Post

‘রৌজা’ গীতিকবিতা পর্ব (১২)

June 8, 2024

Original Author আযাহা সুলতান

508
View

১১১ 
চাইছি খোদা তোমার 
সেই কঠিনদিনে পার, 
হে করুণাময় আমার 
ওগো করুণার আধার।

ওই বিচারের ময়দানে 
তুমি বড় রোষাননে, 
হিসাবের কড়া মিজানে 
করবে বান্দার বিচার। 
চাইছি খোদা তোমার 
সেই কঠিনদিনে পার॥

অপরাধ যদিওবা হয়েছে 
লাঞ্ছিত করো না আমাকে, 
জান্নাত দিয়ো না বরঞ্চে 
বাঁচাইয়ো জাহান্নাম থেকে।

পারি না সইতে তপ্ত এই 
সইব কেমনে দহন সেই, 
অপরাধীর প্রতি সদয়দৃষ্টে 
চাইয়ো শুধু একবার। 
হে করুণাময় আমার 
ওগো করুণার আধার॥ 
৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত


১১২ 
কুন 
ফায়াকুন ফায়াকুন 
কুন ফায়াকুন। 
অতুলুন 
আল্লাহ তুমি ও তোমার বানানোন 
কত যে অতুলুন। 
কুন ফায়াকুন॥

লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া 
আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। 
কি প্রশংসা করি তোমার ধাতা 
তুমি যে কী তুলনাহীন প্রতিষ্ঠাতা, 
হয়েই হচ্ছে জাহাঁ আজও প্রসারুণ—
কুন ফায়াকুন॥

আল্লাহু 
লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়াল 
হাইয়্যুল কাইয়্যূম। 
ভঙ্গ্য 
ভঙ্গুর শহরে আগামী কাল 
ওড়বে পূর্বের ধোঁয়াধূম। 
তুমি হাইয়্যুল কাইয়্যূম॥

লাকাদ খালাকনাল ইনসানা 
ফি-আহসানি তাকওয়িম। 
তোমার মেহেরবানির শোকরিয়া 
আদায় করতে পারিনি—মানবদুনিয়া, 
আবার করবে? করো—করতে পারি পুরুণ—
কুন ফায়াকুন॥ 
২৪ আষাঢ়, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত


১১৩ 
ঘর থেকে বের হলে তুমি মানুষ 
মিলো মানুষের সাথে, 
দেখেছ কি মানুষে বিভেদ? 
ঘরে এলে ধর্মকেন্দ্রে জাতীয় হুঁশ 
পেলে শত সঙ্কেতে! 
নিজেকে প্রশ্ন করেছ আবেদ?।

রক্তমাংসে অভিন্ন মানুষ তুমি 
কে তোমারে ভিন্ন করল জানো কি? 
জাতের কারিগর কে হে তিনি 
এক ঘর থেকে পৃথকে 
প্রতিষ্ঠা করল নানান ভেদ! 
নিজেকে প্রশ্ন করেছ আবেদ?।

জন্ম হয়েই পেলে কি দেখা বর্ণর 
জন্মেছ কোন লোকালয়ে? 
জেনেছ ক্রমান্বয়ে যত যা! 
মৃত্যু তোমাকে নিয়ে গেল কবর 
চিতা-কফিনে শোয়ায়ে! 
রাখল খালি বর্ণের চিহ্নটা॥

স্রষ্টা আছে নির্ভেজাল সত্য এটা 
সৃষ্টির দুঃসাধ্য স্রষ্টাকে খুঁজে লওয়া! 
সত্যের মাঝে থাকে স্রষ্টার ছায়া 
সত্যপথ অবলম্বনে 
আসবে বাধা পাহাড়সমেত! 
নিজেকে প্রশ্ন করেছ আবেদ?। 
১১ ভাদ্র, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত


১১৪ 
আমি না ভালো পুত্র হতে পারলাম 
না কারও ভালো ভাই! 
না হতে পারলাম জায়ার ভালো স্বামী 
না পিতা ভালো এতটাই!

যারা আমার লাগি নেমেছে হাঁটু পানিতে 
আমি তাদের লাগি পারিনি গলা ডুবাতে, 
যাদের লাগি ডুবে গেছি একেবারেই 
তাদের চক্ষুশূল—দুখটাই!।

আমি কী পেলাম জীবন থেকে 
হিসাব করিনি কোনো কাজে। 
জীবন দিয়ে যাচ্ছে কী পৃথিবীকে 
বসি তার হিসাব মিলাতে।

আফসোস রইল যতই দেওয়ার ব্যর্থতায় 
বেহিসাবি থাক গে লেনা পাওয়ার খাতায়, 
উপকারীর উপকার করতে পারলাম না 
দুঃখ মনে একটাই॥ 
১৩ আশ্বিন, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত


১১৫ 
কে আছে পৃথিবীতে—দেখি না তো 
আমার মায়ের মতো। 
কার আছে—ছিল এ বাসনা মহত্ত্ব? 
দেয় অন্তর প্রসারিত—
আমার মায়ের মতো॥

চেয়েছে দিতে পৃথিবীকে ভরিয়ে 
দু-হাত বাড়িয়ে সবটুকু উজাড়িয়ে, 
এমন হৃদয়ের মালিক যদি সকলে হতো? 
আমার মায়ের মতো॥

মিলত না হয়তো খোঁজাখুঁজি—এলান করি 
গরিব আর গরিবি। 
থাকত না হয়তো জগতীর কষ্ট—টানাটানি 
অভাব আর অভাবী—
গরিব আর গরিবি॥

