পুরোনো অ্যালবামের পাতাগুলো উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎ একটি ছবিতে চোখ আটকে গেল। ছবিতে ছোট্ট একটি মেয়ে, গোলাপি রঙের সুন্দর একটি জামা পরে মিষ্টি করে হাসছে। মেয়েটির নাম জুনাইনা।
ছবিটি তার প্রথম ঈদের। তখন সে এতটাই ছোট ছিল যে ঈদ, উপহার কিংবা স্মৃতির অর্থ কিছুই বুঝত না। কিন্তু ছবির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গল্পটি আজও পরিবারের সবার মনে অমলিন।
জুনাইনার গায়ে থাকা গোলাপি জামাটি উপহার দিয়েছিলেন তার বড় মামী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীলা একজন মানুষ। পরিবারের ছোটদের জন্য কিছু কিনতে গেলে তিনি শুধু জিনিস কিনতেন না, তার সঙ্গে মিশিয়ে দিতেন নিজের ভালোবাসাও। জুনাইনার প্রথম ঈদ বলে তিনি বিশেষ যত্ন করে জামাটি বেছে নিয়েছিলেন।
ঈদের সকালে সবাই যখন জুনাইনাকে সেই জামাটি পরিয়ে দিয়েছিল, তখন যেন তাকে সত্যিই ছোট্ট এক রাজকন্যার মতো লাগছিল। পরিবারের সবাই তাকে ঘিরে ছবি তুলেছিল, আদর করেছিল, আর তার হাসিতে ভরে উঠেছিল পুরো বাড়ি।
বছর কেটে গেছে। ছোট্ট জুনাইনা বড় হচ্ছে। গোলাপি জামাটি অনেক আগেই হারিয়ে গেছে সময়ের ভিড়ে। কিন্তু সেই ছবিটি রয়ে গেছে।
আর রয়ে গেছে বড় মামীর স্মৃতি।
কারণ আজ তিনিও আর এই পৃথিবীতে নেই। তিনি চলে গেছেন মহান আল্লাহর কাছে।
তবুও যখনই ছবিটি দেখা হয়, মনে হয় তিনি যেন কোথাও হারিয়ে যাননি। তাঁর দেওয়া সেই ছোট্ট উপহার, তাঁর স্নেহ আর তাঁর ভালোবাসা আজও পরিবারের মানুষদের হৃদয়ে বেঁচে আছে।
জুনাইনার মা প্রায়ই বলেন, “মানুষ একদিন চলে যায়, কিন্তু তার ভালোবাসা থেকে যায় স্মৃতির ভেতর।”
সত্যিই তো, একটি গোলাপি জামার মূল্য হয়তো খুব বেশি ছিল না। কিন্তু সেই জামার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভালোবাসার মূল্য ছিল অপরিসীম।
পুরোনো ছবিটির দিকে তাকালে আজও মনে হয়, ছোট্ট জুনাইনার হাসির আড়ালে দাঁড়িয়ে আছেন একজন স্নেহময়ী মানুষ, যিনি শিখিয়ে গেছেন—ভালোবাসা কখনো হারিয়ে যায় না। মানুষের জীবন শেষ হয়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া মমতা আর সুন্দর স্মৃতিগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকে।
আর তাই, গোলাপি জামার সেই ছবিটি আজ শুধু একটি ছবি নয়; এটি ভালোবাসার অমর হয়ে থাকার এক নীরব সাক্ষী।