বাংলা সাহিত্য

‘রৌজা’ গীতিকবিতা পর্ব (৭)

May 30, 2024

আযাহা সুলতান

Original Author আযাহা সুলতান

579
View

৬১ 
প্রিয় তোমার প্রেমের হাটে 
সওদাগরি চাই করতে লাটে, 
ঘুরাও না আর দূরের মাঠে 
ভিড়তে দাও নাও তীর্থঘাটে॥

ক্লান্ত বন্ধু হয়েছি অধিক 
ঘুরতে ঘুরতে দিগবিদিক, 
দেখাও এবার পথ সঠিক 
চলতে পারি ঠিক বাটে॥

ছিলাম অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বে 
পাইনি কিছুই সন্ন্যাসব্রতে, 
জড়িয়ে সকল কাজকামেতে 
দেখছি শান্তি ভবের নাটে॥

ভুলিয়ে সব সংসারের মায়া 
কোথায় মিলে সুখের ছায়া, 
ঘরের কোণে যায় পাওয়া 
আত্মপ্রত্যয় থাকলে বটে॥ 
২৩ পৌষ, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত 

৬২ 
অঝরে নয়নে কাঁদছি মনে মনে 
এই যে প্রীতির সংসার আপনজনে, 
বেঁধেছি আজ এত মায়ার বাঁধনে 
চলে যাব কাল—রাখবে কি স্মরণে? 
অঝরে নয়নে কাঁদছি মনে মনে॥

এত হাসাহাসি আনন্দের উৎসব 
এত মাতামাতি আজকের কলরব, 
এত আড্ডাআড্ডি বান্ধবের সরব 
ভুলেও কি কবে কেউ নেবে মনে? 
অঝরে নয়নে কাঁদছি মনে মনে॥

না গো না—ভুলে যেতে পারি না, না 
ক্ষণাতিথির কিছুই হয় না আপনা, 
ভালোবাসা ভালোবাসি সব বর্ণবর্ণনা 
আড়াল হতেই ভুলে যাবে ক্ষণে! 
অঝরে নয়নে কাঁদছি মনে মনে॥ 
২৫ পৌষ, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত


৬৩ 
‘হায় হায়’ ‘চাই-ই চাই’ কেন বুঝি না, বুঝি না 
কীসের ঘরবাড়ি, ভাইবন্ধু, আপনজনা! 
আজ গেলে কাল পর 
কাল গেলে সব বিস্মর, 
চার দিনশেষে কারও মনে থাকবে না, থাকবে না। 
কীসের ঘরবাড়ি, ভাইবন্ধু, আপনজনা॥

স্ত্রী, সন্তানসন্ততি, মাতাপিতা আপন—কী আপন 
কতই স্নেহবন্ধনে বেঁধে রেখেছি সারাক্ষণ! 
রাজা আমি—কাল ভিক্ষুক 
একে একে ফিরাবে মুখ, 
পারের ঘাটে কেউ কারে চিনবে না, চিনবে না। 
কীসের ঘরবাড়ি, ভাইবন্ধু, আপনজনা॥ 
২৭ পৌষ, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত 

৬৪ 
কিছুই তো বুঝি নে আমি 
কেমনে ভালোবাসলে প্রাণের বন্ধুরে পাব আমি—
কিছুই তো বুঝি নে আমি॥

কেমনে কীভাবে ভালোবাসতে হয় 
আমার যে জানা নেই কোনো প্রণয়, 
আমি জানি নে গো কীসে হয় ভালোবাসা দামি—
কিছুই তো বুঝি নে আমি॥

কেমনে প্রিয় হয় প্রিয়ের 
আমি তো জানি না কীভাবে মিলে মন প্রেমিকের—
কেমনে প্রিয় হয় প্রিয়ের॥

নাজানি কেমনে পাই বন্ধুর দেখা 
কী অর্থ জীবনের বন্ধুরে অদেখা, 
জানি না কেমনে হতে পারি বন্ধুর প্রকৃত প্রেমী—
কিছুই তো বুঝি নে আমি॥ 
১১ মাঘ, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত


৬৫ 
প্রতিটি মুহূর্তে ভাবছি 
যেমনি হোক আজকে কাটছি। 
প্রতিটি মুহূর্তে ভাবছি 
নাজানি কী হবে কালকের গতি!।

প্রতিটি মুহূর্তের নানান বিশ্লেষণে 
ওঠে আসছে নানা তথ্য প্রতিক্ষণে, 
বিশ্বের রহস্য উন্মোচনে 
কেউ হতাশ—কেউ ঈশ্বরে বিশ্বাসী॥

অবাকমনে বলে দেখি, 
‘হায়’ ‘হায়’ ছাড়া করার আছে কী। 
সবাকমনে বলে দেখি, 
স্রষ্টা আছে চেষ্টা করলে দোষ কী!।

