে গর্ব বোধ করেন। অন্যরাও, অন্য জায়গায়ও। তবে, আমার কাছে মনে হয়, বইপড়া যতটা না শখের কাজ তার চেয়ে বেশি হল আত্ম-আবিষ্কারের কাজ, আত্ম-বিনির্মাণের কাজ। শখের বশে বই পড়ে কেউ আনন্দ পেতে পারে, তবে বইপড়া শখটি তখনই মূল্যবান হয়ে ওঠে যখন এই শখ কাউকে আত্ম-আবিষ্কার বা আত্ম-বিনির্মাণের পথে নিয়ে যায়।
দুই
কেউ যখন আমার কাছে পরামর্শ চায়, “আমার প্রিয় একজন মানুষকে একটা বই উপহার দিতে চাই। কি বই দিবো, বলেন তো?”, তখন প্রশ্নকর্তার বোকামি দেখে আমার কাছে অবাক লাগে। আমার অপরিচিত একজন ব্যক্তি কি ধরনের বই পছন্দ করেন অথবা বইপড়া আদৌ পছন্দ করেন কি না, সে সব না জেনেই কিভাবে বলা সম্ভব যে তাকে ‘অমুক’ বইটি দিন। যে ব্যক্তি বইপড়া পছন্দ করেন না, ক্রিকেট খেলা পছন্দ করেন, তাকে বই না দিয়ে টেনিস বল বা ব্যাট দিলে খুশি হবেন- সেটাই স্বাভাবিক নয় কি? আপনি তাকে মহামূল্যবান ‘ওয়ার এন্ড পিস’ বই হাজার টাকা দিয়ে কিনে উপহার দিয়ে লাভ কি? সে তো তা স্পর্শ করেও দেখবে না। আর স্পর্শে করলেও টলস্টয়ের বাতুলতা (Verbosity) তাকে বিরক্ত করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবে না। হয়তো বছর খানিক পর এই বই সে কেজি দরে বিক্রি করেও বেশ ভালো টাকা পেতে পারে। তাই একজন ব্যক্তি সম্পর্কে ভাল ধারণা না থাকলে তাকে বই উপহার দেয়া মুশকিল।
তিন
মানুষ কেন বই পড়ে?- এই প্রশ্নের উত্তর ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হবে সেটাই স্বাভাবিক। বইপড়া কারো কাছে শখ, কারো কাছে প্রেম, কারো কাছে নেশা। তবে, লেখক শ্রেণির কাছে, সেটা পেশা বা পেশার অংশ। একেবারে শখের বশে যারা বই পড়েন, তাদের বেশির ভাগই উপন্যাস বা কবিতা পড়তে ভালোবাসেন। যারা একাকিত্ব ভালবাসেন, তারা বইয়ের সাথে প্রেম করেন, বইয়ের লেখকের সাথে কল্পনায় ডেট-এ যান, মাঝে মাঝে নিজেকে বইয়ের চরিত্রের মত সাজিয়ে তুলেন। এ কারণেই আমরা দেখেছি, হুমায়ন আহমেদের বইয়ের হিমু, পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে সন্ধ্যা-রাতে ঢাকার রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে, বইপড়া যখন কারো নেশা হয়ে ওঠে, তখন তা অন্য যে কোন নেশার চেয়ে ভয়ঙ্কর। এই ধরণের ‘বইখোর’রা জগত-সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারা বই-আসক্ত হয়ে বইয়ের জঙ্গলে বা গ্রন্থাগারের সন্ধানে যাযাবরের মত ঘুরতে থাকেন। আরেক শ্রেণির মানুষ আছেন যারা অমরত্ব লাভের আশায় বই পড়েন। আপনার লিখিত একটি ভাল বই পৃথিবীতে থাকার অর্থ হল কেয়ামতের আগ পর্যন্ত আপনার নাম সক্রেটিস, প্লেটো আর এরিস্টটলের মত পৃথিবীতে রয়ে যাওয়া। তাই, এ ধরনের পাঠকেরা লেখক হয়ে উঠতে চান। তারা সব ধরনের বই কিনে, ধার করে, চুরি করে, পড়তে পছন্দ করেন। এ কথা সত্য, আপনি ভালো শ্রোতা না হলে যেমন ভালো বক্তা হতে পারবেন না, তেমনি, ভালো পাঠক না হলে ভালো লেখক হতে পারবেন না। তবে, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যদি বলি, কিছু মানুষ শুধু অর্থ উপার্জনের জন্যই লিখেন আর সে কারণে পড়েন বা না পড়েই শুধু লিখেন, সেটাও মিথ্যে নয়।
