Posts

উপন্যাস

এক ব্যর্থতার গল্প

August 5, 2026

Md Josam

Original Author MD samim sikdar

Translated by MD Shamim sikdar

14
View

এক ব্যর্থতার গল্প
নাজিল আহমেদের জন্ম হয়েছিল ঢাকার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা জহির আহমেদ ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা, মাতা সালিমা বেগম গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই নাজিলের চারপাশে কোনো অভাব ছিল না। বাবা মাইনের টাকা দিয়ে বাড়িভাড়া দিতেন, ছেলেকে ভালো স্কুলে পাঠাতেন, মা ছেলের জন্য সুস্বাদু খাবার রান্না করতেন। নাজিলের কোনো দিন পেটে ক্ষুধা লাগেনি, কোনো দিন ছেঁড়া জামা পরে স্কুলে যেতে হয়নি। প্রতিবেশীরা বলত, “জহির ভাইয়ের ছেলে বড় ভাগ্যবান। সবকিছু পেয়ে বড় হচ্ছে।”
নাজিলের বাবা ছিলেন কঠোর স্বভাবের মানুষ। তিনি ছেলেকে সবসময় বলতেন, “টাকা অর্জন করতে হয়, টাকা খরচ করতে হয় না। ব্যবসা করলে মানুষ বড় হয়। চাকরি করে মানুষ শুধু বেঁচে থাকে।” বাবার এই কথাগুলো নাজিলের মনে গভীরভাবে গেঁথে গিয়েছিল। ছোটবেলায় সে বাবার হাত ধরে বাজার যেত। দোকানদারদের হিসাব-নিকাশ দেখত, কীভাবে তারা লাভ করে, কীভাবে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সে স্বপ্ন দেখত—একদিন সে নিজে একটা বড় ব্যবসা করবে, অনেক লোক তার অধীনে কাজ করবে, আর সে হবে বিলিয়নিয়ার।
স্কুল জীবনে নাজিল ভালো ফলাফল করত। গণিত আর অর্থনীতিতে তার আগ্রহ ছিল বেশি। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর সে ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়তে শুরু করল। বন্ধুরা যখন চাকরির স্বপ্ন দেখত, নাজিল বলত, “চাকরি করে কি বিলিয়নিয়ার হওয়া যায়? আমি ব্যবসা করব। বাবা আমাকে সাহায্য করবেন।” বাবাও ছেলের এই স্বপ্নকে উৎসাহ দিতেন। তিনি বলতেন, “আমি যতটুকু পারি সাহায্য করব। কিন্তু ঋণ নিয়ে ব্যবসা করলে সাবধানে থাকতে হবে।”
স্নাতক শেষ করার পর নাজিল আর চাকরির পেছনে ছুটল না। সে বাবাকে বলল, “আমি একটা ইলেকট্রনিক্স ব্যবসা শুরু করতে চাই। মোবাইল, ল্যাপটপ, অ্যাকসেসরিজ—এসবের বাজার এখন ভালো।” বাবা প্রথমে একটু দ্বিধা করলেন। তারপর বললেন, “ঠিক আছে। কিন্তু নিজের টাকা দিয়ে শুরু কর। ব্যাংক থেকে লোন নিলে সুদ দিতে হবে।” নাজিল রাজি হল না। সে বলল, “নিজের টাকায় বড় ব্যবসা করা যায় না। আমি ব্যাংক থেকে লোন নেব। ব্যবসা ভালো হলে ঋণ শোধ করে দেব।”
বাবা শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন। নাজিল তার বাবার নামে এবং নিজের নামে মিলে কয়েকটি ব্যাংক থেকে লোন নিল। প্রথমে এক কোটি টাকা, তারপর আরও দুই কোটি। মোট তিন কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়ে সে ঢাকার মিরপুরে একটা শোরুম ভাড়া নিল। সাজসজ্জা করল, কর্মচারী নিয়োগ দিল, পণ্য আমদানি করল। শোরুমের নাম রাখল “নাজিল ইলেকট্রনিক্স”। উদ্বোধনের দিন বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুরা সবাই এসেছিল। সবাই আশীর্বাদ করছিল। নাজিলের চোখে স্বপ্নের আলো জ্বলছিল। সে ভাবছিল, এই শোরুম থেকেই তার বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য শুরু হবে।
