শোনো,
আজ রাতে চাঁদটা যেন একটু বেশিই কাছে—
মনে হচ্ছে, তোমার মতোই
নীরবে আমাকে ছুঁয়ে দিচ্ছে…
তুমি কি দেখছো?
নাকি আমার মতোই
তুমিও শুধু আমাকে ভাবছো?
জানো,
এই নরম জোস্নার আলোয়
বারবার মনে হচ্ছে—
তুমি যদি এখন পাশে থাকতে…
কিছু না বলেই
আস্তে করে যদি হাতটা ধরতে
আমি আর কিছুই চাইতাম না।
এই যে গায়ের পথটা—
দিনে কত সাধারণ, কত চেনা…
কিন্তু আজ?
আজ যেন সবকিছু বদলে গেছে।
জোস্না ছুঁয়ে একে
অপূর্ব সুন্দর করে তুলেছে—
ঠিক তোমার মতো।
আমরা যদি একসাথে হাঁটতাম,
খুব ধীরে…
তুমি হয়তো চুপ করে থাকতে,
আর আমি চুরি করে
তোমার হাতটা আরও শক্ত করে ধরতাম।
বলতো,
ছাড়াতে পারতে কি?
শুনছো?
ঝিঁঝিঁ পোকার এই নরম ডাক—
মনে হচ্ছে ওরাও বুঝি
তোমার কথাই গানে গানে বলছে…
আমি মাঝে মাঝে থেমে যাই,
চুপ করে চোখ বন্ধ করি…
ভাবি—
তুমি কি আমার নামটা
এই নীরবতার গানে শুনতে পাচ্ছো?
তুমি হাসলে কেমন লাগে জানো?
এই আধো আলো আধো ছায়ায়
তোমার সেই হাসিটা কল্পনা করলেই
আমার চারপাশটা আলোকিত হয়ে যায়…
চাঁদের আলোও যেন
তোমার হাসির কাছে ম্লান হয়ে যায়।
আজ এই জোস্না রাতে যদি তোমায় পেতাম
হয়তো গল্প শুরু হতো,
তারপর ধীরে ধীরে
কবিতায় মিশে যেতাম…
তারপর একসময়
কথাগুলো হারিয়ে যেত—
শুধু অনুভূতিগুলো রয়ে যেত,
তোমার আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে
বলতো,
এভাবে যদি একটা রাত কেটে যায়—
ভোরটা কি সত্যিই দরকার?
আমি তো চাইতাম—
সময়টা থেমে যাক,
এই জোস্নার ভেতর,
তোমার হাতের উষ্ণতায়,
আমার নিঃশব্দ ভালোবাসায়…
শুধু তুমি আর আমি—
আর কিছু না।
তুমি কি এমনটাই চাও?
নাকি শুধু আমি-ই
প্রতিটি জোস্না রাতে
তোমাকে এতটা অনুভব করি…
আর প্রতিটি জোস্না ভেজা রাতে—
তোমাকে বড্ড ভালোবেসে ফেলি।