Posts

উপন্যাস

বৃষ্টি ভেজা রোদ্দুর

February 28, 2026

Bangla Tuglak challenge

26
View

নীলু আর রাধার এক মিষ্টি প্রেমের গল্প নিচে দেওয়া হলো। আমি চেষ্টা করেছি চার পাতার মেজাজটাকে সংক্ষেপে অথচ গভীর অনুভূতির সাথে তুলে ধরতে।

নীলু ও রাধার চার পাতার গল্প: "বৃষ্টির পরের রোদ্দুর"

প্রথম পাতা: সেই পরিচিত চায়ের দোকান

​শহরের এক কোণে পুরনো এক চায়ের দোকান। নীলু সেখানে বসে ছিল ডায়েরি হাতে। নীলু একটু শান্ত স্বভাবের ছেলে, যে ভিড়ের মাঝেও নিজেকে একা রাখতে ভালোবাসে। ঠিক সেই সময় নীলবর্ণের শাড়ি পরে দোকানে ঢুকল রাধা।

​রাধা নীলুর ঠিক উল্টো—চঞ্চল, প্রাণবন্ত এবং হাসিখুশি। সে আসতেই যেন দোকানের গুমোট ভাবটা কেটে গেল। নীলু আড়চোখে দেখছিল রাধাকে। হঠাৎ রাধা এগিয়ে এসে নীলুর টেবিলে বসল।

​"এই যে কবি সাহেব, একা একা কী লেখা হচ্ছে? এক কাপ চা কি শেয়ার করা যায়?"


 

​নীলু কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে হাসল। সেই শুরু। বৃষ্টির ঝাপটায় সেদিন দুজনেই আটকা পড়েছিল সেই ছোট দোকানে, আর ওখানেই জন্মেছিল এক অদ্ভুত টান।

দ্বিতীয় পাতা: অব্যক্ত কথার ভিড়

​দিন গড়াতে লাগল। নীলু আর রাধার দেখা হওয়াটা এখন নিয়মিত। তারা গঙ্গার ঘাটে বসে সূর্যাস্ত দেখে, কখনো শহরের অলিগলিতে উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটে। নীলু খেয়াল করল, রাধা যখন কথা বলে, ওর চোখের মণিগুলো চিকচিক করে।

​নীলু একদিন সাহস করে রাধার জন্য একটা ছোট কবিতা লিখে আনল। কিন্তু দিতে গিয়েও হাত কেঁপে উঠল ওর। রাধা সেটা বুঝে ফেলে মুচকি হেসে বলল,

"নীলু, সব কথা কি মুখ ফুটে বলতে হয়? কিছু কথা তো চোখের পাতায় লেখা থাকে, পড়ে নিতে হয়।"

সেই বিকেলে গঙ্গার হাওয়া নীলুর বুকের ভেতর এক অজানা দোলা দিয়ে গেল।

তৃতীয় পাতা: অভিমান আর দূরত্ব

​সব গল্পে যেমন মেঘ আসে, এদের জীবনেও এল। নীলুর চাকরির সূত্রে অন্য শহরে যাওয়ার কথা উঠল। রাধা খবরটা শুনে চুপ হয়ে গেল। যে মেয়েটা সারাক্ষণ কথা বলত, সে হঠাৎ মৌনব্রত নিল।

​নীলু চলে যাওয়ার আগের রাতে দুজনে সেই পুরনো চায়ের দোকানে বসল। বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি।

  • নীলু: "আমি চলে গেলে তুমি আমায় ভুলে যাবে না তো রাধা?"
  • রাধা: "দূরত্ব তো শরীরের হয় নীলু, মনের কি আর সীমানা থাকে?"

​রাধার চোখে সেদিন প্রথম জল দেখল নীলু। সে বুঝতে পারল, রাধার এই চঞ্চলতার আড়ালে কতটা গভীর ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। বিদায়ের মুহূর্তটা ছিল ভারী, কিন্তু প্রতিশ্রুতি ছিল ফেরার।

চতুর্থ পাতা: পুনর্মিলন

​এক বছর পর। নীলু ফিরেছে সেই চেনা শহরে। স্টেশনে কেউ তাকে নিতে আসেনি, কিন্তু সে জানে তাকে কোথায় যেতে হবে। সে সোজা চলে গেল সেই গঙ্গার ঘাটে।

​দূর থেকে দেখল, একটি মেয়ে লাল পাড় সাদা শাড়িতে জলের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। নীলু নিঃশব্দে পেছনে গিয়ে দাঁড়াল।

"রাধা, আমি এসেছি।"

​রাধা ঘুরে তাকাল। চোখে সেই পরিচিত উজ্জ্বলতা, কিন্তু এবার তাতে জয়ের আনন্দ। কোনো কথা হলো না, শুধু নীলু রাধার হাতটা শক্ত করে ধরল। বিকেলের পড়ন্ত রোদে দুই ছায়া এক হয়ে মিশে গেল। তারা বুঝল, জীবনের চারপাতা গল্প শেষ হয়নি, বরং এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো।

গল্পটি আপনার কেমন লেগেছে? আপনি কি চান আমি এই গল্পটিকে কেন্দ্র করে একটি রোমান্টিক কবিতা লিখে দিই?

Comments

    Please login to post comment. Login