১-
ধরা যাক, হ্যালুসিনেশনের মেয়েটির
কাল্পনিক নাম মেহেনাজ।
মেয়েটি আমাকে কপালে চুমু খেয়ে বুকের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে ধরেছিলো;
আমার মনে পড়ে গেল শৈশবের কথা;
আর অতিঅবশ্যই মক্তবের ঋনা।
ঋণা এভাবেই সিপারাকে চুমু খেয়ে
বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখতো।
আমাকে চুমু খেয়ে মেহেনাজ বললো—
কবি!
আমার কন্যারা আপনার মতো মায়াবী হোক!
২-
আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরার পর,
আমার কলবের সাথে কলঙ্কের মতো
সেঁটে গিয়েছে মেহেনাজ;
কিছুতেই আলাদা করা যাচ্ছে না তাকে।
নুকতাকে আলাদা করলে যেমন পালটে যায় আরবি হরফ;
যবর-যেরের হেরফেরে ঘটে বাক্যের মর্মার্থ বিভ্রাট।
গম্বুজ বিচ্ছিন্ন করে ফেললে মুছে যায় মসজিদ মন্দিরের ফারাক;
তাকে আলাদা করলেও আমি হয়ে যাই অর্থ ও পরিচয়হীন।
এসব দেখে ঠোঁটের কোণে চিরায়ত হাসি এঁকে মেহেনাজ বললো—
কবি!
আমার কন্যারা আপনার মতো মায়াবী হোক!
৩-
আমি ঘোরগ্রস্ত হয়ে দরসে যাই;
হাঁটু গেড়ে বসি সিয়াসিত্তার সামনে।
আমি পাঠ করি বুখারী, তিরমিজি, আবু দাউদ;
আমার কলবে কান পেতে শোনে মেহেনাজ।
শোনে মুগ্ধ হয়;
শ্রদ্ধায় নতজানু হয় প্রিয় হাবীবের বাণীর সামনে।
আর একই সুরে বলে—
কবি!
আমার কন্যারা আপনার মতো মায়াবী হোক!
৪-
আমি অজু করি; মসজিদে যাই;
নিয়ত করি নফল ইতেকাফের।
আমার কলবে চিরস্থায়ী ইতেকাফে বসে থাকে মেহেনাজ।
আমি তাকে কলবে নিয়ে নামাজে দাঁড়াই;
রবের অনুগত হই; রুকু করি;
ফলভার বৃক্ষের মতো কলবের ভারে
আমার মাথা অধিক ঝুঁকে যায় সেজদায়।
আমার কলবে চুমু খায় মেহেনাজ;
চুমুর শব্দে ছুটে যায় নামাজের খুশুখুজু।
মেহেনাজ হেসে উঠে। এবং বলে —
কবি!
আমার কন্যারা আপনার মতো মায়াবী হোক!
৫-
নামাজ শেষে আমি মুনাজাত করি;
মুনাজাতে তাকে চাই; রোনাজারি করি;
আমার চোখের জলে পাঞ্জাবি ভিজে যায়।
মুনকারনাকিরের লেখার খসখস শব্দে,
আমি বিচলিত হয়ে উঠি;
আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই।
আমি জানি না কার তাকদীরে লেখা হচ্ছে তার নাম;
আমি কাঁদি, আরো কাঁদি।
এসব দেখে তুমুল শব্দে হেসে উঠে মেহেনাজ বলে—
কবি!
আমার কন্যারা আপনার মতো মায়াবী হোক!
আমিও বিড়বিড় করে উচ্চারণ করি—
“কবরেও আমি তোমাকে কলবে নিয়া
আল আকসার মহান গম্বুজের মতো
মাথা ও মেরুদণ্ড উঁচু করে দাঁড়ায়ে থাকতে চাই মেহেনাজ।”