অস্বাভাবিক মৃত্যুই যেন আজ স্বাভাবিক নিয়ম,
জবাবদিহিতা নেই কোথাও—হোক না যত অনিয়ম।
বেআইনি ঘটনা বারবার ঘটে, তবু নেই কারো দায়,
দুর্ঘটনা নামের খোলস পরে সব অপরাধ ঢাকা যায়।
বাসে উঠি—ভয়টা জাগে, নদী ডাকে শেষে,
লঞ্চে পা দিতেই দেখি মৃত্যু দাঁড়ায় পাশে।
প্রাইভেট কারে বসে ভাবি—চলছি বুঝি নির্ভাবনায়,
জীবনপ্রদীপ নিভে যায় তখন পেছন ট্রাকের ধাক্কায়।
সিএনজিতে উঠলেই আবার বুকের ভেতর ভয়,
বার্স্ট হয়ে ছিন্নভিন্ন—নাকি চাকার তলায় ক্ষয়।
এসব ছেড়ে হাঁটতে গেলে রাস্তাও দেয় না ছাড়,
মাথায় পড়ে দালানের ইট, ধসে পড়ে দালানভার।
চায়ের কাপে শান্তি খুঁজি, দাঁড়াই ক্ষণিক কোণে,
ফ্লাইওভারের বিয়ারিং প্যাড মাথা ফাটায় তক্ষণে।
রক্তাক্ত সেই স্তব্ধ দেহে থেমে যায় সব শব্দ,
মানুষ শুধু তাকিয়ে থাকে—নেই প্রতিবাদের শব্দ।
সন্তান আমার স্কুলে যায় স্বপ্ন ভরা হাসি নিয়ে,
বিমানধ্বসে জীবন কেড়ে নেয় আগুনস্রোতে কাঁদিয়ে।
ছোট্ট দেহে আগুন জ্বলে, ছুটে বেড়ায় প্রাণ,
এই কি তবে ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জ্ঞান?
কারখানাতে যাই যে রোজ, ঘামে ভেজাই দিন,
আগুনে পুড়ে রুদ্ধশ্বাসে—শেষ হয় জীবনচিন।
ইটের নিচে চাপা পড়ে হাজারো স্বপ্নসুর,
শ্রমিক তখন সংখ্যাই হয়—কিসের জীবন ধুর!
ঘরেও যদি থাকি তবে, তবু কোথায় রেহাই?
গ্যাসের সিলিন্ডার বিকট ফেটে—মৃত্যুই নেয় ঠাঁই।
নন্দলালের মতো ভাবি—বের হবো না আর,
তবু ঘরের ভেতর মৃত্যু ঘনায় খুলে দুর্ঘটনার দ্বার।
এই দেশে আজ স্বস্তিতে যে বাঁচাই বড় দায়ের
স্বাভাবিক মৃত্যুটাই যেন অস্বাভাবিক ভয়ের।
আকাশ, বাতাস, পথঘাট আর নদী-সাগর জলে,
মৃত্যু শুধু পিছু নেয় যেন প্রতিটি কোলাহলে।
আপনি গেলে কাঁদবো রেখে ক’দিন চোখে জল,
ছবি দেখে দীর্ঘশ্বাস-থেমে যায় সব কলকল।
আজ আপনি, কাল যে আমি—এই তো জীবনফেরী,
তবু কেন থামে না এই অকাল মৃত্যুর সারি?
প্রশ্ন থাকে বুকের ভেতর—জবাব কোথায় পাই?
এ দেশ যেন মৃত্যুপুরী—বাঁচার পথটা নাই।
তবু আশা মরে না যে, মানুষ বাঁচতে চায়,
আঁধার কেটে একদিন ঠিক আলো ফিরে পায়।