Posts

উপন্যাস

নীল আকাশের নীচে ভালোবাসা

March 12, 2026

Rongdhonu-Prokashoni

44
View

নীল আকাশের নীচে ভালোবাসা
 

লেখক: এম আহমেদ

কপিরাইট ©️

© ২০২৬, এম আহমেদ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। লেখকের লিখিত অনুমতি ছাড়া এই বইয়ের কোনো অংশ পুনর্মুদ্রণ, অনুলিপি বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না।

প্রকাশনা
 

প্রকাশক: রংধনু প্রকাশনী

বাংলাদেশ


 

সূচিপত্র
 

১. প্রথম দেখা

২. নতুন বন্ধুত্ব

৩. অজানা অনুভূতি

৪. বৃষ্টিভেজা বিকেল

৫. স্বপ্নের কথা

৬. ভালোবাসার উপলব্ধি

৭. হঠাৎ বিদায়

৮. অপেক্ষার বছরগুলো

৯. স্মৃতির শহর

১০. আবার দেখা

১১. নতুন সূচনা

১২. চিরন্তন ভালোবাসা


 


 

অধ্যায় ১: প্রথম দেখা

ঢাকার ব্যস্ত শহরের মাঝে এক পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়।

সেখানে পড়াশোনা করে আরিফ। শান্ত স্বভাবের ছেলে, বই পড়তে ভালোবাসে এবং স্বপ্ন দেখে একদিন সমাজের জন্য কিছু করার।


 

একদিন বিকেলে লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সে। হালকা বাতাস বইছিল। গাছের পাতার শব্দে চারপাশ যেন শান্ত হয়ে ছিল।


 

হঠাৎ তার চোখ পড়ল এক মেয়ের দিকে।

মেয়েটি ধীরে ধীরে লাইব্রেরির দিকে এগিয়ে আসছিল। তার পরনে নীল শাড়ি, হাতে কয়েকটি বই। মুখে এক ধরনের কোমলতা।

মেয়েটির নাম নীলা।
 

লাইব্রেরির দরজার কাছে এসে হঠাৎ তার একটি বই পড়ে গেল।

আরিফ এগিয়ে গিয়ে বইটি তুলে দিল।

— “এই নিন।”

নীলা হেসে বলল

— “ধন্যবাদ।”

সেই ছোট্ট মুহূর্তেই যেন তাদের জীবনের গল্প শুরু হলো।

অধ্যায় ২: নতুন বন্ধুত্ব

পরের কয়েকদিনে তারা প্রায়ই দেখা করতে লাগল লাইব্রেরিতে।


 

আরিফ বই খুঁজে দিত, আর নীলা পড়াশোনার মাঝে মাঝে গল্প করত।


 

একদিন নীলা বলল

— “তুমি কি জানো, আমি ছোটবেলা থেকে শিক্ষক হতে চাই।”


 

আরিফ হেসে বলল

— “তাহলে আমি তোমার স্কুলে প্রথম ছাত্র হব।”

দুজনেই হেসে উঠল।

বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে গভীর হতে লাগল।

অধ্যায় ৩: অজানা অনুভূতি

সময় কেটে যেতে লাগল।

একদিন বিকেলে তারা ক্যাম্পাসের পুরনো আমগাছের নিচে বসেছিল।

নীলা বলল

— “কিছু মানুষ আছে যারা জীবনে খুব হঠাৎ আসে, কিন্তু মনে হয় অনেকদিনের পরিচিত।”


 

আরিফ তাকিয়ে বলল

— “তুমি কি এমন কাউকে পেয়েছ?”


 

নীলা একটু হাসল।

— “হয়তো পেয়েছি।”

আরিফের মনে তখন এক অদ্ভুত অনুভূতি জন্ম নিচ্ছিল।

অধ্যায় ৪: বৃষ্টিভেজা বিকেল

একদিন হঠাৎ প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হলো।

তারা দুজনেই লাইব্রেরির বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।

বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছিল মাটিতে, আর বাতাসে ভেসে আসছিল মাটির গন্ধ।


 

আরিফ বলল

— “নীলা, যদি একদিন তুমি দূরে চলে যাও?”
 

নীলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল

— “তাহলে স্মৃতি তো থাকবে।”

অধ্যায় ৫: স্বপ্নের কথা
 

একদিন বিকেলে তারা নদীর ধারে হাঁটছিল।

নীলা বলল

— “আমি চাই গ্রামে একটা স্কুল করতে, যেখানে গরিব বাচ্চারা পড়তে পারবে।”
 

আরিফ বলল

— “আমি সেই স্কুলের জন্য কাজ করব।”
 

তারা তখনও বুঝতে পারেনি, তাদের স্বপ্ন এক হয়ে যাচ্ছে।
 

অধ্যায় ৬: ভালোবাসার উপলব্ধি
 

দিন যত যাচ্ছিল, তারা বুঝতে পারছিল একে অপরকে ছাড়া জীবন কল্পনা করা কঠিন।

কিন্তু কেউই মুখে ভালোবাসার কথা বলতে পারছিল না।
 

একদিন আরিফ সাহস করে বলল—
 

— “নীলা, তুমি আমার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ।”
 

নীলা চোখ নামিয়ে বলল—

— “তুমিও।”

অধ্যায় ৭: হঠাৎ বিদায়

একদিন নীলা দুঃখের খবর দিল।

তার বাবা বিদেশে চাকরি পেয়েছেন। পরিবারসহ তাকে চলে যেতে হবে।

এই খবর শুনে আরিফ যেন স্তব্ধ হয়ে গেল।
 

বিদায়ের দিন নীলা বলল—
 

— “আমাকে ভুলে যেও না।”

আরিফ বলল—

— “আমি অপেক্ষা করব।”
 

অধ্যায় ৮: অপেক্ষার বছরগুলো

পাঁচ বছর কেটে গেল।

আরিফ এখন একটি ছোট স্কুল চালায় গ্রামে। গরিব শিশুদের পড়ায়।


 

কিন্তু প্রতিদিন সন্ধ্যায় সে আকাশের দিকে তাকিয়ে নীলাকে মনে করে।

অধ্যায় ৯: স্মৃতির শহর

একদিন পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গেল আরিফ।

সেই লাইব্রেরি, সেই গাছ—সব একই আছে।


 

শুধু নীলা নেই।

অধ্যায় ১০: আবার দেখা


 

একদিন স্কুলে ক্লাস নিচ্ছিল আরিফ।

হঠাৎ দরজায় কেউ দাঁড়িয়ে।

সে তাকিয়ে দেখল—

নীলা।

চোখে সেই একই হাসি।



 

অধ্যায় ১১: নতুন সূচনা


 

নীলা বলল—


 

— “আমি দেশে ফিরে এসেছি। আর তোমার স্বপ্নের স্কুলে কাজ করতে চাই।”


 

আরিফ অবাক হয়ে বলল—


 

— “এই স্কুল তো তোমার স্বপ্নও ছিল।”



 

অধ্যায় ১২: চিরন্তন ভালোবাসা



 

গ্রামের সেই স্কুলে এখন অনেক শিশু পড়ে।

আরিফ ও নীলা একসাথে কাজ করে।

একদিন বিকেলে তারা স্কুলের মাঠে দাঁড়িয়ে ছিল।

আকাশে নীল রঙ ছড়িয়ে ছিল।
 

আরিফ বলল—


 

— “তুমি কি জানো, আমি এখনও তোমাকে ভালোবাসি।”


 

নীলা হাসল।


 

— “আমি তো কখনও ভুলিনি।”


 

নীল আকাশের নিচে তাদের ভালোবাসা চিরন্তন হয়ে রইল।


 

Comments

    Please login to post comment. Login