কিছু কিছু রাত
মানুষকে ভেতর থেকে নিঃশব্দে ভেঙে দেয়।
তখন কান্নাও শব্দ করে আসে না,
শুধু বুকের ভেতরটা
অদ্ভুত ভারী হয়ে থাকে।
মনে হয়—
জীবন বুঝি আর আগের মতো হবে না।
যা হারিয়ে গেছে,
তা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
আকাশও বুঝি বন্ধ করে দিয়েছে
তার সমস্ত দরজা।
মানুষ তখন আকাশের দিকে তাকায়,
কিন্তু দোয়া করতে গিয়েও থেমে যায়।
কী বলবে?
কীভাবে বলবে?
কোন ভাষায় নিজের ভাঙাচোরা মন
আল্লাহর সামনে খুলে রাখবে?
তবু দেখো,
রব কখনো ক্লান্ত হন না
ভাঙা মানুষের কান্না শুনতে।
তুমি যখন গভীর রাতে
চোখ মুছতে মুছতে ঘুমিয়ে পড়ো,
তিনি তখনও
তোমার নাম জানেন,
তোমার কষ্ট জানেন,
তোমার না-বলা কথাগুলোও জানেন।
আর ঠিক তখনই
অদৃশ্য কোনো মমতা
নরম করে ছুঁয়ে যায় তোমাকে।
তুমি খেয়াল করো—
এখনো সকাল হয়,
এখনো বাতাস এসে
তোমার ক্লান্ত মুখে হাত রাখে,
এখনো কেউ একজন
তোমার জন্য নিঃশব্দে দোয়া করে।
এই যে তুমি এখনো
সবকিছুর পরেও বেঁচে আছো—
এটাও তো রহমত।
তুমি এখনো অনুভব করো—
এটাও রহমত।
তুমি এখনো আল্লাহকে ডাকতে পারো—
এটাই সবচেয়ে বড় রহমত।
সব শেষ হয়ে গেলে
মানুষ আর আল্লাহকে ডাকে না।
কিন্তু তুমি এখনো ডাকো।
কাঁদতে কাঁদতে হলেও ডাকো।
এর মানে—
তোমার ভেতরে এখনো আলো বেঁচে আছে।
হয়তো আজ তোমার জীবন
এলোমেলো, ক্লান্ত, দিশেহারা।
হয়তো কেউ বুঝছে না
তোমার নীরব যুদ্ধগুলো।
তবু বিশ্বাস রেখো—
আল্লাহ কখনো
কারো অশ্রু বৃথা যেতে দেন না।
একদিন এই দীর্ঘ অন্ধকার পেরিয়ে
তুমিও শান্ত একটা সকালে দাঁড়াবে।
পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখবে—
যে রাতগুলো তোমাকে কাঁদিয়েছে,
সেই রাতগুলোই
তোমাকে আল্লাহর আরো কাছে নিয়ে গেছে।
তাই এখনই হেরে যেও না।
নিজেকে শেষ ভেবো না।
অন্ধকারকে চিরস্থায়ী মনে কোরো না।
কারণ রাত যত গভীরই হোক,
ফজর আসতে কখনো ভুল করে না।
আর তোমার গল্পও
এখানেই শেষ নয়।
কারণ
তুমি এখনো
আল্লাহর রহমতের ভেতরেই আছো।