ছোট মেয়ে এলা। প্রকৃতির সঙ্গে তার ছিল এক অদ্ভুত সম্পর্ক । সে বনে, নদীতে খেলে বেড়াত, গাছপালা, প্রাণী সবকিছু যেন তার বন্ধু। এলা জানত, পৃথিবী এক জীবন্ত শ্বাস নেওয়ার স্থান—এটি শুধু একটি স্থান নয়, এর মধ্যে ছিল এক অদৃশ্য যাদু। বনের মধ্যে একা ঘুরতে ঘুরতে সে শিখে গিয়েছিল প্রকৃতির ভাষা, যেন কোনো রহস্যের দ্বার খুলে গেছে তার সামনে। গাছ, পাখি, নদী—সবই যেন তাকে কিছু বলছে। শরতে বনের বুনো আপেল গাছ থেকে আপেল সংগ্রহ করত, শীতে তুষারের মধ্যে খরগোশের পায়ের ছাপ অনুসরণ করত। সেই মুহূর্তগুলো তার কাছে ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান।
এক রাতে, যখন দূর আকাশে চাঁদ , দাদি তাকে গল্প শুনাচ্ছিলেন। দাদি বলেছিলেন, “যাদু কেবল রূপকথায় থাকেনা, প্রকৃতি নিজেই এক মায়াবী যাদু। ছোট্ট ছোট্ট জিনিসে আছে তার অমুল্য রূপ—বসন্তের প্রথম ফুল, জানুয়ারির তুষার। পৃথিবী আমাদের মায়ের মতো, তার যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
এলা সেই রাতে দাদির কথা শুনতে শুনতে গভীর ঘুমে হারিয়ে গিয়েছিল, তার মনে এক সুপ্ত আশা জেগেছিল -পৃথিবীকে সে একদিন বদলে ফেলবে, পৃথিবীও তাকে ভালোবাসবে তার মতো করে।
কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলা বুঝতে শুরু করল, পৃথিবী আর আগের মতো নেই। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ—এসব বিষয় কারোই অজানা ছিল না, তবুও মানুষ কিছুই করছে না। একে একে গাছপালা, পশুপাখি সব হারিয়ে যাচ্ছে। এলা কিভাবে বুঝিয়ে বলবে? সে তো তার চোখের সামনে দেখছে, সব কিছু কেমন নিঃশব্দে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
একদিন কলেজ থেকে ফিরতে গিয়ে এলা তার শৈশবকালের প্রিয় বনের সর্বশেষ শেষ ম্যাপেল গাছটিও উপড়ে পড়ে যেতে দেখল। তার হৃদয়টা দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে গেল। সেই গাছ ছিল তার জীবনের অংশ, তার শৈশবের বন্ধু। গাছটি কাটার শব্দ শুনে, সে বুঝতে পারে পৃথিবী কতটা বদলে গেছে। এলা তখন ভাবে, পৃথিবীর জন্য কিছু করার সময় এসেছে তার। সে প্রতিটি মানুষের কাছে যেতে চায়, তাদের বোঝাতে চায়, তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চায় এই বলে যে—"যদি আমরা পৃথিবীর জন্য আজ কিছু না করি, তবে পৃথিবীকে আর বাঁচানো যাবে না।
এলা শুরু করল লেখালেখি, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে। সে জানাতে চাইল, পৃথিবী কতটা মূল্যবান, আমাদের উচিত তার যত্ন নেওয়া। সে জানত, যদি এখন কিছু করা না হয়, তবে হয়তো পৃথিবী আর কখনও ফিরবে না। সে প্রতিজ্ঞা করল, যতদিন বাঁচবে, প্রকৃতির পাশে থাকবে।