Posts

নন ফিকশন

মোস্তাফা জিলানীর জীবনী শেষ পর্ব

July 19, 2026

Md Josam

Original Author MD samim sikdar

Translated by MD Shamim sikdar

12
View

মুস্তাফার জিলানীর জীবনী পর্ব শেষ
বয়স যখন ৮৫-৮৬ বছর, তখন হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর শারীরিক শক্তি অনেকটাই কমে এসেছিল। কিন্তু তাঁর মানসিক সজীবতা এবং আধ্যাত্মিক উৎসাহ ছিল অটুট। তিনি এখনো মাদ্রাসায় যেতেন এবং ছাত্রদের সামনে বসে সংক্ষিপ্ত দরস দিতেন। তাঁর শেষ দিনগুলোতে তিনি প্রধানত কুরআনের শেষ কয়েকটি সূরা এবং হাদিসের উপর জোর দিতেন। তিনি বলতেন, “জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইলম অর্জন এবং শিক্ষাদান চালিয়ে যাও। মৃত্যু যেকোনো সময় আসতে পারে।” তাঁর এই কথাগুলো শিষ্যদের মনে গেঁথে যেত। ছাত্ররা তাঁর চারপাশে বসে থাকতেন এবং প্রতিটি শব্দ মনে রাখার চেষ্টা করতেন।
শেষ বছরে তাঁর অসুস্থতা বাড়তে থাকে। তিনি প্রায়ই দুর্বলতা অনুভব করতেন। তবু তিনি বিছানায় শুয়ে শুয়েও শিষ্যদের উপদেশ দিতেন। তিনি বলতেন, “নফসকে নিয়ন্ত্রণ করো, দুনিয়ার লোভ ত্যাগ করো, আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।” তাঁর পুত্র আবদুল রাজ্জাক (রহ.) এবং অন্যান্য ঘনিষ্ঠ শিষ্যরা সারাক্ষণ তাঁর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি তাদেরকে বলতেন, “আমার জন্য বেশি শোক করো না। আমি আল্লাহর কাছে ফিরে যাচ্ছি। তোমরা তরিকা অটুট রাখো। শরীয়ত থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবে না।” এই উপদেশগুলো তাঁর শেষ জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে ওঠে।
তিনি শেষ সময়ে তাঁর গ্রন্থসমূহের সংকলন তত্ত্বাবধান করেন। শিষ্যরা তাঁর মুখের কথা লিপিবদ্ধ করতেন। “আল-ফতহুর রাব্বানী” এবং “ফুতুহুল গাইব”-এর মতো গ্রন্থে তাঁর শেষ জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ সংযোজিত হয়। তিনি বলতেন, “সাধকের জীবন হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। দুনিয়া অস্থায়ী, আখিরাত চিরস্থায়ী।” এই কথাগুলো শুধু ছাত্রদের নয়, সাধারণ মানুষেরও জীবন পরিবর্তন করে দেয়।
শেষ দিনগুলোতে তিনি প্রায়ই স্মৃতিচারণ করতেন। তিনি তাঁর গিলানের শৈশব, বাগদাদে আগমন, দীর্ঘ সাধনা, ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়ার ঘটনা, এবং আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতের কথা বলতেন। তিনি বলতেন, “আমি কখনো দুনিয়ার জন্য লালায়িত হইনি। সবসময় আল্লাহর রহমতের আশায় বেঁচে ছিলাম।” তাঁর এই স্মৃতিচারণ শিষ্যদেরকে অনুপ্রাণিত করত।
১১৬৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ রবিউস সানি তারিখে তাঁর অবস্থা আরও গুরুতর হয়। তিনি শেষ নামাজ আদায় করেন এবং পরিবার ও শিষ্যদের সাথে কথা বলেন। তিনি সকলকে ক্ষমা করে দেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। শেষ মুহূর্তে তিনি কালিমা তাইয়্যিবা পাঠ করেন এবং শান্তভাবে আল্লাহর কাছে রূহ সমর্পণ করেন। তাঁর ইন্তেকালের খবর বাগদাদে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বাগদাদের রাস্তাঘাট লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। উলামা, শাসক, সাধারণ মানুষ, ধনী-গরিব সকলে তাঁর জানাজায় শরিক হন। তাঁকে বাগদাদে সমাহিত করা হয়। তাঁর মাজার আজও বিশ্বের মুসলিমদের কাছে একটি পবিত্র তীর্থস্থান। পরবর্তীকালে অটোমান সুলতান সুলাইমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট তাঁর মাজারকে আরও সুন্দর করে গড়ে তোলেন।
তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারীরা তরিকা চালিয়ে যান। কাদেরিয়া তরিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর গ্রন্থসমূহ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অধ্যয়ন করা হয়। তিনি “গাউসুল আজম”, “মুহিউদ্দিন”, “সুলতানুল আউলিয়া” ইত্যাদি উপাধিতে খ্যাত। তাঁর জীবনী আজও লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত )

🎉 ১ লাখ টাকা পুরস্কার জেতার সুযোগ!

আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। তারপর যেকোনো ভিডিওতে এই কমেন্টটি করুন:

🔗 https://youtube.com/@jaminatvmt
📝 @jaminatvmt

ধন্যবাদ ❤️

Comments

    Please login to post comment. Login