এই পৃথিবীটা… সত্যিই বড় অদ্ভুত।
কখনো কখনো মনে হয়, আমি কিছুই বুঝতে পারি না।
ছোট্ট থেকে বড় হতে হতে কত মানুষ এল জীবনে…
কত মুখ, কত নাম, কত সম্পর্ক।
পরিবারের বাইরে—আত্মীয়, বন্ধু, সহপাঠী…
কত শত মানুষ।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল এমন…
যাদের ছাড়া একটা সময় এক মুহূর্তও কল্পনা করা যেত না।
মনে হতো—এরা না থাকলে জীবনটাই থেমে যাবে।
কিন্তু… এখন?
এখন তো দিব্যি বেঁচে আছি তাদের ছাড়াই।
আশ্চর্য না?
হঠাৎ হঠাৎ তাদের খুব মনে পড়ে।
কোনো কারণ ছাড়াই।
মাঝে মাঝে একা হাসি…
আবার কখনো চোখ ভিজে যায়।
কত গভীর ছিল সেই সম্পর্কগুলো—
তখন বুঝতেই পারিনি।
ছোট্টবেলার বন্ধুদের কথা মনে পড়ে…
সারাদিন-রাত একসাথে খেলা, ঝগড়া, আবার আবার মিলে যাওয়া।
কারো সাথে এত মিল ছিল,
মনে হতো এক মুহূর্তও তাকে ছাড়া থাকা যাবে না।
অথচ আজ…
বছরের পর বছর তার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই।
সে কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানি না।
ইচ্ছে করলে জানা সম্ভব…
কিন্তু সেই “ইচ্ছে”টা আর আগের মতো জোরালো নেই।
এই তো সেদিনের কথা মনে হয়—
তার জন্য বাসায় কত বকা খেয়েছি,
কত কেঁদেছি…
তারপর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়…
সব জায়গায় আলাদা আলাদা মানুষ।
প্রত্যেক জায়গায় মনে হয়েছে—
“এই মানুষগুলো ছাড়া আমি কিভাবে থাকব?”
কিন্তু সময়…
সে খুব নীরবে সব বদলে দেয়।
সম্পর্কগুলো জমে ওঠে—
হাসি, কান্না, রাগ, অভিমান, ঝগড়া…
সবকিছু একসাথে।
তারপর হঠাৎ…
সব হয়ে যায় অতীত।
মাত্র কয়েকদিন আগের ঘটনাও
মনে হয় যেন শত বছর আগের গল্প।
মানুষ কি সত্যিই ভুলে যায়?
নাকি শুধু বেঁচে থাকার জন্য নিজেকে মানিয়ে নেয়?
নতুন মানুষ আসে, নতুন জীবন আসে…
আর পুরোনো মানুষগুলো ধীরে ধীরে
স্মৃতির ভেতরে জায়গা করে নেয়।
আশ্চর্য লাগে না?
আজ যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে—
কাল হয়তো তার কোনো মানেই থাকবে না।
তবুও আমরা আঁকড়ে ধরি…
রাগ, অভিমান, হিংসা, ভালোবাসা…
যেন এগুলোই চিরস্থায়ী।
কিন্তু সময়…
সে কারো জন্য থামে না।
সব আপেক্ষিক হয়ে যায় ধীরে ধীরে।
সবকিছু বদলে যায় নীরবে।
আর আমরা?
আমরা শুধু ফিরে যাই অতীতে…
কিছুক্ষণ সেখানে থাকি…
হাসি, কাঁদি…
তারপর আবার ফিরে আসি বর্তমানের ভেতরে।
কিন্তু বর্তমানটা—
সে কি সত্যিই ধরা থাকে?
না কি…
সে হেলাতেই কেটে যায়?