একদিন দেখেছি যারে
হিমানীর দেশে হিমছড়ি পর্বতচূড়ায়
অনেক খুঁজেছি তারে—শ্রীকান্তনগরে—
শ্রীলেখা হয়ে শঙ্খদেবের বাজার
তারাবিবির হাট থেকে চন্দ্রবানের ঘাট
অনেক দেখেছি সুন্দরী—
বড়রেখা ছোটবাড়ি গুমধুম শিলাছড়ি চষে
দেখেছি—অনেক এসেছে কাছে
বসেছে? বসেছেও পাশে
পুছেনি তার মতো “এসেছেন কোত্থেকে?”
চায়নি চাতকীর মতো তৃষাতুর নয়নে—অপূর্ব চাহনে
হায়—আবার যদি হতো দেখা হঠাৎ—জীবনের বাঁকে
লাজলজ্জা ভুলে বলা যেত হয়তো পোষিত গোপনীয়তা নিঃসঙ্কোচে—
বিধাতার অপূর্ব সৃষ্টি “তুমি, তুমি শুধু তুমি”
আজ থেকে তোমার নাম “অপূর্বেশ্বরী”
শান্তাহারের অই নির্জন পুকুরঘাটে বসে
মনের লুকানো কথা বলা হতো মেলা তার শিশিরভেজা পাদপদ্মে হাত রেখে
ভালোবাসা দুঃখ দেয়—ভালো লাগা আরও—হঠাৎ দেখা ভীষণতর—
সম্মতির মাথা নেড়ে হয়তো বলত সে “কেন বলেননি তখন তা হলে?”
লজ্জায় গলে যেতাম হয়তো হিমালয়ের বরফের মতো
ভেসে যেতাম কিবা কর্ণঝরা হয়ে মুক্তাঝরা হাসিতে
জীবনের হারানো সব দুঃখযন্ত্রণা ভুলে—
সান্ত্বনার বাহুডোরে হারিয়ে যেতাম—হয়তো খুঁজে পেতাম কিছুটা শান্তি
ছুটতাম আবার কামনার হাতধরে হিমাচলভ্রমণে—সমুদ্রদর্শনে—
হাওয়ায় উড়ন্ত চুলরাশি পড়ত তার মুখে আসি
বারবার সরিয়ে দিতে দিতে আদর হতো এতখানি
হয়তো বলত সে সঙ্কোচে “এত ভালো কেউ বাসতে পারে?”
মৃদুহেসে কর্ণচুমে বলা হতো কানেকানে—
রাজ্য ত্যাগের ক্ষমতা থাকে যে-চোখের ভেতরে
রাজত্ব ত্যাগ করা যায় ও-চোখের চাহনির চাহাতের আকর্ষণে
১১/১১/২০১১—হিমছড়ি, কক্সবাজার