Posts

প্রবন্ধ

প্যাশন ফল

January 31, 2026

MST. MOKARROMA SHILPY

37
View

প্যাশন ফল: বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন দিগন্ত

প্রকৃতির অগণিত ফলের ভিড়ে প্যাশন ফল এক অনন্য বিস্ময়। ছোট্ট, শক্ত খোসার ভেতরে লুকিয়ে থাকে অম্ল-মিষ্ট স্বাদের এক ভিন্ন জগৎ—যার প্রতিটি বীজে আছে পুষ্টি, প্রতিরোধ আর সম্ভাবনা। একসময় দক্ষিণ আমেরিকার পাহাড়ি উপত্যকা থেকে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই ফল এখন ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশের কৃষি মানচিত্রেও।

বর্তমান বিশ্বে ভোক্তারা যখন স্বাস্থ্যসম্মত, উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও ফাংশনাল ফুডের দিকে ঝুঁকছে, তখন প্যাশন ফল হয়ে উঠছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক। এর রস, বীজ ও খোসা—তিনটি অংশই শিল্পোৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য; একে তাই বলা হয় “সম্পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য ফল” (Zero-Waste Fruit)। পুষ্টিতে ভরপুর এ ফল শুধু শরীরের জন্য নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও আশাব্যঞ্জক এক দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
 

উৎপত্তি ও বিস্তার 

প্যাশন ফল (Passiflora edulis) একটি উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় ফল, যা তার অনন্য স্বাদ, সুবাস এবং পুষ্টিগুণের জন্য বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এটি Passifloraceae পরিবারভুক্ত Passiflora গণের সদস্য।

 ষোড়শ শতাব্দীতে দক্ষিণ আমেরিকায় খ্রিষ্টান মিশনারিরা এই উদ্ভিদের ফুলকে ধর্মীয় প্রতীকের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্বাস করতেন যে ফুলটির বিভিন্ন অংশ যিশু খ্রিষ্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার প্রতীক। ফুলের পাপড়ি, পরাগদণ্ড ও রঙ বিন্যাসকে তারা “passion of Christ”উপমা দিয়েছিলেন । সেই থেকে ইংরেজি নাম হয় “Passion Fruit”, যার অর্থ “আবেগ” বা “যিশুর ত্যাগের প্রতীক”।


 

প্যাশন ফলের মূল নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উত্তর আর্জেন্টিনার পার্বত্য অঞ্চল। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এটি আফ্রিকা ও ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে পরিচিতি পায়, এবং পরবর্তীতে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ভারতেও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়।

বাংলাদেশে প্যাশন ফলের পরিচিতি তুলনামূলকভাবে নতুন। মূলত পর্যটন ও পাহাড়ি অঞ্চলের মাধ্যমে ফলটি প্রথম পরিচিত হয়।বর্তমানে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, সিলেট ও পঞ্চগড় অঞ্চলে সীমিত পরিসরে প্যাশন ফল চাষ হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক পরিসরে সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
 

জাতভেদ

প্যাশন ফলের প্রধানত দুটি জাত -

Purple Passion Fruit (Passiflora edulis) –(বেগুনি জাত) আকারে ছোট, স্বাদে মিষ্টি, ঠান্ডা বা নাতিশীতোষ্ণ পাহাড়ি অঞ্চলে ভালো ফলন দেয়।

Yellow Passion Fruit (Passiflora edulis f. flavicarpa) –(হলুদ জাত) আকারে বড়, ফলের রস বেশি, উষ্ণ ও আর্দ্র এলাকায় ভালো বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশে চাষ হয় বারি প্যাশন ফল-১। এটি হলুদ জাতের ফল এবং আকারে ৬.৮ সেমি x ৬.৩ সেমি। ফলের গড় ওজন ৬৮ গ্রাম এবং ৩০ গ্রাম রস পাওয়া যায়।

উদ্ভিদ ও ফলের গঠন

প্যাশন ফল একটি চিরসবুজ, বহুবর্ষজীবী আরোহী লতা, যা মাচা বা জালের সাহায্যে ৫–১০ মিটার পর্যন্ত বেড়ে উঠতে পারে। এর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ “খাদ্যোপযোগী প্যাশন ফুল”—যা নান্দনিকতা, পুষ্টি ও বাণিজ্যিক গুরুত্বে অনন্য।

