Post

‘রৌজা’ গীতিকবিতা পর্ব (৮)

June 3, 2024

Original Author আযাহা সুলতান

441 views

৭১ 
মন রে 
বলছি—শোনো তা হলে 
বোকা হয়ো না তুমি। 
তোমারে 
ভুলিয়ে রাখুক সকলে 
ভুলো না বন্ধুরে তুমি॥

যত হয়েছে সংসার আপন 
কাজে এসেছে কার? কখন? 
লেনদেন বাড়িয়ে ফিরেছে শূন্যে 
জগৎ হয়েছে কার ঠিকানা দামি? 
বোকা হয়ো না তুমি॥

অমনে 
যেতে হবে—রেখো স্মরণে 
কাজে আসবে না কোনোটি। 
জীবনে 
করেছ কী—সঙ্গী পাবে তারে 
জমা রইবে কামাই এতটি॥

হৃদয়ে মানুষ হলেও সবাই 
হৃদ্যিক বনা সকলের দায়, 
হতে পারো তো হৃদয়হৃদ্যে মানুষ 
তবেই তুমি সফল—একমাত্র নামি—
বোকা হয়ো না তুমি॥ 
৭ আশ্বিন, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত


৭২ 
পৃথিবীর এ রংতামাশা তবে 
কালকেও রইবে, 
রইবে অনন্তকাল 
আমি শুধু রইব না কাল।

কালকেও বাগানে ফুল ফুটবে 
কালকেও কাননে পাখিরা গাইবে, 
কালকেও হাসিমাতি এসব দিনরাত্রি 
চলছে চক্রটি—চলবে সমান্তরাল—
আমি শুধু রইব না কাল॥

আমি রহি বা না রহি 
ফরক পড়বে নাহি, 
কে কারে মনে রাখে—রাখবে 
আমার মতো কত আসবে-যাবে।

দুনিয়াটা আপনা আপনা ভাবনা 
আপনা আপনা বাঁচনে জল্পনা,
কল্পনা—কে কারে পিছে ফেলবে 
চলছে দৌড়—চলবে আগামী কাল—
আমি শুধু রইব না কাল॥ 
১৭ আশ্বিন, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত


৭৩ 
বিষয়টা আমাকে বড়বেশি ভাবায় 
রহস্যটা জানাবে কি বন্ধু আমায়? 
এরকম করলে কেন জীবনী 
দুনিয়ার জীবনধারা এমনি, 
কেউ হাসছে আর কেউ ভাসছে কান্নায়! 
রহস্যটা জানাবে কি বন্ধু আমায়?।

কারও ঘর নেই আর কারও সুবর্ণবাড়ি 
কার অশ্রুয় ভাসছে কারও প্রমোদতরী! 
অভাব-উপোসে কেউ মরছে 
কেউ ভোজনে হাওয়ায় ওড়ছে, 
কেউ কৃতজ্ঞতা ভুলছে শ্রম বিনে পায়! 
রহস্যটা জানাবে কি বন্ধু আমায়?। 
২২ আশ্বিন, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত


৭৪ 
আমার মনে এ আফসোস 
রয়ে গেল প্রিয়ে, 
নাই বলতে নাই আমার 
কোনো যোগ্যতাই গিয়ে!

না হতে পারলাম জ্ঞানীগুণী জন 
না করতে পারলাম কর্মশোভন, 
জন্ম নিতে পারিনি আমি 
কোনো সৌন্দর্য নিয়ে! 
আমার মনে এ আফসোস 
রয়ে গেল প্রিয়ে॥

তোমার মনে এ প্রশ্ন 
থাকতে পারে বন্ধু, 
কী হলাম বা না হলাম 
খেদ কেন শুধু?

মানুষ হয়েও কেউ কেউ রাড় 
মানুষ হওয়াটা বিরাট ব্যাপার, 
হতে পারলাম কি মানুষ? 
আছি বড় সংশয়ে। 
আমার মনে এ আফসোস 
রয়ে গেল প্রিয়ে॥ 
২২ আশ্বিন, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত


৭৫ 
করুণাময়! 
তোমার কারুণ্যে ডুবে আছি নিশ্চয়, 
নিশ্চয় তুমি দয়ালু—না, নেই সংশয় 
দয়াময়!

তুমি ‘হও’ বললেই হয়ে যায় তাহা 
তুমি ‘রও’ বললে থেমে যাবে জাহাঁ, 
তোমার হাতেই ভাঙাগড়ার বলয় 
দয়াময়! 
নিশ্চয় তুমি দয়ালু—না, নেই সংশয়॥

দরদবান! 
দরদের অশ্রু যারা নিভৃতে পিয়ে যান, 
তারা আর কত বাড়াবে ওপারের শান 
কৃপাবান!

