Posts

চিন্তা

শেষ অপেক্ষা

June 3, 2026

মোছা: মোকাররমা শিল্পী

125
View

একজন মা।

কোনো এক সময় তিনি তিনটি সন্তানকে বুকে আগলে মানুষ করেছেন।

তাদের জ্বর হলে রাত জেগেছেন, নিজের ইচ্ছাগুলো বিসর্জন দিয়েছেন, মুখের খাবার তুলে দিয়েছেন সন্তানের মুখে।

আজ সেই সন্তানেরা প্রতিষ্ঠিত।

কারও নামের আগে অধ্যাপক, কারও নামের পাশে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, কারও পরিচয় দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

কিন্তু...

একদিন সেই মায়ের মৃত্যু হলো।

দিন পেরোল।

আরও দিন পেরোল।

কেউ জানল না।

কেউ খোঁজ নিল না।

একটি ঘরের ভেতর নীরবে পড়ে রইল একটি মায়ের নিথর দেহ।

যে মা একদিন সন্তানের সামান্য কান্না শুনে ছুটে যেতেন, তাঁর নীরব মৃত্যুও কারও কানে পৌঁছাল না।

এই ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়।

এটি আমাদের সময়ের গল্প।

এটি সেই সমাজের গল্প, যেখানে আমরা সফল হওয়ার প্রতিযোগিতায় এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে আমাদের শিকড়ের খবর রাখার সময় নেই।

আমরা সন্তানদের বড় করছি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, কর্মকর্তা বানানোর স্বপ্নে।

কিন্তু আমরা কি তাদের শেখাচ্ছি—

মায়ের পাশে বসতে?

বাবার একাকীত্ব বুঝতে?

একটি ফোন করে বলতে—

"মা, তুমি কেমন আছো?"

সত্যি বলতে, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার পদবি নয়।

সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো—

সে তার বাবা-মায়ের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল।

কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষটি হলো সেই মা, যার সন্তান আছে—কিন্তু পাশে কেউ নেই।

আজ যারা এই লেখাটি পড়ছেন, তারা একটু সময় নিয়ে বাবা-মায়ের খোঁজ নিন।

যদি তাঁরা কাছে থাকেন, গিয়ে বসুন।

যদি দূরে থাকেন, একটি ফোন করুন।

কারণ একদিন হয়তো ফোন দেওয়ার মানুষটিই আর থাকবে না।

আর তখন হাজারো সাফল্য, পদমর্যাদা আর অর্জনের মাঝেও একটি অপূর্ণতা সারাজীবন তাড়া করে ফিরবে।

— ছোট্ট একটি স্মরণিকা, আমাদের সকলের জন্য।

Comments

    Please login to post comment. Login