Story

মায়াময় জীবন

May 9, 2026

138 views

বর্ষার বিকেল। আকাশজুড়ে ধূসর মেঘ, হালকা বৃষ্টি পড়ছে টিনের চালের উপর। কালীগঞ্জ গ্রামের ছোট্ট এক বাড়ির বারান্দায় বসে ছিল মায়া। তার হাতে পুরোনো একটি ডায়েরি, যার পাতাগুলো হলুদ হয়ে গেছে সময়ের ছোঁয়ায়। মায়ার জীবনটা ছিল অদ্ভুত সুন্দর, আবার কষ্টে ভরা। ছোটবেলায় বাবা হারিয়েছিল, তারপর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। কিন্তু মায়া কখনো হাসি হারায়নি। গ্রামের মানুষ তাকে ডাকত “মায়াময়ী মেয়ে” বলে। কারণ, সে যার সাথেই কথা বলত, তার মন ভালো হয়ে যেত। একদিন গ্রামের স্কুলে নতুন শিক্ষক এলেন—নাম রিয়াদ। শান্ত স্বভাবের মানুষ, বই পড়তে ভালোবাসতেন। প্রথম দিন থেকেই তিনি লক্ষ্য করলেন, স্কুল শেষে মায়া ছোট ছোট বাচ্চাদের বিনা টাকায় পড়ায়। রিয়াদ একদিন জিজ্ঞেস করলেন, — “তুমি এত কষ্ট করো কেন?” মায়া মৃদু হেসে বলল, — “জীবন যদি শুধু নিজের জন্য হয়, তাহলে সে জীবন মায়াময়ী হয় না।” কথাটা রিয়াদের হৃদয়ে গেঁথে গেল। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হলো। সন্ধ্যায় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে তারা গল্প করত, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখত। কিন্তু সুখ যেন মায়ার জীবনে বেশিদিন থাকেনি। এক বর্ষার রাতে প্রচণ্ড ঝড়ে তাদের ঘর ভেঙে যায়। গ্রামের মানুষ যখন নিজেদের ঘর বাঁচাতে ব্যস্ত, তখন মায়া অন্যদের সাহায্য করছিল। সেই রাতেই আহত হয় সে। পরদিন সকালে পুরো গ্রাম তার বাড়ির সামনে জড়ো হলো। মায়া দুর্বল কণ্ঠে বলল, — “মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় সম্পদ নেই…” তার চোখের কোণে জল চিকচিক করছিল, কিন্তু মুখে ছিল আগের মতোই শান্ত হাসি। কয়েক মাস পরে মায়া সুস্থ হয়ে ওঠে। গ্রামের মানুষ মিলে একটি ছোট স্কুল তৈরি করে, যার নাম দেয় — “মায়াময়ী জীবন বিদ্যালয়”। বছর কেটে যায়। রিয়াদ স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে নতুন ছাত্রদের বলেন, — “এই স্কুল শুধু পড়াশোনা শেখায় না, মানুষকে ভালোবাসতেও শেখায়।” আর দূরে, কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে মায়া হাসছিল। তার জীবন হয়তো সহজ ছিল না, কিন্তু সেটি ছিল সত্যিই এক মায়াময়ী জীবন।

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login

  • MOYEN BISASS 4 months ago

    খুব ভালো একটি গল্প