Post

‘রৌজা’ গীতিকবিতা পর্ব (১১)

June 7, 2024

Original Author আযাহা সুলতান

464
View

১০১ 
কে তুমি হৃদয়বান? 
স্বর্গ পেতে করছ বান্ধবে আহ্বান? 
কর্ম তোমার মহান! 
ভালো, বন্ধু ভালো, 
গাঁট্টিগাঁঠুরিতে মুসাফির হলে হলো? 
বোঝা চাই নিষ্ঠাবান?।

তবে বুঝে আসে না কথাটি 
কোন স্রষ্টার তুমি প্রতিনিধি? 
আদেশ করছেন তোমায় বিধি? 
গুমরাহিকে পথ দেখান!।

ঠিক আছে যুক্তি! 
তুমি কি ভাবছ তুমিই সঠিক পথী? 
এতই কি সহজ মুক্তি? 
জীবনের এ বন্দেগি, 
বলতে পারে কে পাবে জিন্দেগি? 
মনে করি-না যতই শুদ্ধি!।

আমার কপালকালো এবাদত 
কর্মদোষে কিবা আমার আপদ! 
হয়তো আমিই পথভ্রষ্টদের অগ্রজ 
নরককুণ্ডে আগে স্থান!। 
৭ ফাল্গুন, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত


১০২ 
তোমার ভালোবাসা ছাড়া আছে কী 
জীবনে 
কিছুই খুঁজে পাই নে মনে মনে। 
তোমার প্রেমের কূলহারা—অকূল 
সাগরে 
ভেসে যেতে চায় মন বারেবারে॥

বন্ধু আমারে ভাসাও তোমার অপার 
ভালোবাসায় 
এই মন তোমার প্রেমে যাক-না হারায়, 
আমি ডুবতে চাই সীমানা হারিয়ে 
অসীমে। 
তোমার প্রেমের কূলহারা—অকূল 
সাগরে॥

আমি তো এখন আর আমার মধ্যেই 
নেই 
একেমন আশেক তুমি বানালে আমে। 
তোমারে কোথায় গেলে পাই—কওনা 
কেমনে? 
আমার তো কাটে না দিন তুমি বিনে॥

তুমি তুমি তুমি জপের জপছি মালা 
হরদম 
আমার একূল-ওকূল দুকূলের প্রিয়তম, 
আমি কি পাব না তোমাকে চাহার এ 
সসীমে? 
তোমার ভালোবাসা ছাড়া আছে কী 
জীবনে॥ 
২ চৈত্র, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত


১০৩ 
তোমাকে এমন করে 
কেন চাহে মন, 
জানি না জানি না 
জানে মন। 
আমাকে কেমন করে 
করলে তুমি পাগল, 
দিওয়ানা দিওয়ানা 
পলে পল॥

আমি কীভাবে বলি 
চাহাতের এ কথাগুলি, 
বলো-না বলো-না 
মনের পাগলামির কথা 
কেমনে করি বর্ণন? 
তোমাকে এমন করে 
কেন চাহে মন॥

আমার প্রাণের প্রিয়তম 
কোথায় আছ সখা? 
পাব কি পাব কি 
তোমার দেখা? 
যদিওবা আমার চাহনে 
নেই কোনো ধারা, 
দেবে কি দেবে কি 
এ প্রেমে ধরা?।

রবে মনে দুঃখ এই 
পেলে না বন্ধু তোমারে, 
যাবে না যাবে না 
না পাওয়ার বিরহব্যথা 
ভুলা যাবে না কখন! 
তোমাকে এমন করে 
কেন চাহে মন॥ 
১৮ চৈত্র, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত 
১০৪ 
এ-জীবনে চাইনি এজন্যে 
নাম ও সম্পদ! 
ও-জীবনে পাই না যদি 
ভালো কোনো পদ?

এ-জীবন আর ও-জীবনের মাঝে 
জানি না কী তার—কত পার্থক্য যে? 
তবু মনের প্রশান্তি এটাই বলে 
ক্ষণের শান্তি গলদ! 
এ-জীবনে চাইনি এজন্যে 
নাম ও সম্পদ॥

এখানে দিনেরাতে যে বা যারা 
বেয়েছে অশ্রুবারি! 
ওখানে নিশ্চিত সে ও তারা 
পিবে সুপেয় কাউসরি?

এখানে সুখের হাতে যারা প্রতিনিয়ত লুঠ 
ওখানে নিশ্চয়ই তাদের উপহার রাজমুকুট? 
দুঃখকুঁড়ের দুখীরা সেখানেই 
সুখে হারাবে হদ! 
এ-জীবনে চাইনি এজন্যে 
নাম ও সম্পদ॥ 
২২ চৈত্র, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত 

১০৫ 
চারি দিকে আমার আজ 
বইছে বিষম বাতাস! 
কি জানি আছি কয় দিন 
থাকব পৃথিবীর মাঝ।

আপন যাচ্ছে আপনে ছাড়ি 
সারা বিশ্বে আজ মহামারী! 
কার জন্যে কে কাঁদবে 
স্তব্ধ কান্নার আওয়াজ! 
চারি দিকে আমার আজ 
বইছে বিষম বাতাস॥

চলে যায় যাক-না ছেড়ে 
বিপদে ফেলে বান্ধবে! 
করব না আমি কখনো 
এতটু অবহেলা দায়িত্বে।

এবাদতে আছে যত-না পুণ্য 
তারচেয়ে প্রাণের সেবা গণ্য; 
কার আছে নসিবে করার 
ভালো একটুখানি কাজ! 
কি জানি আছি কয় দিন 
থাকব পৃথিবীর মাঝ॥ 
২৪ চৈত্র, ১৪২৬—মানামা, আমিরাত


