ছবিটার দিকে তাকালে হয়তো প্রথমে খুব সাধারণ একটা দৃশ্যই মনে হবে। ছোট্ট একটা শিশু বিছানায় বসে আছে, আর তার সামনে বসে কেউ একজন তাকে নিয়ে মগ্ন হয়ে আছে।
কিন্তু ছবির ভেতরে লুকিয়ে আছে এক গভীর ভালোবাসার গল্প।
ছবির ছোট্ট শিশুটির নাম মুয়াজ।
যখন মুয়াজ জন্ম নেয়, তখন হাসপাতালের ব্যস্ত পরিবেশে পরিবারের মধ্যে সবার আগে যে মানুষটি তাকে কোলে নিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন তার বড় মামী। ডাক্তার নবজাতক মুয়াজকে প্রথম তাঁর হাতেই তুলে দিয়েছিলেন। পৃথিবীর আলো দেখার পর পরিবারের প্রথম স্পর্শ, প্রথম আদর, প্রথম নিরাপদ আশ্রয়গুলোর একটি ছিল সেই বড় মামীর স্নেহমাখা কোল।
অনেক সময় রক্তের সম্পর্কের চেয়েও মায়ার সম্পর্ক বড় হয়ে ওঠে। মুয়াজের বড় মামীও তাকে ঠিক নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসতেন। তাকে কোলে নেওয়া, আদর করা, তার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকা—এসব ছিল তাঁর প্রতিদিনের আনন্দের অংশ।
ছবিটি তোলা হয়েছিল মুয়াজের জীবনের প্রথম ঈদের সময়। সেদিন সে মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। ছোট্ট মুয়াজ বিছানায় বসেছিল, আর তার বড় মামী তার সামনে বসে তাকে নিয়ে খেলছিলেন। ছবিটা দেখলেই বোঝা যায়, তিনি যেন চারপাশের সবকিছু ভুলে শুধু শিশুটির মধ্যেই ডুবে আছেন। আর মুয়াজও তার নিষ্পাপ চোখে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে।
শিশুরা হয়তো সম্পর্কের নাম জানে না, কিন্তু ভালোবাসা চিনতে পারে।
তাই হয়তো সেদিনও মুয়াজের চোখ বারবার গিয়ে থেমেছিল সেই মানুষটার মুখে, যে তাকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় আগলে রেখেছিল।
কিন্তু সময়ের নিজস্ব নিয়ম আছে।
একদিন যে মানুষটি মুয়াজকে প্রথম কোলে নিয়ে পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি নিজেই পৃথিবীর সব পরিচয় ছেড়ে চলে গেছেন তাঁর রবের কাছে।
আজ তিনি আল্লাহর মেহমান।
তবুও তাঁকে যারা ভালোবাসত, তাদের কাছে তিনি হারিয়ে যাননি।
কারণ কিছু মানুষ মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকেন স্মৃতির ভেতর, ভালোবাসার ভেতর, আর পুরোনো ছবিগুলোর ভেতর।
আজও যখন এই ছবিটা দেখা হয়, তখন মনে হয়—বড় মামী যেন ঠিক সেখানেই আছেন। ছোট্ট মুয়াজের সামনে বসে আছেন, তার সঙ্গে খেলছেন, তার হাসিতে হাসছেন।
ছবিটা তখন আর শুধু একটা ছবি থাকে না; হয়ে ওঠে ভালোবাসার একটি দলিল, স্মৃতির একটি জানালা।
আর সেই জানালার ওপারে দেখা যায় একজন মমতাময়ী মানুষকে, যিনি একদিন একটি নবজাতক শিশুকে প্রথমবার বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন, তাঁর সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।
আমিন।