চারু,
তব রূপাবলীর নিঃশব্দ নিমগ্নতায়
আমি এক অন্তঃস্রোত—
অলক্ষ্য সুরে ভেসে যাই,
যেন চৈত্র-সন্ধ্যার মোহময় আলো
ধীরে ধীরে মাটির কোলে মিলিয়ে যায়।
প্রভাতের প্রথম অরুণিমা যেমনি
মৃদু আভায় নিজেকে বিলিয়ে দেয় অমর মাধুর্যে,
তেমনি তব সৌন্দর্যে আমি অবলীলায় লীন।
তব নয়নের অতল গহ্বরে
নেই কেবল আকাশের নীল—
আছে এক নিসর্গের গোপন হাসি,
যেখানে চোখ থমকে যায় রঙের রহস্যময় ছটায়,
আর সময় নিজেকে জড়িয়ে রাখে এক গভীর মায়ায়।
তব স্পর্শে ধূলিও হয়ে ওঠে স্নিগ্ধ সুরভি,
বাতাস নেমে আসে স্বর্গীয় লহরীর মতো,
আর নিসর্গ স্বীকার করে—
নিজের নিভৃত সৌন্দর্য তুমি।
তব রূপ—
নয় কোনো দৃশ্যমান অবয়ব, নয় কোনো ভাষার আবরণ;
যেন এক অন্তঃসলিলা লাবণ্য,
যার স্রোতে ভাসিয়ে বেড়ালে
ফিরবার পথও হারিয়ে যায়।
আমি প্রতিনিয়ত বিলীয়মান—
তব কান্তির মৃদু দীপ্তি,
অরূপ রূপের অব্যক্ত সুরে,
রহস্যময় মাধুর্যের অন্তর্লোকে;
এই বিলয় কোনো ক্ষয় নয়—
এ এক নবজন্মের নীরব উদ্ভাস।
তব সৌন্দর্যে অবগাহন মানে—
স্বীয়সত্তার অন্তঃস্থলে
এক অপরূপ, অদৃশ্য ছোঁয়া।