হে প্রভু,
তুমি ছাড়া আমি অসহায়।
তুমি ছাড়া আমি নিরুপায়।
হে প্রভু
এই বিস্তৃত পৃথিবীর ভিড়ে
তুমি ছাড়া কেউ নেই যে আমার ঘরে।
বাবা আমাকে ভালোবাসে—
তার চোখেমুখে গভীর মায়ামমতা।
তার কণ্ঠে আশ্রয়ের নিশ্চয়তা।
তবু কখনও বেখেয়ালি সময়ে
সে আমার নীরবতার মানে ভুল পড়ে।
মা—
যার রক্তের স্রোতে ভেসে এসে আমি
পুরো পৃথিবীর আলো দেখেছি,
দশমাস দশ দিন যার গর্ভ ছিল আমার ঘর,
সেও হঠাৎ বুঝতে পারে না
আমার মনের গোপন ঝড়।
আমার নিজের নাড়ি ছেঁড়া সন্তান—
আমারই শরীরের আরেক স্পন্দন,
হঠাৎ কখনও দূরে দাঁড়িয়ে থাকে।
যেন আমার চোখের ভাষা
দুর্বোধ্য হয়ে যায় তার কাছে।
তখন হতবিহ্বল আমি
দুহাত তুলে কাঁদতে থাকি তোমার দ্বারে
ভাবি-বোঝার শক্তি মানুষের নেই
বোঝার আলো তুমি দাও বলেই
তারা কখনও কখনও আমাকে ছুঁতে পারে।
আমার মন এক গোপন অরণ্য,
যার প্রতিটি পথ তুমি এঁকেছ তোমার
খেয়ালখুশির রঙে।
আমার দেহ,মন,মগজ আর আত্মা—
যার প্রতিটি কণা তুমি গড়েছ তোমার
ইচ্ছে মতন ঢঙে।
তাই তো ভাবি,
তুমি ছাড়া আর সাধ্য কার
আমাকে পুরোটা বুঝে নেওয়ার?
হে প্রভু,
যখন কেউ বুঝতে পারে না,
তখনও তুমি নিঃশব্দে পাশে থাকো—
আমার অশ্রুর ভাঁজে ভাঁজে
তোমারই স্পর্শ রাখো।
হে প্রভু,
আমি তোমারই সৃষ্টি—
তোমার নিঃশ্বাসে জেগে থাকা এক নীরব আর্তি।
আমার ভাঙন
জোড়া লাগে তোমারই ইশারায়।
আমার অন্ধকার
তোমারই আলোয় দিশা পায়।
সবাই যখন দূরে সরে যায়,
দিশেহারা আমি শুধু তোমারে খুঁজি
হৃদয়ের গভীরে তখন তুমি দাও দৃষ্টি
বল না কিছুই, তবু সব বলে দাও বুঝি।
আমি শূন্য নই,
কারণ তুমি আছো।
আমি হারাই না,
কারণ তুমি ধরো।
তুমি আছো তাই আমি সম্পূর্ণ—
তোমায় ছাড়া আমি কেবলই এক মহাশূন্য।