অন্তরে বাদশা অন্তরে ফকির 
অন্তরে কার উত্তমের জিকির, 
কীসের ফিকির হাতখোলা যার অনবরত? 
আমার মায়ের মতো॥ 
১৮ আশ্বিন, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত 

১১৬ 
একবার প্রাসাদ ছেড়ে 
নেমে এসে দেখো-না 
সমৃদ্ধির মালিক! 
আর্তমানুষের মনঃকান্না 
একবার অনুভব করো-না 
কী কারুণিক!।

আকাশে বসবাসের ঘর 
বুঝে পাবে না মানবেতর, 
রাস্তার পাশে যেই জিন্দেগি 
পুছো তারে জীবন কী 
বুঝো তো রাস্তা ঠিক। 
একবার প্রাসাদ ছেড়ে 
নেমে এসে দেখো-না 
সমৃদ্ধির মালিক॥

আসবে না কোনো কাজে 
প্রতিষ্ঠা করলে যা 
তিলে তিলে গড়ে! 
বেরিয়ে পড়ো পথে হাঁ, 
দেখো কোথায় মানবতা 
খাচ্ছে পোকামাকড়ে!।

প্রাণের সেবায় পাবে যা 
রাজমহলে পাবে না তা, 
জীব-জীবনের উপকারে 
চাও-না একবার মরে 
মরণে কী স্বস্তিক। 
একবার প্রাসাদ ছেড়ে 
নেমে এসে দেখো-না 
সমৃদ্ধির মালিক॥ 
২২ আশ্বিন, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত


১১৭ 
আর ভালো লাগছে না বিধি 
বিদঘুটে জীবন। 
আর দেখতে পারছি নে অবলী 
অবলাদের পীড়ন।

ধর্ষণ—এক হতে একশ 
বাঁচতে পারছে না শিশু-বৃদ্ধ! 
হাজার ধর্ষিতার আর্তনাদে 
কাঁদছে শুধু মন। 
আর ভালো লাগছে না বিধি 
বিদঘুটে জীবন॥

নিচের বিচারালয় আমি নাহয় 
বানালাম নড়বড়! 
ওপরে তোমার দণ্ডবিধান বলে 
কেন অকার্যকর?

ভয়ঙ্কর—শাস্তি এত ভয়াল 
মানুষ কেন মানুষের কাল? 
আদি হতে এপর্যন্ত দেখছি 
লুঠেরাদের উত্তরণ। 
আর ভালো লাগছে না বিধি 
বিদঘুটে জীবন॥ 
২৪ আশ্বিন, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত


১১৮ 
যাত্রী আমি দূরের 
পথহারা-না-পথহারা। 
জীবনসুষ্ঠু সুরের 
সবহারা-না-সবহারা।

জনমদুঃখ নিয়ে 
জন্মেছিলাম বলে, 
পাইনি হয়তো ধারা—
পথহারা-না-পথহারা॥

এটুকু এ জিন্দেগানি 
ভুলুয়া-ই-ভুলুয়া বাঃ। 
মনে থাকলেই মানী 
সফলতা-ই-সফলতা।

সরলতার মাঝে 
ব্যথা হয়তো আছে, 
সত্যের পথে যারা—
সবহারা-না-সবহারা॥ 
১ কার্তিক, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত


১১৯ 
আমার জীবনের গল্প 
যা সাজালে ভালো—অতি অল্প। 
আমার অভিযোগ? না, নেই মোটেও—
ধন্য, আমি ধন্য 
জিন-ফেরেশতা করোনি কোনো, 
মানুষ বলেই ধন্য বলি আমাকে॥

করতে পারতে বিশ্রী কীটপতঙ্গ 
করোনি আমার এত অসুন্দর অঙ্গ, 
এই ধনে ধনী মানি সবার থেকে—
মানুষ বলেই ধন্য বলি আমাকে॥

তার ওপরে সূক্ষ্ম 
দিলে যারে এতটু মস্তিষ্ক। 
মনে হলে? মনের দুঃখ রয় না একটুও—
আরও দেখি হাত-পা 
চোখের আলো কী যে তা, 
আমিই বুঝি এর দাম কতটুকু॥

কখনো পারি না—পারব না যে 
ভুলে যাব তোমায় এতটা কষ্টে, 
কৃতজ্ঞতার ধারা বওয়াও এ বুকে—
মানুষ বলেই ধন্য বলি আমাকে॥ 
২৯ কার্তিক, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত 

১২০ 
আল্লাহ তুমি বান্দারে 
এত ভালোবাসলে? 
এত তোমার বড় মন! 
কত বিপদ-আপদ দিয়ে 
পরীক্ষা করো—করলে, 
দায়—তোমারে বোঝন!।

ওই যে তারা ডাকছে তোমে 
কী নম্রতা দেখা যাচ্ছে নমে! 
ভেতরে কার কী বক্রতা 
তুমিই জানো তবে—
তবু করোনি কারও জীবনাশোভন। 
আল্লাহ তুমি বান্দারে 
এত ভালোবাসলে? 
এত তোমার বড় মন!।

কারে কে কত ভালোবাসি 
অন্তরের খবর? 
তুমি জানো আমি জানি। 
জগতে বলে বলুক-না 
তারা যদি জানত, 
তুমি হতে না অন্তর্যামী!।

করলে যারে মনের রাজা 
ধনের রাজ্যে নাইবা প্রজা! 
এ মন তো দিতে পারতে 
যারে-তারে—সবারে—
শোকর—বোঝালে তা যখন। 
আল্লাহ তুমি বান্দারে 
এত ভালোবাসলে? 
এত তোমার বড় মন!। 
৩০ কার্তিক, ১৪২৭—মানামা, আমিরাত 

Comments

    Please login to post comment. Login