গাছের মূলত তিনটি অঙ্গ—মূল, কান্ড ও পাতা। মূল তন্তুজাতীয় (fibrous), মাটির উপরের স্তরে বিস্তৃত; জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না।কাণ্ড সবুজ ও নমনীয়; প্রতিটি গিঁট থেকে পাতা ও কঞ্চি (tendril) গজায়, যা গাছকে আরোহনে সহায়তা করে।পাতা তিন খণ্ডে বিভক্ত, উজ্জ্বল সবুজ ও ক্লোরোফিলে সমৃদ্ধ; এতে খাদ্য তৈরির হার বেশি।

প্যাশন ফুল এককভাবে জন্মে, সাধারণত পাতার বগল থেকে বের হয়। ব্যাস ৫–৭ সেমি, রঙ সাদা বা বেগুনি। ফুলে ৫টি পাপড়ি, ৫টি বৃত্তি, ৫টি পুরুষজনন অঙ্গ ও ১টি স্ত্রীজনন অঙ্গ থাকে।পরাগায়ন সাধারণত মৌমাছির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা ফলনকে ৩০–৪০% পর্যন্ত বাড়ায়। ফুল সকালে ফোটে এবং সন্ধ্যার আগেই ঝরে যায়। 

প্যাশন ফল বেরি শ্রেণির, গোলাকার বা ডিম্বাকৃতি, ব্যাস ৪–৮ সেমি। খোসা শক্ত ও পাকা অবস্থায় বেগুনি বা হলুদ।গুদা বা শাঁস রসালো ও সুবাসিত, অসংখ্য বীজে পরিপূর্ণ।বীজ কালচে ও পাতলা আবরণযুক্ত।প্রতি ফলে ২৫–৪০% ভোজ্য অংশ থাকে, যা দিয়ে জুস, জ্যাম, জেলি ও পানীয় তৈরি হয়।
 

পুষ্টিগুণ

প্রতি ১০০ গ্রাম শাঁসে থাকে—শক্তি ৯৭ ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ২৩ গ্রাম, প্রোটিন ২.২ গ্রাম, ফাইবার ১০ গ্রাম, ভিটামিন C ৩০ মি.গ্রা, ভিটামিন A ১২৭৪ IU, পটাশিয়াম ৩৪৮ মি.গ্রা, লোহা ১.৬ মি.গ্রা। এর পলিফেনল, ক্যারোটিনয়েড ও পাসিফ্লোরিন যৌগ শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

জলবায়ু ও মাটি 

প্যাশন ফল চাষের মূল শক্তি হলো এর অভিযোজন ক্ষমতা ও দ্রুত ফলনশীল বৈশিষ্ট্য। প্যাশন ফলের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু সবচেয়ে উপযোগী। সাধারণভাবে ২০° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গাছের বৃদ্ধি ও ফলন সর্বোত্তম হয়। এর নিচে তাপমাত্রা নামলে ফুল ঝরে যায় এবং ৩৫° সেলসিয়াসের উপরে গেলে ফলের গঠন ব্যাহত হয়। বছরে ১২০০–২৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত আদর্শ, তবে যেখানে বৃষ্টিপাত কম সেখানে নিয়মিত সেচের ব্যবস্থা থাকলে চাষ সম্ভব। বাতাস যদি হালকা থাকে এবং দিনে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সূর্যালোক পাওয়া যায়, তাহলে ফুল ও ফল উভয়েরই উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। আর্দ্রতার পরিমাণ ৬০–৮৫% এর মধ্যে থাকাই উত্তম, কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা ছত্রাকজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ায়। পাহাড়ি ঢাল, উপত্যকা বা সমতলের উঁচু জায়গা যেখানে পানি জমে না—সেইসব স্থান প্যাশন ফল চাষের জন্য আদর্শ হিসেবে বিবেচিত।এই ফলের মূল তন্তুজাতীয় ও অগভীর হওয়ায় মাটির গুণগত মান ফলনকে সরাসরি প্রভাবিত করে। দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী, কারণ এতে পানি নিষ্কাশন ভালো হয় এবং মূল পচে না। মাটির অম্লতা ৫.৫ থেকে ৬.৫ পিএইচ এর মধ্যে থাকলে গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।  তবে জলাবদ্ধ বা লবণাক্ত মাটিতে এটি অনুপযুক্ত, কারণ এতে এর শিকড় পচে গিয়ে গাছ মারা যেতে পারে।
 