“যে যা বলে বলুক কানটা তো আছে 
অনেকে অনেক কিছু বলবে পাছে, 
ঘামালে বেশি মাথা নষ্ট যে” 
এই আস্থার মাঝে যারা—তারা নস্যি॥ 
৩০ মাঘ, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত


৬৬ 
ঈশ্বরে অস্বীকার—কে হে নিরীশ্বরবাদ 
তুমি কি গো নও সৃষ্টির সেরা আবাদ? 
দেখো তোমার অবয়বে 
চিহ্ন আছে কি না তবে, 
মানো না মানো সবখানে পরম হাত॥

এ মাটিতে—আকাশে-বাতাসে যত দর্শন 
অনুসন্ধান করো বন্ধু পেতে পারো নিদর্শন। 
সসীম হলে সসীম জ্ঞান 
অসীমে অসম্ভব সন্ধান, 
তিনি মহান—মানতে হবে অদ্বয়বাদ॥ 
১ ফাল্গুন, ১৪২৪—মানামা, আমিরাত


৬৭ 
জীবনে জীবন হোক সুন্দর মরণে মরণ 
আর কী আমি রেখে যাই স্মরণে স্মরণ। 
যদি হয় ভুল কোনো অপ্রতুল 
মরেও ঘুচবে না এ গণ্ডগোল, 
যত হোক ভালো মন্দরা ছাড়ে না পেছন। 
জীবনে জীবন হোক সুন্দর মরণে মরণ॥

নিজেরে নিজে কে দিতে পারে ফাঁকি 
নিজের মধ্যে যদি নিজে উপস্থিত থাকি। 
কেটে যায় জীবন ভালো করণে 
মন্দেক আঁচড়ে ধূলিসাৎ বনে, 
এমন কোনো কর্ম নয় জন্ম হয় বিস্মরণ। 
জীবনে জীবন হোক সুন্দর মরণে মরণ॥ 
১৬ আষাঢ়, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত


৬৮ 
তুমি ছাড়া দরদ কেউ বুঝে না 
এ জগৎ স্বার্থ বুঝে আপনা আপনা! 
ভাই বলি বন্ধু বলি 
স্বার্থের মাঝে সকলি, 
নিজের ভালো না হলে পা রাখে না। 
এ জগৎ স্বার্থ বুঝে আপনা আপনা॥

আমারে আমি সঁপতে পারে না সবে 
নিজের খেয়ে পরের জন্য কেন ভাবে! 
খুব কম জনে পারে 
হৃদয়ের মালিক হবারে, 
দেওয়ার অন্তর সকলেরি হয় না। 
এ জগৎ স্বার্থ বুঝে আপনা আপনা॥ 
২০ আষাঢ়, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত


৬৯ 
আমি শুনেছি—যত জেনেছি 
বুঝেছি অন্তরের অন্তরে, 
মানতে পারি নে তুমি নেই। 
আমি ঘুরেছি—যত দেখেছি 
চিনেছি যেসব অচেনারে, 
বলতে পারি তুমি জগজ্জুড়েই॥

পেয়েছি পেয়েছি তোমায় 
আনন্দ ও সুখ-দুঃখ-কান্নায়, 
তুমি যদি থাকো না জীবনে 
জীবনটা এত রঙের কেমনেই॥

আমি ভেবেছি—পথে নেমেছি 
নিয়েছি খবর নিয়মের, 
তুমি ছাড়া গতি নেই নিয়তির। 
আমি পড়েছি—সঙ্কটে গড়েছি 
খুঁজেছি পথ সমাধানের, 
তুমি আছ বলে কৃতিত্ব আমির॥

বলে বলুক-না কেউ চিন্তে ছাড়া 
ভাবে-না ভাবুক ভালো তারা, 
মন্দ যেন গ্রাসে না আমাকে 
আমায় বাঁচাও তুমি দ্বন্দ্ব থেকেই॥ 
২২ শ্রাবণ, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত


৭০ 
কে তুমি ভাই করছ না 
ঈশ্বরের আরাধনা? 
তোমার সাধনা ভুল। 
কে তুমি ভাই মানছ না 
প্রদর্শকের নির্দেশনা? 
তোমার রাস্তাও গোল॥

পাবে না পাবে না কোনো শান্তি 
হবে না হবে না কোনো সুগতি, 
নিয়তি ভালো করা যাবে না 
যতক্ষণ-না হৃদয়ে গণ্ডগোল—
তোমার সাধনা ভুল॥

সময় যদি চলে যায়—যায় 
হাসিঠাট্টা অবহেলায়, 
পেছন তো ফিরে আসবে না। 
মাঠের শেষপ্রান্তে এসে হায় 
খুঁজলে প্রথমে হারায়, 
তবে কি হবে আর পাওনা?।

বোঝার মাঝে রইলে বেবুঝ 
খোঁজার মাঝে না করি খোঁজ, 
জানাতে না রাখি সু-জানাশোনা 
বলে গেলে—ভুল শুধু ভুল—
তোমার রাস্তাও গোল॥ 
২৭ ভাদ্র, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত 

Comments

    Please login to post comment. Login