চার
আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, আমি কেন বই পড়ি? সে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য আমাকে আমার জীবনের একটু পিছনে চলে যেতে হবে। আমি দশম শ্রেণির আগে পাঠ্য বইয়ের বাইরে তেমন কোন বই পড়িনি। শ্রেণিতে প্রথম হওয়াটাই ছিল আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। হ্যা, এটাও সত্য দুই-একটা বই হয়তো হাতের কাছে পেয়ে একটানে পড়ে ফেলেছি। যেমন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতে ‘দেবদাস’ বইটি সামনে পেয়ে এক বসায় পড়ে ফেলি। পড়তে পড়তে এক পর্যায়ে আমার কন্ঠ শক্ত হয়ে আসে, চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। এই প্রথম আমাকে কোন বই বেদনা উপহার দিল। এরপর, হুমায়ন আহমেদের কয়েকটা বই পড়েছি।
ঢাকা কলেজে পড়ার সময় হুমায়ূন আজাদের ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ বইটা পড়তে গিয়ে বইয়ের প্রতি আমার তীব্র ঘৃণা সৃষ্টি হয়। এই বইয়ের ভাষা আমার সাদা মনে কলঙ্কের দাগ লাগিয়ে দেয়। আমার পবিত্র মনের কুমারত্ব নষ্ট করে। বইকে আমি পবিত্র ও ভাল জিনিস মনে করতাম। কিন্তু, বইয়ের ভাষা এতো জঘন্য আর নিম্নমানের হতে পারে তা আমি কখনোই ভাবিনি। এরপর, অন্তত দুই আড়াই বছর আর বই পড়ি নাই। তবে, এটাও সত্য হুমায়ূন আজাদ একজন প্রতিশ্রুতিশীল ভাষাবিদ ও মননশীল সাহিত্যক ছিলেন। সেটা বুঝতে আমাকে আরো আট দশ বছর লেগেছিল। কারণ, ঐ ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’-এর ধাক্কায় আট-দশ বছর আর তাঁর বই হাতে নিইনি।
যাই হোক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ভার্সিটির ঠিক পাশেই বইমেলা বসার কারণে ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার সময় বিনা উদ্দেশ্যে হলেও বই মেলার ভেতরে যেতাম। এটা যদি আমার ভার্সিটির সামনে না হয়ে দূরে কোথাও হতো তাহলে হয়তো কষ্ট করে আর যেতাম না। বিনা উদ্দেশ্যে বইমেলায় ঘুরতে ঘুরতে একদিন সাহস করে ‘যদ্যপি আমার গুরু’ বইটি কিনে ফেলি। হাটতে হাটতে বইটা সামনে পড়ায় আর মূল্য কম হওয়ায় বইটা কিনেছিলাম। সামনে না পড়লে হয়তো খুঁজে বের করে কিনতাম না। এই বই পড়ে আমি মুগ্ধ হই, এক কথায় আহমদ ছফার ভক্ত বনে যাই। সাথে সাথে বই যে খারাপ জিনিস, সে ভুল ধারণা আমার ভাঙ্গে। সব বই খারাপ নয়, কিছু বই অবশ্যই ভাল এবং সেখানে চিন্তার খোরাক আছে। এরপর, একই লেখকের ‘গাভী বৃত্তান্ত” বই পড়তে পড়তে আমার চিন্তার জগত পরিপক্ক হতে শুরু করে আর বইয়ের জগত ও বাস্তব জগত যে আলাদা কিছু না, তাই মনে হতে থাকে। যেহেতু, ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলাম, দু-চারটা ইংরেজি উপন্যাসও পড়া হয়ে গিয়েছিল ইত্যবসরে। সাহিত্যের ছাত্র হয়ে মাত্র দু-চারটা উপন্যাস পড়েছি কারণ, যে উপন্যাস আমার ভাল লাগতো না, সেটা থেকে পরীক্ষায় যতই প্রশ্ন আসুক না কেন, আমি পড়তাম না। এই কাজ তখনো হয়নি, এখনো হয় না। ‘গালিভার’স ট্রাভেলস’ পড়িয়েছিলেন ড ফকরুল আলম স্যার। কি