উৎপাদন ও চাষ পদ্ধতি 

চারা উৎপাদনে সাধারণত দুটি পদ্ধতি প্রচলিত—বীজ দ্বারা ও কলম বা গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে। বীজ থেকে চারা তৈরি তুলনামূলক সহজ ও সাশ্রয়ী হলেও এর ফলে ফলের গুণগত বৈশিষ্ট্যে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, কলম বা গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উৎপন্ন চারা নির্ভরযোগ্য এবং বাণিজ্যিক চাষের জন্য উপযোগী। বীজ বপনের আগে যদি তা গরম পানিতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা হয়, তবে অঙ্কুরোদ্গম হার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

রোপণের সময় সাধারণত বর্ষা শুরুর আগে অর্থাৎ মে থেকে জুন মাস, অথবা বর্ষা শেষে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাস সবচেয়ে উপযুক্ত। প্রতিটি গাছের জন্য প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতার গর্ত তৈরি করা হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব প্রায় ৩ মিটার এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব প্রায় ২.৫ মিটার রাখা শ্রেয়। গর্তে ১০ কেজি পচা গোবর, ২০০ গ্রাম টিএসপি এবং ১০০ গ্রাম এমওপি সার মিশিয়ে রোপণ করলে গাছ দ্রুত মূল বিস্তার করে। রোপণের পর গোড়ার চারপাশের মাটি ভালোভাবে চেপে দিতে হয়, যাতে বাতাসে দুলে মূল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

যেহেতু প্যাশন ফল একটি লতানো গাছ, তাই মাচা বা ট্রেলিস তৈরি করা অপরিহার্য। সাধারণত দুটি পদ্ধতি বেশি প্রচলিত—টি-ট্রেলিস ও সিঙ্গেল-ওয়্যার ট্রেলিস। টি-ট্রেলিস পদ্ধতিতে খুঁটির ওপর প্রায় ১.৮ মিটার উচ্চতায় ক্রস আকারে রড বা বাঁশ বসিয়ে তারের সাহায্যে লতা ছড়ানো হয়, যা বাণিজ্যিক চাষে সবচেয়ে কার্যকর। ছোট বা মাঝারি আকারের বাগানে সিঙ্গেল-ওয়্যার ট্রেলিস ব্যবহার করা হয়, যেখানে প্রতি খুঁটির মধ্যে প্রায় ৩ মিটার দূরত্বে একটি তারে লতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সঠিকভাবে মাচা না বানালে ফল মাটিতে লেগে পচে যায়, ফলে উৎপাদন নষ্ট হয়।

গাছের বয়স ও ঋতুভেদে সেচের প্রয়োজন পরিবর্তিত হয়। সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন পরপর হালকা সেচ দিতে হয়, তবে গরম মৌসুমে এবং ফল ফোটার সময় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে হবে। আগাছা দমন ও মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে জৈব মালচ, যেমন খড়, পাতা বা গাছের ছাল ব্যবহার করা ভালো ফল দেয়।

সার ব্যবস্থাপনায় প্রতি গাছে বছরে ১০–১৫ কেজি পচা গোবর, ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ২০০ গ্রাম টিএসপি ও ২০০ গ্রাম এমওপি প্রয়োগ করা হয়। ইউরিয়া সাধারণত তিন দফায় ভাগ করে দেওয়া ভালো, টিএসপি রোপণের সময় এবং এমওপি ফুল ফোটার আগে দেওয়া শ্রেয়। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী দস্তা ও বোরন প্রয়োগ করলে পাতার গঠন ও ফলের মান উন্নত হয়।

রোপণের প্রায় আট থেকে দশ মাস পর গাছে প্রথম ফুল ফোটে এবং ফুল ফোটার ৬০–৭৫ দিন পর ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। প্রথম বছর প্রতি গাছে গড়ে ২০–২৫টি ফল পাওয়া যায়, কিন্তু দ্বিতীয় বা তৃতীয় বছর থেকে তা বেড়ে ২০০–২৫০টি পর্যন্ত হতে পারে। এভাবে সঠিক ব্যবস্থাপনায় প্যাশন ফল গাছ পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম থাকে।
 

