এক অক্তের আজান আর শেষ নামাজের মধ্যবর্তী সময়টাই জীবন
গ্রামের এক প্রান্তে বাস করতেন বৃদ্ধ শিক্ষক হাফেজ আবদুল করিম। তিনি ছিলেন সবার প্রিয় মানুষ। একদিন বিকেলে মসজিদের বারান্দায় বসে কয়েকজন তরুণকে বললেন,
“তোমরা কি জানো, মানুষের জীবন কত ছোট?”
তরুণরা বিভিন্ন উত্তর দিল। কেউ বলল ষাট বছর, কেউ বলল সত্তর বছর। বৃদ্ধ শিক্ষক মুচকি হেসে বললেন,
“না, মানুষের জীবন হলো এক অক্তের আজান আর শেষ নামাজের মধ্যবর্তী সময়।”
তরুণরা অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
বৃদ্ধ শিক্ষক বলতে শুরু করলেন—
“যখন একটি শিশু জন্ম নেয়, তখন তার কানে আজান দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো নামাজ পড়া হয় না। আবার যখন সে মৃত্যুবরণ করে, তখন তার জানাজার নামাজ পড়া হয়, কিন্তু কোনো আজান দেওয়া হয় না। এই দুই ঘটনার মাঝখানের সময়টুকুই মানুষের জীবন।”
সেদিন কথাগুলো শুনে গ্রামের এক তরুণ, রাশেদ, গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগল। সে আগে সময় নষ্ট করত, নামাজে অনিয়ম করত এবং মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করত। কিন্তু বৃদ্ধ শিক্ষকের কথা তার হৃদয় ছুঁয়ে গেল।
এরপর থেকে রাশেদ নিজের জীবন বদলে ফেলল। সে নিয়মিত নামাজ পড়তে শুরু করল, বাবা-মায়ের সেবা করল এবং গ্রামের গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে লাগল। ধীরে ধীরে সে সবার ভালোবাসা অর্জন করল।
বছর কয়েক পরে বৃদ্ধ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়লেন। মৃত্যুশয্যায় তিনি রাশেদকে ডেকে বললেন,
“বাবা, মনে রেখো—জীবন খুব ছোট। এমনভাবে বাঁচবে যেন তোমার চলে যাওয়ার পর মানুষ তোমার জন্য দোয়া করে।”
কয়েকদিন পর তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। গ্রামের মানুষ অশ্রুসিক্ত চোখে তার জানাজার নামাজ আদায় করল। জানাজার সময় রাশেদের মনে পড়ল সেই দিনের কথা—“এক অক্তের আজান আর শেষ নামাজের মধ্যবর্তী সময়টাই জীবন।”
সেদিন সে বুঝতে পারল, মানুষের জীবনের দৈর্ঘ্য নয়, তার কর্মই তাকে অমর করে রাখে। আর তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ভালো কাজে ব্যয় করাই মানুষের সবচেয়ে বড় সাফল্য।