তুমি যে দাঁড়িয়ে থাকো অন্ধ গলির মুখে,
সেখানে দেয়ালগুলোও গোপন কথা বলে ফিসফিসিয়ে
ভাঙা সিমেন্টের ফাটল দিয়ে
রক্তের মতো লাল সূর্যকে দেখি ডুবে যেতে ।
তোমার ছায়া লম্বা হয়ে
মাটির বুক চিরে যায় এগিয়ে,
আর কারও কাঁধে ঝুলে থাকা স্বপ্নের থলে
এক মুহূর্তে পাখির মতো ছটফট করে—
বল তো,
সেই পাখির ডানায় কি ছিল কেবল কাগজের ভর?
না কি ছিল একটি পরিবারের আগামী ভোর?
তুমি যখন দরজায় আঙুল রাখো,
কাঠের গায়ে তোমার স্পর্শে
অদৃশ্য কালির দাগ ফুটে ওঠে—
ভেতরে একটি হৃদয় ঝড়ের আগে
সমুদ্রের মতো অস্থির হয়ে ওঠে।
তুমি কি শুনতে পাও সেই কাঁপুনি?
নাকি তোমার কানে বাজে কেবল নিজ হৃদয়ের সুরধ্বনি?
একটি শিশুর চোখ যখন স্থির হয়ে যায় বিস্ময়ে,
তার মণিতে তোমার সেই বিকৃত কালো বড় মুখ ভাসে—
সেই চোখ যেন একটি ভাঙা আকাশ,
যেখানে তারকারা ঝরে পড়ে নীরবে।
তুমি কি ভেবেছ—
লোভের আগুনে দাঁড়িয়ে
অন্যের আলো নিভিয়ে
নিজেকে প্রদীপ বলা যায়?
যে পথে তুমি দ্রুত দৌড়াও উর্ধ্বমুখী হয়ে
সেই পথের ধুলো একদিন ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে—
আর তোমার পদচিহ্ন
কেবল বালির ওপর লেখা অস্থায়ী স্মৃতি হয়ে থাকবে।
ক্যামেরার চোখ এড়িয়ে গেলে
তুমি ভাবো মুক্তি পেয়েছ।
কিন্তু সময় এক নিঃশব্দ নদী—সে বয়ে চলে,
আর তার জলে তোমার প্রতিচ্ছবি কখনো যায় না ডুবে।
মনে রেখো—
যে অন্ধকার তুমি লালন করো বুকের ভেতরে।
সে অন্ধকার একদিন শিকড় গেড়ে
তোমার হৃদয়ের দেয়ালে শ্যাওলা হয়ে জমবে।
তুমি যাকে জোর খাটিয়ে চাও দমিয়ে রাখতে,
শেষ পর্যন্ত সেই তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
একদিন সব রাস্তার বাতি নিভে যাবে,
ভিড় চলে যাবে,
তোমার চারপাশে থাকবে
কেবল নীরবতা
আর শূন্যতা—
একটি অদৃশ্য আদালত সেখানে দাঁড়িয়ে
তোমার কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করবে—
তুমি মানুষের জন্য কী রেখে গেলে?
তখন আর পালানোর পথ থাকবে না।
ছায়াও সঙ্গ দেবে না।
শুধু নিজের কৃতকর্ম
সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে একটি আয়নার মতো ।
ফিরে আসার দিগন্ত খোলা আজও।
অন্ধকারের শিকল ভেঙে ফেলো,
হাতে থাকা অদৃশ্য ছুরিটা মাটিতে রাখো,
আর ভাঙা অন্তরকে আলো দিয়ে ধুয়ে ফেলো।
কারণ শেষ বিচার
শক্তির নয়—স্মৃতির,
আর মানবতার।