ফল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ

প্যাশন ফল একটি উচ্চমূল্যের রপ্তানিযোগ্য ফল, যার বাজারমূল্য মূলত নির্ভর করে সঠিক সময়ে সংগ্রহ, সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উপর। সাধারণত ফুল ফোটার ৬০–৭৫ দিন পর ফল সংগ্রহযোগ্য হয়। খোসা সবুজ থেকে বেগুনি বা হলুদে পরিণত হওয়া, সামান্য কুঁচকে যাওয়া ও গন্ধ তীব্র হয়ে ওঠা ফলের পরিপক্বতার প্রধান লক্ষণ। সকালে বা বিকেলে ঠান্ডা আবহে হাতে ঘুরিয়ে ফল তোলা উত্তম, যাতে খোসা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। প্যাশন ফল সহজেই নষ্ট হয়, তাই সংরক্ষণে সতর্কতা জরুরি। ঘরের তাপমাত্রায় এটি ৫–৭ দিন, রেফ্রিজারেটরে ৩–৪ সপ্তাহ এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে (৫–৭°C ও ৮৫% আর্দ্রতা) ৬–৮ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। সংরক্ষণের আগে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট দ্রবণে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করলে ছত্রাকের আক্রমণ কমে।

প্রক্রিয়াজাত শিল্পে প্যাশন ফলের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। ফলের রস জুস, জ্যাম, জেলি, আইসক্রিম ও বেভারেজ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বীজ থেকে আহরিত তেল কসমেটিক পণ্যে, আর খোসা পশুখাদ্য ও কম্পোস্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
 

রোগ–পোকামাকড়, সমস্যা ও প্রতিকার

প্যাশন ফল উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ভালো জন্মালেও এই পরিবেশ রোগজীবানু  ও কীটপতঙ্গের জন্য অনুকূল। Passionfruit woodiness virus (PWV)Mosaic virus ফল বিকৃতি ও পাতায় দাগ সৃষ্টি করে; এফিড ও হোয়াইটফ্লাই দ্বারা ছড়ায়। রোগমুক্ত চারা ব্যবহার এবং নিম তেল বা অনুমোদিত কীটনাশক স্প্রে প্রতিরোধে সহায়ক। Phytoplasma সংক্রমণে গাছ খাটো হয় এবং ফুল–ফল ঝরে পড়ে; আক্রান্ত লতা ধ্বংস করা জরুরি। Bacterial leaf spot (Pseudomonas syringae) পাতায় বাদামী দাগ দেয়; প্রতিরোধে copper-based bactericide ব্যবহার কার্যকর। Collar rot (Fusarium solani) ও Fusarium wilt (F. oxysporum f. sp. passiflorae) শিকড় পচিয়ে লতা মেরে ফেলে; সঠিক নিষ্কাশন, Trichoderma প্রয়োগ এবং Mancozeb স্প্রে রোগ দমন করে। Anthracnose (Colletotrichum gloeosporioides) ফলে কালচে দাগ ফেলে; বোর্দো মিশ্রণ স্প্রে উপযোগী। Root-knot nematode (Meloidogyne spp.) শিকড়ে গল তৈরি করে গাছ দুর্বল করে; সূর্যালোকের মাধ্যমে মাটি জীবাণুমুক্তকরণ এবং নিমবীজ গুঁড়া প্রয়োগে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।পরিচ্ছন্ন মাঠ, সঠিক সেচ ও বায়ু চলাচল বজায় রাখলে এবং মৌসুম শেষে আক্রান্ত লতা অপসারণ করলে রোগের বিস্তার কমে এবং ফলন টেকসই থাকে।
 

বাংলাদেশে প্যাশন ফলের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা

বাংলাদেশে কৃষি এখন রপ্তানিমুখী ও উচ্চমূল্যের ফসলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্যাশন ফল হতে পারে এক সম্ভাবনাময় রপ্তানিযোগ্য ফল। পাহাড়ি ও উঁচু জমিতে সহজে চাষযোগ্য, উচ্চ ফলনশীল এবং বাজারে চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কম জমিতেও বেশি ফলন পাওয়া যায় বলে এটি ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্যও লাভজনক বিকল্প।

রপ্তানি বাজারে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয় পর্যায়েও স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তা ও পর্যটন শিল্পের কারণে এর বাজার প্রসারিত হচ্ছে। তবে রোগ-পোকামাকড়, আবহাওয়া পরিবর্তন ও বাজারদরের ওঠানামা কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, যা সঠিক পরিচর্যা, সেচ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

সবদিক বিচার করলে প্যাশন ফল বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এটি শুধু কৃষকের আয় বাড়াবে না, বরং রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।


















 

Comments

    Please login to post comment. Login