সাইকেলটা
Sponsored : eusellerbd.edokan.co
ভোরের আলো ঠিকমতো ফুটে ওঠার আগেই সাইকেলটা উঠোনে দাঁড়িয়ে ছিল। লাল রঙের ফ্রেমে রাতের শিশির লেগে ঝিকমিক করছিল, যেন ছোট ছোট কাঁচের দানা। সামনে রুপালি হ্যান্ডেলে হালকা আঁচড়—ওটা পড়েছিল গত বর্ষায়, স্কুল থেকে ফেরার পথে হঠাৎ বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে গেলে। সেই আঁচড়টা এখন সাইকেলের গায়ে একটা স্মৃতির মতো লেগে আছে।
সাইকেলের ঘণ্টাটা গোল আর চকচকে, চাপ দিলে টুং করে পরিষ্কার শব্দ হয়। সেই শব্দেই পাড়ার কুকুরগুলো চিনে নেয়—আমি আসছি। কালো রাবারের গ্রিপ দুটো একটু পুরনো, অনেকদিনের চাপে মসৃণ হয়ে গেছে। তবু হাত রাখলেই এক অদ্ভুত ভরসা আসে, যেন সাইকেলটা জানে কোন পথে আমাকে সামলে নিতে হবে।
সামনের চাকায় চিকচিকে স্পোকগুলো রোদে পড়ে ঝিলমিল করে। ঘোরাতে শুরু করলে মনে হয়, ওগুলো একটা করে গল্প ঘুরিয়ে দিচ্ছে—স্কুলে যাওয়ার গল্প, মাঠে খেলা শেষে বাড়ি ফেরার গল্প, আবার কখনো একা একা দূরের গ্রামে চলে যাওয়ার গল্প। পেছনের ক্যারিয়ারে পুরনো একটা কাপড় বাঁধা, কখনো বাজারের থলে রাখার জন্য, কখনো বন্ধুর বই নিয়ে যাওয়ার জন্য।
আমি সিটে বসতেই চামড়ার আসনে হালকা শব্দ হলো—চিঁ চিঁ। প্রথমে বিরক্ত লাগত, এখন সেটা ছাড়া সাইকেল চালাতে ভালোই লাগে না। পা দিয়ে প্যাডেলে চাপ দিতেই চেনটা ঘুরে উঠল, তেল মাখানো লোহার একটা পরিচিত ঘরঘর শব্দ তুলে। সেই শব্দ যেন বলে ওঠে—চলো, পথ এখনো অনেক বাকি।
Sponsored : eusellerbd.edokan.co
রাস্তার ধুলো, সকালের ঠান্ডা হাওয়া আর সাইকেলের ছন্দ মিলেমিশে এক অদ্ভুত আনন্দ তৈরি করে। বাস, মোটরসাইকেল, সব পেছনে ফেলে সাইকেলটা নিজের গতিতে এগোয়। না খুব দ্রুত, না খুব ধীরে—ঠিক যতটা দরকার।
এই সাইকেলটা শুধু যাতায়াতের বাহন নয়। এটা আমার নীরব সঙ্গী। যখন মন খারাপ থাকে, তখন এটাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। যখন খুশি থাকি, তখনও প্রথম মনে পড়ে এই সাইকেলের কথাই। অনেক কিছু বদলে গেছে, অনেক কিছু বদলাবে—কিন্তু উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকা লাল সাইকেলটা যেন সবসময় বলে,
“চিন্তা করিস না, আমি আছি। চলো, আবার একটু ঘুরে আসি।”
Sponsored : eusellerbd.edokan.co
সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন
অসহয়কের সহায়ক হন
লেখক,
মো: ইমন আলী