Posts

প্রবন্ধ

রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ — পরিবর্তনের পথে রংপুর

February 1, 2026

MST. MOKARROMA SHILPY

16
View


রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RpDA) গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং তার বাস্তবায়ন — রংপুর শহরের জন্য একটি দীর্ঘ আশা, আর সেই আশা এখন বাস্তব।
 

গঠনের ইতিহাস

২০১৪ সালের ৮ জুন সচিব কমিটির এক সভায় নীতিগতভাবে RpDA গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

কিন্তু পরবর্তী ১১ বছরেও কার্যকর রূপ পায়নি “উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ” — ফলে রংপুরের নগরায়ন ও পরিকল্পনা ছিল অপর্যাপ্ত ও ধীরগতির। অবশেষে — ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে, গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে RpDA কে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয় যা ছিল রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির ফল।
 

RpDA এর প্রয়োজনীয়তা— বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও অপরিকল্পিত নগরায়ন
 

গত কয়েক দশকে রংপুর শহরের আমূল-পরিবর্তন হয়েছে এবং শহরটি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই বৃদ্ধির সঙ্গে নগর পরিকল্পনার কোন সমন্বয় ছিল না।ফলে অপরিকল্পিত, অনিয়ন্ত্রিত ও অনুমোদনবিহীন স্থাপনা ও ভবন নির্মাণ,
রাস্তাঘাট-খাসজম দখল ও খোলা জায়গার অভাব,
অস্বাস্থ্যকর বর্জ্য ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা,অপরিচ্ছন্ন জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত সবুজায়ন পার্ক/খোলামেলা জায়গার অভাব,
যানজট, সড়ক-পরিবহনে অব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সমস্যা রংপুরকে একটি আস্তাকুঁড়ে ঘিঞ্জি শহর বানিয়ে ফেলছে । প্রথমদিকে RpDA অনুমোদন পাওয়ার পরও কাজ শুরু না হওয়ায় এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

রংপুরবাসীর জন্য পরিপূর্ণ নগর উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন, এবং নাগরিক জীবনের মানউন্নয়নের জন্য দরকার ছিল একটি স্বতন্ত্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
 

RpDA–র আইনগত ভিত্তি ও কাঠামোগত দায়িত্ব
 

গেজেটে প্রকাশিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, RpDA গঠনের উদ্দেশ্য হলো:

*রংপুর ও এর সন্নিহিত এলাকার জন্য পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা,
 

*ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষা,
 

*অপরিকল্পিত/দখলভিত্তিক উন্নয়ন রোধ করা,
 

*দুর্যোগসহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা,
 

*তথ্য-প্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্প বিকাশ,
 

*নাগরিকদের জন্য উন্নত জীবন-যাত্রা নিশ্চিত করা। 
 

অর্থাৎ RpDA শুধু ভবন পরিকল্পনা দেখবে না — পুরো নগর ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখবে: পরিবেশ, অবকাঠামো, অর্থনীতি, জীবনযাত্রা — সব দিক থেকেই।
 

রংপুরকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ার বড় সুযোগ 

RpDA–র প্রতিষ্ঠা একটি সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে দরকার পরিকল্পনা এবং দায়িত্ববোধ। জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজন-
 

১।পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান — রাস্তাঘাট, জনবসতি, জলাধার,বহুতল ভবন,মার্কেট,স্থাপনা,  পার্ক, খোলা জায়গা, বনায়ন ইত্যাদির জন্য একটি সমন্বিত ও পরিকল্পিত নকশা।
 

২।ড্রেনেজ ও জল ব্যবস্থাপনা — বর্ষার জলাবদ্ধতা রোধে পরিকল্পিত ড্রেন, খাল, জলাধার সংরক্ষণ।
 

৩।স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা — বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার, কম্পোস্টিং বা রিসাইক্লিং, বর্জ্য হ্রাস, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
 

৪।সবুজায়ন ও নগর পরিবেশ — সড়ক কিনারায় গাছ, পার্ক, খোলা জায়গা, ছায়া, শিশু-খেলার স্থান।
 

৫।নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল নির্মাণ — নতুন ভবন, মার্কেট বা আবাসিক এলাকায় নির্মাণে কঠোর অনুমোদন, ফুটপাত ও রাস্তার সঠিক বিন্যাস, যানজট কমানোর পরিকল্পনা।
 

৬।নাগরিক অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ — সব সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ,ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষ নাগরিকদের মতামত, পর্যবেক্ষণ ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ।
 

এই ছয় বিষয়ে RpDA সুষ্ঠুভাবে কাজ  বাস্তবায়ন করলেই কেবল রংপুরের সেই স্বপ্ন—পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, এবং টেকসই নগরের স্বপ্ন পূরণ হবে।
 

রংপুরের নতুন অধ্যায়

২০২৫ সালের নভেম্বরে গেজেট ঘোষণার মাধ্যমে RpDA–র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় — রংপুরবাসীর জন্য এটি নতুন আশা, নতুন দায়িত্ব, এবং একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত।

আমি বিশ্বাস করি, যদি সবাই—প্রশাসন, নাগরিক, ব্যবসায়ী,শিক্ষক,কৃষিবিদ,ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, পরিবেশবিদ—মিলেমিশে কাজ করি, তাহলে আগামী ৫–১০ বছরের মধ্যে রংপুর হয়ে যাবে বাংলাদেশের একটি নিখুঁত, সুন্দর, সবুজ ও পরিকল্পিত নগরীর উদাহরণ। রংপুরের ভবিষ্যত এখন আমাদের হাতে। আসুন, সেই পরিবর্তন আজ থেকেই শুরু করি।


 

Comments

    Please login to post comment. Login