সূক্ষ, কি তীক্ষ্ণ, কি কঠিন আর নির্মম এক স্যাটায়ার। যতবার পড়ি ততবারই নতুন নতুন মুগ্ধতা আমায় বিস্মিত করে। এই উপন্যাসটির ইংরেজি মূলপাঠ আমার পছন্দের শীর্ষে এখনো। তবে, ছাত্র থাকার সময়, ‘টেস’ যে আনন্দ নিয়ে পড়েছিলাম তাতে ঘাটতি রয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার পরে পড়ানোর জন্য আবার জন্য ‘টেস’কে পেলাম, এবার হাত পা মুচড়িয়ে পড়লাম। কি অসাধারণ সৃষ্টি! অবাক না হয়ে পারা যায় না।
ইংরেজি সাহিত্য পড়ে বইপড়ার প্রতি যে প্রেম সৃষ্টি হয়েছিল তা বুকে রয়ে গেল, কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর প্রেমিকা পরিবর্তন হল। ইংরেজি উপন্যাসের পরিবর্তে বাংলা উপন্যাস পড়া শুরু করলাম। কবিতার চেয়ে উপন্যাস আমার কাছে বেশি পছন্দের। বাংলা সাহিতের সেরা উপন্যাসগুলোর একটা তালিকা করলাম এবং পড়া শুরু করলাম। ছাত্রজীবনে অর্থ সংকটের কারণে বইমেলায় ঘুরাঘুরি করলেও বই খুব একটা কিনতে পারতাম না। ঐ ‘যদ্যপি আমার গুরু’ আর ‘গাভী বৃত্তান্ত’ পর্যন্তই ছিল আমার দৌড়। যখন শিক্ষক হলাম, মাস শেষে মোটামুটি ভাল একটা অর্থ হাতে আসা শুরু হল। ছাত্রজীবনে দমিত যে স্বপ্ন তা এবার মাথাচারা দিয়ে উঠলো। শিক্ষকতা শুরুর প্রথম পাঁচ বছরে বাংলা সাহিত্যের প্রায় সকল বিখ্যাত উপন্যাস পড়ে শেষ করলাম। শরতের ‘শ্রীকান্ত’, ‘পথের দাবী’, আর রবি ঠাকুরের ‘গোরা’, ‘চোখের বালি’, ‘শেষের কবিতা’ থেকে শুরু করে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘চিলে কোঠার সেপাই’ আর ‘খোয়াবনামা’ পর্যন্ত সব পড়লাম, আর মাঝখানে ‘ছফা সমগ্র’।
আমার পঠিত লেখকদের মধ্যে, স্বাধীনতাত্তোর সময়ে আহমদ ছফাকে বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন লেখকদের মধ্যে সেরা বলে মনে হয়েছে, আর যদি সেরা ঔপন্যাসিক বলতে হয় তিনি হলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। আহমদ ছফা সমগ্র যখন পড়তে শুরু করলাম, ‘গাভী বৃত্তান্ত’ এর বাইরে গিয়ে এক দুর্ধর্ষ প্রাবন্ধিক ছফাকে আবিষ্কার করলাম। তাঁর প্রবন্ধগুলো যখন পড়া শুরু করি তখন আমাদের সাহিত্যের, সমাজের, ধর্মের, মানুষের, লেখকদের বুদ্ধিবৃত্তিক শূন্যস্থানগুলো একে একে সামনে আসতে থাকে। একজন আহমদ ছফা ভক্ত হিসেবেই নয়, বরং একজন পেশায় শিক্ষক, নেশায় পাঠক হিসেবে বলতে পারি, আমাদের শিকড় বা মূল থেকে আমাদের সাহিত্য, সমাজ, ধর্ম, বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা- এসব জিনিস আটলান্টিক মহাসাগর আর ভূ-মধ্যসাগরের স্রোতে ভেসে গেছে অনেক আগেই। সেই মূলে ফিরে যাওয়ার কোন চেষ্টা আমাদের দেশের কোন লেখক করেন-ই-নি, বরং উল্টো স্রোতে সাতার কেটে সফলতা খুঁজেছেন অনেকে।
