ঘটনা আজ থেকে ৩০ বছর পরে।
মানে ২০৫৫ সালের কোনো এক দিন।
বন্ধু সার্কেলের শেষ যে দুজন বেঁচে ছিলো, তাদের একজন অন্তিম পথে যাত্রা করেছে।
বেঁচে থাকা শেষ বন্ধুটিকে জোর করে শ্মশান থেকে ফিরিয়ে নেয়া যাচ্ছেনা।
থুরুথুরে বুড়োরা দুজন মিলেই বছর খানেক আগে তৃতীয় বন্ধুটিকে গোরস্তানে শুইয়ে রেখে এসেছে।
দুদিন আগেও কবরে গিয়ে একসাথে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছে।
শেষ বুড়োর আক্ষেপ, “আমি এখন কি নিয়ে বাঁচবো, কার সাথে বাঁচবো। গিন্নিটা গেলো তোর জনার কদিন বাদেই। ওরাও একা করে দিয়ে গেলো।
শেষ ছিলি তুই। আমাকে বলে গেলি না আমি কাকে নিয়ে একলা ঘরে ঘুমাবো।
আর তুই?
লাইট না জ্বালালে আমি ভয় পাই বলে তুই সারারাত এই বয়সে লাইট জ্বালিয়ে আমার পাশে শুইছিস।
আমি তোর চেয়ে অসুস্থ বেশি ছিলাম বলে বিছানায় বাম পাশে শুইতে দেস নাই।
রাতে…
ডায়বেটিসের রুগি আমি, সুগার বেশি বলে মুতের বেগ আসলে …
এখন কে আমাকে লাঠি হাতে দিয়ে নিজে ধরে বাথরুমে নিয়ে যাবে?
তুই পারলি আমার সাথে এই বেইমানিটা করতে?
হাজারটা রোগ শরীরে আমাকে রেখে তোর তরতাজা মুখটায় আগুন দিতে আমার কেমন লাগছে তুই বুঝছিস?
আমার চিতায় আগুন ধরানোর কথা ছিলো তোর।
আমি একটু নিশ্চিন্তে তোর হাতের জ্বলন্ত পাটকাঠির আগুনের তাপ নিতাম।
বেইমানি করলি শালা…
আমার সাথে বেইমানি করলি তুই?
তুই জানিস আমি একলা কোনোদিন কোথাও থাকতে পারিনা।
বৌটা মারা যাবার পর এমন ক’টা রাত গেছে যে আমাকে তুই একা থাকতে দিয়েছিস?
আর আজ?
একদিক দিয়ে ভালোই হইছে, আমার চেয়ে বেশি কষ্ট পাওয়ার আগে ভগবান তোকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে।
ভালো থাক… ভগবানের আদরে ভালো থাক, এইকুলে আমাকে কষ্ট দিয়ে।
আমি যাবোনা। একা আমি থাকতে পারবো না।
পারবো না, পারবো না, পারবো না।
হয় আমাকেও এখানে সৎকার করে দাও, নয়তো রেখে যাও।
আমি যাবো না, যাবো না, যাবো না...
সেই থেকে বাকী ৬ মাস শ্মশানের সীমানা পাড় হয়নি বন্ধু।
বন্ধু… কথা রেখেছে…
আজ তার সৎকার হচ্ছে। কিন্তু সবসময় আপদে বিপদে পাশে থাকা একজন বন্ধুও আজ তার পাশে নেই।
"একটি কাল্পনিক গল্প। যা সকল বন্ধু সার্কেলের জন্য প্রযোজ্য"
আমার বন্ধুদের জন্য আমার কোনো দিবস নাই।
তবুও, বন্ধু দিবসে সকল বন্ধুর প্রতি রইলো অকৃত্রিম শ্রদ্ধা।