Fiction

নীরব-৯

May 12, 2026

Original Author লামিম পাইক

128 views


পৃথিবীর শেষ শহরটার নাম ছিল “নীরব-৯”।
এখানে কেউ কাঁদত না।
কারণ বিজ্ঞানীরা বহু বছর আগে মানুষের মস্তিষ্ক থেকে দুঃখের অংশটুকু মুছে দিয়েছিল।
শুরুতে সবাই খুব খুশি হয়েছিল।
বিচ্ছেদে কেউ ভাঙত না, মৃত্যুর পর কেউ রাত জেগে থাকত না, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে কেউ ছাদে বসে আকাশ দেখত না।
মানুষ শুধু কাজ করত, ঘুমাত, বেঁচে থাকত।
রাষ্ট্র বলেছিল,
“এটাই মানবজাতির সবচেয়ে বড় উন্নতি।”
কিন্তু কয়েক বছর পর একটা অদ্ভুত সমস্যা দেখা দিল।
মানুষ স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দিল।
কেউ কবিতা লিখত না।
কেউ প্রেমে পড়ত না।
কেউ বৃষ্টির শব্দ শুনে থেমে যেত না।
শিশুরা আকাশ দেখে প্রশ্ন করত না আর।
সবাই ঠিকঠাক বেঁচে ছিল,
কিন্তু কেউ জীবিত ছিল না।
তারপর একদিন শহরের পুরোনো আর্কাইভে একটা ছেলে নিষিদ্ধ একটা জিনিস খুঁজে পেল।
একটা মানুষের স্মৃতি।
স্মৃতিটা ছিল খুব সাধারণ।
একজন মানুষ রাতে একা বসে আছে।
তার প্রিয় মানুষটা চলে গেছে।
সে কাঁদছে।
তারপর জানালার বাইরে বৃষ্টি দেখে হালকা হেসে ফেলছে।
ছেলেটা প্রথমবার বুঝল,
ব্যথার ভেতরেও সৌন্দর্য থাকে।
সেই রাতেই সে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সার্ভারে ঢুকে পুরো শহরে সেই স্মৃতিটা ছড়িয়ে দিল।
পরদিন সকালে অদ্ভুত ঘটনা ঘটল।
হাজার হাজার মানুষ ঘুম থেকে উঠে বুকের ভেতর অচেনা ভার অনুভব করল।
কেউ হঠাৎ পুরোনো কাউকে মনে করে কেঁদে ফেলল।
কেউ অফিসে যেতে যেতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেমে গেল।
কেউ প্রথমবার বুঝল, সে আসলে একা।
রাষ্ট্র এটাকে “ভাইরাস” বলল।
কিন্তু মানুষেরা বহু বছর পর প্রথমবার নিজেদের মানুষ মনে করতে শুরু করল।
সেদিন রাতেই শহরের এক কোণে একটা মেয়ে বহু বছর পর প্রথম কবিতাটা লিখেছিল।
“আমাদের হৃদয় ঠিক করার চেষ্টা করতে গিয়ে
তোমরা ভুলে গিয়েছিলে,
ভাঙতে পারার ক্ষমতাটাও মানুষেরই অংশ।”

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login