এই পৃথিবীটা বড় অদ্ভুত—
কখনো কখনো ভেবে কূল পাওয়া যায় না।
ছোট্ট থেকে বড় হতে হতে
জীবনের ভিড়ে কত মুখ এসে ভিড় করেছে—
কত নাম, কত হাসি, কত গল্প
নিঃশব্দে মিশে গেছে পরিচয়ের ভিড়ে।
কেউ কেউ ছিল এমন—
যাদের ছাড়া এক মুহূর্তও
শ্বাস নেয়ার কথা ভাবা যেত না,
তাদের উপস্থিতি ছিল
আমার পুরো পৃথিবী জুড়ে।
অথচ আজ—
দিন যায়, বছর যায়,
তাদের কোনো খোঁজ নেই,
তবুও হঠাৎ হঠাৎ
তারা ফিরে আসে স্মৃতির ভেতর—
অকারণে, অব্যাখ্যাতভাবে।
একলা হাসি আসে নিঃশব্দে,
কখনো কোথাও ভেতরে
চোখ ভিজে ওঠে হালকা।
ছোট্টবেলার বন্ধু,
স্কুলের সেই ধুলোভরা মাঠ,
কলেজের করিডোরের হাসি-ঠাট্টা,
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাতজাগা গল্প—
সবাই কোথায় যেন হারিয়ে গেছে
সময় নামের নীরব নদীতে।
কত সহজে বদলে যায় জীবন,
কত সহজে মুছে যায়
“অপরিহার্য” শব্দটার অর্থ—
যাদের ছাড়া বাঁচা যেত না,
তাদের ছাড়া এখন
বেঁচে থাকাই হয়ে গেছে স্বাভাবিক।
এটা কি সত্যিই ভুলে যাওয়া?
না কি কেবল বেঁচে থাকার অভ্যাস?
সবকিছু এত আপেক্ষিক—
আজ যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,
কালই হয়তো তার কোনো মানে থাকে না।
তবুও আমরা আঁকড়ে ধরি—
রাগ, অভিমান, ভালোবাসা, হিংসা—
যেন এগুলোই চিরস্থায়ী সত্য।
আর সময়?
সে চুপচাপ বদলে দেয় সবকিছু,
কিছু না বলেই
সবকিছুকে পাঠিয়ে দেয় অতীতে।
শুধু থেকে যায়—
একটা নীরব অনুভব,
যা হঠাৎ জেগে ওঠে
কোনো অচেনা দুপুরে—
আর মনে করিয়ে দেয়,
সবকিছুই ছিল,
সবকিছুই আছে—
শুধু রূপ বদলে গেছে।
তবুও হঠাৎ আমি স্মৃতির ভেতর হাতড়াই—
পুরোনো অনুভবের ভিড়ে খুঁজি নিজেকে—
আর নিঃশব্দে বুঝি,
বর্তমানটা কেটে যায় হেলাতেই।