ছোটবেলার একটা ছবি আছে আমার,
হাফপ্যান্ট পরা, চোখে অবাক ভাব।
মাঝে মাঝে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকি।
ওর সঙ্গে আজ আমার কিছুই মেলে না,
না শরীর, না ভয়, না স্বপ্ন।
তবু ভেতর থেকে কে যেন বলে, ওটা তুমি।
কে বলে, আমি আজও জানি না।
নাম ধরে ডাকলে ফিরে তাকাই,
অথচ নামটা অন্যের দেওয়া।
হাত কেটে গেলেও আমি থেকে যাব, এটুকু বুঝি।
কিন্তু ঠিক কী থেকে যাব, বলতে গেলেই কথা হারিয়ে ফেলি।
রাত তিনটেয় হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে
মনে হয়, ঘরে আমি একা নই।
কেউ একজন জেগে আছে আমার জেগে থাকার ভেতরে।
রাগ করলে সে দেখে, মিথ্যা বললে দেখে,
আর লজ্জা পেলে সবার আগে লজ্জা পায় সে।
কেউ চলে গেলে সবাই বলে, শরীরটা গেছে।
কিন্তু মানুষটা তার শরীরের চেয়ে বেশি ছিল।
তার হাসির ভেতরে যা ছিল, কোনো যন্ত্রে ধরা যায় না,
তবু ঘরটা আজও তার অভাবে একটু ভারী।
লোকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, রূহ কী?
জবাব এসেছিল, ওটা আমার রবের বিষয়।
প্রথমে মনে হয়েছিল, এ তো দরজা বন্ধ করে দেওয়া।
এখন মনে হয়, এর চেয়ে সৎ উত্তর আর হয় না।
শরীরটা আমার ভাড়া করা ঘরের মতো।
ডাক এলে চাবি ফিরিয়ে দেব।
ভাড়াটে তখন শুধু ঠিকানা বদলাবে, এটুকুই ভাবি।
কোথায় যাব জানি না, আর জানার ভান করতেও ইচ্ছে করে না।
শুধু জানি, যে এত ভালোবেসেছে, এত কষ্ট পেয়েছে,
সে কখনও শুধু হাড় আর মাংস ছিল না!