“এখানে লাঞ্ছিত কারা—ওখানে সার্থক” 
বুভুক্ষু বুঝে না প্রভু ভালোমন্দের ফরক, 
উপোসির কাছে বেকার মঙ্গলজয় 
করুণাময়! 
তোমার কারুণ্যে ডুবে আছি নিশ্চয়॥ 
৩০ আশ্বিন, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত 

৭৬ 
প্রার্থক আমি তোমার বারে আল্লাহ 
করছি না নিজের ভালোর সুখকামনা। 
না করছি সন্তানের মঙ্গলপ্রার্থনা 
জগতে বজায় থাকুক শান্তিশৃঙ্খলা॥

রক্ষা কর—করো পৃথিবীর ক্ষয় 
ঘটছে—ঘটবে বিশাল বিপর্যয়, 
তুমি রক্ষক আছ বলে সান্ত¦না—
প্রার্থক আমি তোমার বারে আল্লাহ॥

আমার যেতে হবে—দিন বেশি নেই 
যাওয়ারই ডাক ভেসে আসছে কানে। 
মুমূর্ষুর দোয়া কবুল হয় কি জানি নে 
সুখী হোক—সুখী করো বাস্তুহারা সবেই॥

দেখি বিলীন হর পুরের পর পুর 
শুনি গভীর ঘুমে ভাঙনের সুর, 
সর্বহারাদের কী দরদভরা কান্না—
প্রার্থক আমি তোমার বারে আল্লাহ॥ 
৩ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত


৭৭ 
হায় প্রভু! হায় প্রভু! 
পৃথিবী আর কত—কী পরিমাণ নিঠুর হবু? 
হায় প্রভু! হায় প্রভু!

পিতার হাতে পুত্রের খুন 
পুত্রের হাতে পিতা! 
ভাইয়ের হাতে ভাইয়ের খুন 
স্বাভাবিক আজকের পৃথিবীটা! 
বাকি আর রইল কী তবু? 
হায় প্রভু! হায় প্রভু!।

আর কত! আর কত! 
হৃদয়হীনের প্রেমের বাজারে প্রেমিকের হত? 
আর কত! আর কত!

স্বামীর চক্রান্তে স্ত্রীর কতল 
স্ত্রীর চক্রান্তে স্বামী! 
প্রিয়ার চক্রান্তে প্রিয়ের কতল 
ছলনার হাটে মরছে প্রেমিকপ্রেমী! 
সাঙ্ঘাতিকতা আর বাড়বে কতটু? 
হায় প্রভু! হায় প্রভু!। 
৭ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত


৭৮ 
গেল রে গেল মনে হয় 
দিন বেশি রইল না! 
ফেলো রে ফেলো হে ভাই 
দুর্ভাগ্যের এ বেচাকেনা॥

ভেঙেচুরে এলে তুফান 
আমার যদি থাকে না স্থান, 
ভেবে দেখো তোমার অবস্থান 
অক্ষুণ্ন রইবে কি না। 
ফেলো রে ফেলো হে ভাই 
দুর্ভাগ্যের এ বেচাকেনা॥

অর্থের লোভে আত্মহারা 
কে ভাবছ শুধু স্বার্থ? 
“অতি লোভে তাঁতি নষ্ট” 
বুঝতে চাও কথাটার অর্থ॥

“বুদ্ধি হলে নয়েতে হয় 
না-বুদ্ধি নব্বইয়েও নয়” 
পুরানে পুরোনো কথা কয়? 
আজকে ভাবা যায় না? 
গেল রে গেল মনে হয় 
দিন বেশি রইল না॥ 
১১ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত


৭৯ 
বিবেকবান করো খোদা তাদের 
বিবেকহীন কাজ যারা করছে। 
স্থান কোথায় এর দেখাও এদের 
বেহেশতে যেতে নিজেও মরছে॥

জমেছে যে কী গ্লানির পাহাড় 
দেখাও তারে উপায় কী তার, 
জান্নাতের সুখ তো অনেক দূরের 
দোজখে হাবিয়া মরে তো কপটে॥

বোঝাও তারে—তাদের দরদ দিয়ে 
পরের দরদ বুঝে না যে—যারা। 
নিজের হারাও—কিছু না হারালে 
অন্যের দুঃখ বুঝবে না তারা॥

ধর্মের প্রতীকী বুকে আঁকি 
কর্ম যারা করছে অধার্মিকী, 
কেমন ধর্মের অনুসারী এরা? 
স্বার্থহাসিলে গানধর্মের গাইছে॥ 
১৩ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত 

৮০ 
মা, আমার কপালে লাগাও শুভ্রতিলক 
মনের সমস্ত কালিমা দূর হোক নিমেষে। 
মা, আমায় দোয়া করো দিব্য হোক চোখ 
সব সময় মনিবের পদছায়া দেখে সে॥

সারা জীবনের অন্ধমনের সন্দ আমার 
দ্বন্দ্ব ভুলে প্রভুর বন্দনে ঝুঁকুক এবার, 
তাঁকে ছাড়া যে গতি নেই বুঝুক মূর্খ 
সফল হওয়া যায় না কোনো ছদ্মবেশে। 
মা, আমার কপালে লাগাও শুভ্রতিলক 
মনের সমস্ত কালিমা দূর হোক নিমেষে॥

আমায় কী আশায় আশান্বিত করে মা 
কে জাগায় মনে—দেখা কেন সে দে না! 
বলো তবে কী আদবে নমিলে তাঁরে হাঁ 
পাওয়া যায় সে গোপন আশিকের ঠিকানা॥

আমি পেতে চাই না আলোর আকাশ 
যদি সেই সুবর্ণতায় না থাকে ওঁর বাস, 
বিদায়কালে এ আশ্বাসে মনে পাক সুখ 
ছিলেন তিনি সাথে, আছেন ভালোবেসে। 
মা, আমায় দোয়া করো দিব্য হোক চোখ 
সব সময় মনিবের পদছায়া দেখে সে॥ 
১৫ কার্তিক, ১৪২৫—মানামা, আমিরাত 

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login