১০৬ 
কোথায় তোমার লয়ের মাঝে মাটি? 
রোধ-রোধ-রোধ করে দাও রোধী। 
কোথায় তোমার লাঞ্ছিত সেই জাতি? 
ধন-ধন-ধন্য করো তাদের তুমি॥

কোথায় কারা হতভাগ্যে 
অশ্রেু ভাসছে প্রতিনিয়তে? 
কোথায় মানুষ নিরুপায়ে বিপথগামী? 
রক্ষ-রক্ষ-রক্ষা করো ওদের তুমি॥

কোথায় দেশে অবিচারের বিচারালয়? 
চুর-চুর-চুরমারে দাও ভেঙেচুরি। 
কোথায় ত্রাসের রাজত্বটা হচ্ছে বড়ই? 
ধ্বং-ধ্বং-ধ্বংস করো ধ্বংসকারী॥

কোথায় কোথায় পীড়াদায়ে 
ওঠছে দাসত্বেরই মহল গড়ে? 
কোথায় হচ্ছে—হবে মজলুমেতে জুলুমি? 
রুখ-রুখ-রুখে দাও সর্বনাশে তুমি॥ 
২ বৈশাখ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত


১০৭ 
তোমার অতি লাভের অই লোভলালসায় 
ঠকি আমি—ঠকতে রাজি আছি গো ভাই। 
আমায় ঠকাও হে নিঃসঙ্কোচে 
তুমি ঠকিয়ো না নিজেরে নিজে, 
জিতে নাও জীবন-বাজারের বেচাকেনায়॥

এখানে যত যাই-ই করে যাও হেরাফেরি 
ওখানে তত তাই-ই নিতে হবে দুহাত ভরি। 
হিসাবের হেরফেরে লাভবান 
মনে করা ভুল কেউ বুদ্ধিমান, 
পুড়ে সে—যে বিশ্বাসের ঘরে আগুন লাগায়॥ 
৫ বৈশাখ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত


১০৮ 
একদিন স্বপ্নে দেখছি 
ভিখারি হয়ে পথে পথে ঘুরছি, 
পাওয়ার লালসে মন বেদিশে ছুটছে না! 
আরেকদিন স্বপ্নে দেখছি 
রাজ্যের রাজা হয়ে বসেছি, 
পেতে পেতে পাওয়ার সাধ আর মিটছে না!।

পাহাড়পর্বত এককরে দৌড়ছি 
লোভে যত বাড়ল লাভের কারবার 
মনের মধ্যে কমলো তত শান্তির হার! 
‘সুখ’ ‘সুখ’ করে কত খুঁজছি 
সুখ যে গেল আর আর ফিরে এলো না!।

ঘুম ভেঙে ভাবছি এবার 
শান্তি যা কমের স্বপ্নে ছিল আমার, 
সুখ তা বড়ের স্বপ্নে হলো যুদ্ধের ময়দান! 
এবার পল এসেছে বলার 
কে কী বুঝেছ বন্ধু হে আমার? 
সুখের চেয়ে শান্তির কত কত ব্যবধান?।

কেমনে বোঝাই যা আমি বুঝেছি 
পেতে চাইবে যত বেশি সুখ 
বাড়বে ততই অশান্তির দুখ! 
বড় আশা বড় দুঃখ কেন বলছি? 
বড় বিপদে না পরলে কেউ বুঝবে না!। 
১১ বৈশাখ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত


১০৯ 
তোমাদের মাঝে এসেছিল 
পথিক এক পথহারা, 
পুরো দিন তোমাদের পাশে থেকে 
পেল না সাড়া! 
চলে গেল মুসাফির পথহারা॥

এসেছিল প্রেমের সওগাত নিয়ে 
ফিরে গেল গোপনে অশ্রু ঝরিয়ে! 
দরদে দরদে নিজের মনে নিজে 
পুড়ে হলো সারা—
চলে গেল মুসাফির পথহারা॥

এই শহরে আসেনি কিছু পেতে 
দিতে এসেছিল মগর, 
পাথেয় কি নিতে পারল কি জানি 
বহুদূরে আপন ঘর। 
ছিল বড়ই এক লম্বা সফর॥

ফিরে গেল পথিক নিজের ঘরে 
নিতে পারল কি কিছু উপহারে! 
আত্মসম্মানে কী যে ব্যাঘাত হবে 
শূন্য হাতে ফেরা— 
চলে গেল মুসাফির পথহারা॥ 
১৪ বৈশাখ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত 

১১০ 
শোনো হে প্রভু 
বান্দার এতটু ফরিয়াদ, 
বান্দা তোমার করছে মুনাজাত। 
ভুলেও যে কভু 
ডাকেনি তোমায়, 
জানি না সে কেমনে মুক্তি পায়! 
গুনাগার আজ 
তোমার দরবারে তুলেছে হাত। 
শোনো হে প্রভু 
বান্দার এতটু ফরিয়াদ॥

মাওলা ওগো হে 
হে মাওলা আমার, 
করো না আমারে কঠিনে পার। 
আল্লাহ আল্লাহ ওহে 
আল্লাহ রহিম-রহমান, 
জুখিয়ো না আমার বাঁ-মিজান। 
পথহারা আজ 
তওবায় ফিরে চাইছে নাজাত। 
শোনো হে প্রভু 
বান্দার এতটু ফরিয়াদ॥ 
১৭ বৈশাখ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত 

Comments

    Please login to post comment. Login