রাতের আকাশে হঠাৎ একটি উজ্জ্বল ধূমকেতু দেখা দিলে মানুষের মনে বিস্ময়, কৌতূহল এবং কখনো কখনো ভয়েরও জন্ম হয়। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ ধূমকেতুকে কখনো অশুভ সংকেত, কখনো রাজ্যের পতনের পূর্বাভাস, আবার কখনো দেবতাদের পাঠানো রহস্যময় বার্তা হিসেবে কল্পনা করেছে। প্রাচীন সভ্যতার মানুষ আকাশে দীর্ঘ আলোকিত লেজ নিয়ে ছুটে চলা এই বস্তুগুলোর প্রকৃত পরিচয় জানত না। তারা বুঝতে পারেনি, সেই উজ্জ্বল আলোর পেছনে রয়েছে বরফ, ধূলিকণা, পাথুরে পদার্থ এবং সূর্যের বিকিরণের সঙ্গে তাদের জটিল মিথস্ক্রিয়া। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান আমাদের জানিয়েছে, ধূমকেতু কোনো জ্বলন্ত নক্ষত্র নয় এবং তার লেজও আগুনের তৈরি নয়। বরং এটি সৌরজগতের জন্মের সময়কার অবশিষ্ট পদার্থ বহনকারী এক প্রাচীন মহাজাগতিক বস্তু। সূর্যের কাছাকাছি এলে তার জমাটবদ্ধ উপাদান থেকে গ্যাস ও ধূলিকণা নির্গত হয়, আর সূর্যালোক ও সৌরবায়ুর প্রভাবে তৈরি হয় তার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উজ্জ্বল আবরণ এবং দীর্ঘ লেজ। ধূমকেতুকে তাই সৌরজগতের অতীত থেকে আসা এক দূত বলা যায়, যে আমাদের সামনে তুলে ধরে গ্রহ গঠনের সময়কার রাসায়নিক উপাদান ও ভৌত প্রক্রিয়ার কিছু চিহ্ন।
Keep reading
You reached a premium chapter. Support এম মাহফুজ সরকার to read the rest of অধ্যায় ১৮ .
Conversation
(0)Log in to join the conversation.
No comments on this chapter yet.