FF.
একটি আদর্শ সুখের পরিকল্পনা Book page

Chapter 3

একটি আদর্শ সুখের পরিকল্পনা

May 21, 2024 1 min read
ধরা যাক আমার বন্ধু কাজী শাহ নেয়ামত উল্লাহ রাফি পরিকল্পনা করলো একটা পারফেক্ট ডে-অফ কাটাবে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের যান্ত্রিক জীবনে তার হ্যাপিনেস বলতে তেমন কিছু নাই। বেচারা সাপ্তাহে একটা দিনই পায় ছুটি। সেই দিনটাও মাঝেমধ্যে কাটা পড়ে প্রোডাকশনের চাপে। ধরা যাক আমার বন্ধু কাজী শাহ নেয়ামত উল্লাহ রাফি পরিকল্পনা করলো একটা পারফেক্ট ডে-অফ কাটাবে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের যান্ত্রিক জীবনে তার হ্যাপিনেস বলতে তেমন কিছু নাই। বেচারা সাপ্তাহে একটা দিনই পায় ছুটি। সেই দিনটাও মাঝেমধ্যে কাটা পড়ে প্রোডাকশনের চাপে। 

তো শুক্রবারে জন্য রাফির পরিকল্পনা খুব সহজ। বাসায় খেলা দেখা আর সাথে পিৎজা খাওয়া। চার বন্ধুকে নিয়ে প্রচুর আড্ডা দেওয়া। বিষয়টা চিন্তা করে এক সাপ্তাহ আগে থেকেই রাফি উত্তেজিত। বন্ধুদের নিয়ে হোয়াটস এপ গ্রুপ খোলা হয়েছে। এই গ্রুপে কাউন্টডাউন হচ্ছে। 

দেখতে দেখতে ছুটির দিন উপস্থিত। সকাল সকাল বন্ধুরাও চলে আসলো পরিকল্পনামাফিক। খেলা শুরু হতে কিছুক্ষণ বাকি। লার্জ সাইজের তিনটা পিৎজাও অর্ডার করা হয়ে গেছে অনলাইনে। দুরু দুরু বুকে রাফি অপেক্ষা করছে গরম গরম পিৎজা আসবে, সবাই মিলে খাবে এবং প্রচুর আড্ডা দেবে। খুব মজা হবে। এতো সস্তায় সুখ কেনা যায় ভেবে অবাকই হতে হয়!

অস্থিরভাবে বন্ধুরা অপেক্ষা করছে লোভনীয় পিৎজার। এপ বারবার রিফ্রেশ দিয়ে তারা দেখে নিচ্ছে রাইডারের অবস্থান। পিৎজা আর দশ মিনিটের দূরত্বে আছে। খেলা দেখা হবে, পিৎজা খাওয়া হবে, খুব মজা হবে। 
পাঠক ভয় পাবেন না আমাদের এই গল্পে তেমন কোন ক্লাইমেক্স নেই। সর্বোচ্চ ভালোই ঘটবে চিন্তা নাই। 

পিৎজা এসে গেছে। কাগজের ঢাকনা খুলতেই সুন্দর গন্ধে চারপাশ ভোরে গেলো। ক্ষুধাটা চাগিয়ে উঠলো সবার। এবার পিৎজা খাওয়া হবে। খুব মজা হবে। 

পিৎজার একটা স্লাইস তুলে নাকের কাছে ধরল রাফি। মুখে লালা এসে গেছে। এক সাপ্তাহের প্ল্যান অবশেষে পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে। এই পিৎজা মুখে যাওয়ার সাথে সাথেই আনন্দের সূচনা হবে।  সবাই একটা করে স্লাইস তুলে কামড় বসালো। খুবই মজার হয়েছে জিনিসটা। 

খাওয়া হচ্ছে। দ্রুত খাওয়া হচ্ছে। খুব মজা হচ্ছে। 

এবার দৃশ্যটাকে একটু গভীরভাবে দেখা যাক। এই ঘটনার ভবিষ্যৎ কি? যদি পর্যাপ্ত মজুদ না থাকে তাহলে আরও খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই যাবে। আর যদি মজুদ থাকে যথেষ্ট তাহলে খেতে খেতে একসময় এই মানুষগুলো পূর্ণ হয়ে যাবে। এরপর কোনমতেই তাকে আর খাওয়ানো যাবে না। এরপর যদি ঠেসে খাওয়ানো হয় ওরা প্রতিবাদ করবে। প্রবল আরাধ্য পিৎজার গন্ধে তখন বমি আসবে। অসহ্য লাগবে। এরপরেও যদি খাওয়ানো হয় তাহলে এক পর্যায়ে বমি করে দেবে সবাই। 

আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন সুখ শব্দটার সাথে জড়িয়ে আছে ক্ষণবাদ। সুখ কখনো অসীম সময়ের হতে পারে না। ক্ষণবাদ বুঝতে আমাদের যেতে হবে মহাবীরের জৈন দর্শনে। সে আলাপ সামনের কোনদিনের জন্য তোলা থাকলো।

Conversation

(0)

Log in to join the conversation.

No comments on this chapter yet.