সে অনেক গভীরের বিষয়। আমি এখনো শিক্ষক, এখনো পড়াই এবং এখনো ছাত্র, এখনো পড়ি। আমি বই পড়ি মূলত, আত্ম-আবিষ্কারকের জন্য, আত্ম-বিনির্মাণের জন্য। আমার জীবনের প্রকৃত দর্শন কি হওয়া উচিৎ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার জন্যই আমি বই পড়ি। আমার স্কুল, আমার কলেজ, আমার বিশ্ববিদ্যালয়, কিছু মানুষের, কিছু সভ্যতার দ্বারা ঠিক করা দর্শন পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে আমার মধ্যে ইনজেক্ট করেছে। সেটা আপনাকেও করা হয়েছে। সবাইকে করা হয়েছে। পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে যে জীবন দর্শন আমার ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, একজন যুক্তিশীল মানুষ হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে সে জীবন দর্শন সঠিক নাকি ভুল তা যাচাই করার দরকার আছে। আমি বই পড়ি, আমার লালিত ও পালিত যে জীবনদর্শন তা সঠিকত্ব যাচাই করতে। আমার বিশ্বাস, যে বই আমাকে একটা জীবন দর্শনে অভ্যস্থ করে তুলেছে, সেই বই-ই একদিন আমাকে বলে দিবে তা সঠিক ছিল নাকি ভুল।
পাঁচ
বইপড়া নিয়ে আমার নিজস্ব একটা দর্শন আছে। আমি মনে করি বইপড়া আমাদের নিত্য-নৈমিত্তিক একটা কাজ হওয়া উচিৎ। আপনি যেমন, তিনবেলা খাবার খান, মুসলিম হলে পাঁচ বেলা ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, ঠিক তেমনি একবেলা বা দুইবেলা আপনাকে বই পড়তে হবে। সেটা খাবার আর প্রার্থনার মতই, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলবে। বই কেনার প্রশ্ন আসলেই অনেকে মনে করেন তা বাড়তি খরচ। মধ্যবিত্ত মানুষের সংসার চালাতে আজকাল হাজারো হিসেবে মেলাতে হয়। সেখানে বইকেনা বাড়তি খরচ মনে হবে সেটাই স্বাভাবিক।
তবে, বইপড়ার মত বইকেনা নিয়ে আমার দর্শন অন্যরকম। আমি ‘বই পড়ার মাসিক বিল” নামক প্রবন্ধে তা আলোচনা করেছি বলে এখানে বিস্তারিত আলোচনা না করে সংক্ষেপে বলছি, প্রতি মাসে আপনার বাসা ভাড়ার যেমন একটা বিল থাকে, বিদ্যুতের যেমন একটা বিল থাকে, যা আপনাকে বাধ্যতামূলকভাবে দিতেই হয় ঠিক তেমনি প্রতি মাসে আপনার বই কেনার জন্যও একটা বিল থাকা উচিৎ যা আপনাকে বাধ্যতামূলক দিতেই হবে। আপনি যদি বিদ্যুতের বিল ১০০০ টাকা দেন, গ্যাসের বিল ১৫০০ টাকা দেন, তাহলে বইয়ের বিল বাবদ মাসে অন্তত ৫০০ টাকা দেন, না পারলে ৩০০ টাকা দেন। আপনি ইচ্ছে করলেই পারবেন। যদি তাতেও সমস্যা মনে হয়, তাহলে অন্তত ২০০ টাকা দিয়ে প্রতি মাসে একটা ভাল বই কিনেন, তবুও প্রতি মাসে অন্তত একটা বই আপনার বাসায় আসুক। বই আত্মার খাবার। তবে, এটা চাল-ডালের মত না যে একজন খেলে আর শেষ হয়ে গেল। একটা বই আপনার বাসার সবার আত্মার চাহিদার খোরাক যোগাবে। আদর্শ পিতা-মাতা হিসেবে মাসিক খরচে এটা রাখা উচিৎ। বইপড়া হচ্ছে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ আর তাই এটার ফলাফলও দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। শারীরিক পুষ্টির কথা ভেবে আপনি যখন চিন্তিত, তখন মানসিক পুষ্টির কথাটা একেবারেই ভুলে গেল হয় কি করে? মানুষ তো আসলে শুধু শরীর দিয়ে না, মন দিয়েই তো আসলে মানুষ হয়।
পরিশেষে এটাই বলতে চাই, বই পড়ুন। বই আপনার জীবন দর্শন ঠিক করে দিবে। আপনাকে আলোর পথে, সফলতার পথে নিয়ে যাবে। আপনার মনকে উদ্বেলিত করবে, আপনাকে শ্রেষ্ঠদের মাঝে নিয়ে বসিয়ে দিবে। সবশেষে বলি, বইপড়া একটা ভাল কাজ আর একটা ভাল কাজ কখনোই মূল্যহীন হতে পারে না।