
আমার মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তুর নাম “প্রিয়জনের স্মৃতি”। মানুষটি যখন জীবন্ত অবস্থায় পাশে থাকে, তখন তার উপস্থিতি যতটা স্বাভাবিক মনে হয়, চলে যাওয়ার পর তার সেই শূন্যতা ততটাই তীব্র হয়ে পড়ে।
সেই চেনা গলার ডাক, ঘরের এক কোণে জমে থাকা তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র, যে লাঠিটায় ভর করে চলতেন কিংবা হুট করে মনে হওয়া কোনো পুরনো স্মৃতি, খুনসুটি, ভালোবাসা, রাগ-অভিমানের গল্পসমগ্র সবকিছুই মুহূর্তের মধ্যে আমাদের আবার সেই একা করে দেওয়া দিনটিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। আমরা রোজ ভাবি জীবনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবো। যে কারণের উপর আমরা প্রতিদিন হাসি, কাজ করি, ব্যস্ত থাকি। কিন্তু ভেতরের কোথাও এক পিন পতন নিস্তব্ধতা সব সময় চেপে থাকে।
মৃত্যু শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয় না, বরং সেই মানুষটার সাথে জড়িয়ে থাকা আমাদের জীবনের একটা বড় অংশকেও সাথে করে নিয়ে যায়। শেষবার তাকে শুধু একবার দেখতে পাওয়ার আকুলতা, শেষ একটা কথা বলতে না পারার অতৃপ্তি, আর "যদি আরেকটু সময় পেতাম" এই আক্ষেপটুকু আমৃত্যু বুকের ভেতর থেকে যায়।
প্রিয়জনকে হারানোর পর মানুষ হয়তো আবার বাঁচতে শেখে। কিন্তু সেই বাঁচায় আর আগের মতো পূর্ণতা থাকে না। রয়ে যায় শুধুই এক গভীর অনুভূতির ছায়া। যা এক অপূরণীয় শূণ্যস্থান।
একলা হয়ে যাওয়া সেই পথটার নামই হয়তো বিচ্ছেদ। মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো ঘরের প্রতিটি কোণে, বাতাসের প্রতিটি নিঃশ্বাসে রয়ে যায় নিঃশব্দে।
সবকিছুর পরেও চিরন্তন এবং অবধারিত এক সত্যের নাম মৃত্যু। ধর্মীয়ভাবে আমাদের বিভিন্ন আচার পালনের রীতি আলাদা হলেও এই সত্য অখন্ডনীয়।
মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সূরা আল-ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।"
পবিত্র বাইবেলের ইকেলসিয়াস্টেস (উপদেশক) ৩:১৯-২০ তে বলা হয়েছে "মানুষ ও পশু উভয়ের পরিণতি এক; একের যেমন মৃত্যু হয়, অন্যেরও তেমনই হয়। সবই ধুলা থেকে এসেছে এবং সবই আবার ধুলায় ফিরে যাবে।"
শ্রীমদ্ভাগবত গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়, ২৭ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে, "জাতস্য হি ধ্রুবো মৃত্যুর্ধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ।" (অর্থ- জন্ম নিলে মৃত্যু সুনিশ্চিত, আর মৃতের জন্মও সুনিশ্চিত।)