জীবনের ৩০টা বছর পেরিয়ে আজ ও মিষ্টি নামের মেয়েটি বড়োই একা। বাবা মা এর অতি আদরের মেয়েটি জীবন যুদ্ধ করেই চলেছে।মা কে হারিয়েছে আজ ৭ টা বছর হলো আর বাবাকে হারিয়েছে ৩ বছর। মা কে হারানোর পর বাবাই ছিল তার সবচেয়ে আপন। যদিও ছোটবেলা থেকে তার বাবা আর মায়ের মাঝেই ছিল তার পুরো দুনিয়াটা। তার বাবা তাকে খুব ই যত্নে বড়ো করেছে আর মা ও বড়োবেলা তে ও আল্লাদ করেছে।এত সুখ কি আর কপালে সয়।এই তো সেই বছর রোজার মাসে মিষ্টির মা অসুস্থ ছিল সবেই হোস্টেল থেকে ছুটি তে এসেছে মিষ্টি কে জানতো ওই রোজায় সে তার মা কে হারাবে চিরতরে। মা মিষ্টি কে এত যত্ন করতো যে হোস্টেল থেকে আসলে বিছানায় খাবার দিয়ে যেত পারলে খাইয়ে ও দিতো। সেই রোজার মধ্যে মিষ্টির মা অনেক অসুস্থ ঠিকমতো সেহরীতে খেতে পারতোনা তবু ও রোজা সে বাদ দিবেনা, মিষ্টির ভাই না করেছে মিষ্টির মা কে রোজা রাখতে তবু ও সে রাখবে, মিষ্টি কে ওর মা অনুরোধ করে বড়ো কষ্টে বলেছে আমাকে সেহরিতে ডাকিস মা। মিষ্টি খুব ই চিন্তায় পড়েছে মা কে ডক্টর দেখাতে হবে এসব ভাবছিলো। একবারে উঠলো সেহরী তে। উঠেই মা এর কথা মনে পড়লো মা কে ডাকতে হবে নাহলে সারাদিন মা আফসোস করবে আর কষ্ট পাবে। তাই মা কে ডাকতে গেলো মিষ্টি মা ২বার ডাকেই সজাগ হলো। ভোর রাত ই শুধু দুধ ভাত খেলো। মিষ্টির ভাই মিষ্টি কে রাগ করছিলো কেন মা কে ডাকছে এটা তে মিষ্টির মা মিষ্টির ভাই কে রাগ করলো আর বুঝালো সেই ডাকতে বলেছে। সেই যে সেহরিতে মা কে দেখলো ওটাই যেন মা কে জীবিত দেখেছিলো মিষ্টি। ফজর নামাজ পরে সবাই ঘুম। মিষ্টির হঠাৎ ভোরের দিকে মুখের এক অদ্ভুত আওয়াজে ঘুম ভাঙলো। সে খেয়াল করলো এটা ওয়াশরুম থেকে আসছে। সে ভয়ে ভয়ে বাথরুম এর দিকে আগালো যা দেখলো তা দেখে সে হতভম্ব। সে দেখলো তার মা বাথরুম এর মেঝে তে উপুড় হয়ে বসা অবস্থায় মুখ মেঝে তে ঠেসে পরে আছে আর পানিতে শব্দ হচ্ছে মুখে। মিষ্টি দৌড়ে মা কে উঠানোর চেষ্টা করছে বহু কষ্টে মা কে একটু সরিয়ে বসার মতো করেছে আর মা মা বলে ডাকছে মা তো পুরাই অচেতন। সে পরে ভাই কে ডেকেছে মা কে উঠানোর জন্য। অতক্ষনে মিষ্টি বাবা ভাই ভাবি সবাই চলে এসেছে মা কে বাথরুম থেকে বের করা হলো।মিষ্টির মা কে বাবার কোলে মাথা রেখে শোয়ানো হলো। মিষ্টির বাবা ভাইয়া কে ডাক্তার আনতে পাঠালেন আর মিষ্টি কে বললেন হার্টবীট দেখতে পালস দেখতে। প্যারামেডিকেল স্টুডেন্ট হওয়াতে হয়তো বলেছিলো মিষ্টিকে। মিষ্টি কেমন যেন বোধশূন্য হয়ে গিয়েছিলো সেই মুহূর্তে পরে অনেক কষ্টে মা কে দেখলো কিন্তু সে তার মা এর পালস, বীট কিছুই পায়নি। সে এটা তে এত ভয় পেলো যে পাথর হয়ে গেলো মুহূর্তেই। সবাই ওর মা কে বেড এ সোয়ালো। ডাক্তার আসলো সে শুধু বললো সদর এ গিয়ে ইসিজি করেন মিষ্টি বুঝে গিয়েছিলো তবু ও আল্লাহ সব পারেন এই বিশ্বাস থেকে শুধু আল্লাহর নাম নিচ্ছিলো কিন্তু উপরওয়ালা তার প্রিয় বান্দা কে নিয়ে গেছেন বহুক্ষন আগেই….