প্রথম কয়েক মাস ব্যবসা মোটামুটি ভালোই চলল। কিছু গ্রাহক এল, কিছু বিক্রি হল। নাজিল প্রতিদিন সকালে শোরুমে যেত, কর্মচারীদের নির্দেশ দিত, হিসাব দেখত। রাতে ঘরে ফিরে বাবাকে বলত, “বাবা, ব্যবসা বাড়ছে। শীঘ্রই ঋণ শোধ করে দেব।” বাবা হাসিমুখে বলতেন, “সাবধানে চলো। ব্যবসায় উত্থান-পতন আছে।”
কিন্তু ব্যবসায় উত্থানের চেয়ে পতনই বেশি দেখা গেল। কয়েক মাস পর বিক্রি কমতে শুরু করল। প্রতিযোগী শোরুমগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করছিল। নাজিলের পণ্যের দাম একটু বেশি ছিল, কারণ সে ভালো মানের পণ্য আমদানি করেছিল। গ্রাহকরা সস্তা পণ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ল। তারপর এল মহামারী। লকডাউন শুরু হল। শোরুম বন্ধ রাখতে হল। কর্মচারীদের বেতন দিতে হল, ভাড়া দিতে হল, ব্যাংকের কিস্তি দিতে হল। আয় শূন্য, ব্যয় চলছে।
লকডাউন শেষ হওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হল না। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। অনলাইন ব্যবসা বেড়ে গিয়েছিল। নাজিল অনলাইনেও চেষ্টা করল, কিন্তু তার ওয়েবসাইট ও মার্কেটিং দুর্বল ছিল। সে বিজ্ঞাপনে টাকা খরচ করল, কিন্তু ফলাফল আসল না। ব্যাংকের কিস্তি জমতে লাগল। এক কিস্তি, দুই কিস্তি, তিন কিস্তি। ব্যাংক থেকে চিঠি আসতে শুরু করল। ফোন আসতে শুরু করল।
নাজিল তখন আরও ঋণ নিল। অন্য ব্যাংক থেকে, এমনকি কিছু ব্যক্তিগত মহাজনের কাছ থেকেও। সে ভাবল, একটু সময় পেলে ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু সময় পেলেও ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াল না। পণ্য স্টকে পড়ে থাকল। কিছু পণ্য নষ্ট হয়ে গেল। কর্মচারীরা একজন একজন করে চলে যেতে লাগল। শোরুমের ভাড়া বাকি পড়তে শুরু করল। বাড়িওয়ালা হুমকি দিতে লাগল।
বাবা তখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন। উদ্বেগ আর চিন্তায় তার রক্তচাপ বেড়ে গেল। হাসপাতালে ভর্তি করতে হল। চিকিৎসার খরচও নাজিলকেই বহন করতে হল। মা কাঁদতেন, “ছেলে, ব্যবসা ছেড়ে দাও। চাকরি খুঁজো।” নাজিল রাজি হত না। সে বলত, “আমি বিলিয়নিয়ার হব। এখন হার মানলে সব শেষ হয়ে যাবে।”
ঋণের বোঝা দিন দিন ভারী হতে লাগল। সুদের হার বাড়তে লাগল। ব্যাংকগুলো একযোগে চাপ দিতে শুরু করল। একদিন শোরুমে এসে দেখল, তালা মারা হয়েছে। বাড়িওয়ালা পণ্য জব্দ করেছে। নাজিল দাঁড়িয়ে রইল অসহায়ের মতো। কর্মচারীরা কেউ আর নেই। শুধু খালি শোরুম আর ঋণের কাগজপত্র।
বাড়ি ফিরে বাবাকে সব খবর বলল। বাবা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, “আমি তোমাকে সাবধান করেছিলাম। ঋণ নিয়ে ব্যবসা করা সহজ নয়। এখন কী করবে?” নাজিলের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে বলল, “আমি সব হারিয়েছি বাবা। স্বপ্ন, টাকা, সম্মান—সব।”
এরপর শুরু হল আসল ব্যর্থতা। ব্যাংকগুলো মামলা করল। আদালতের নোটিশ আসতে লাগল। নাজিলের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হল। সে বাড়িতে লুকিয়ে থাকত। আত্মীয়স্বজন দূরে সরে গেল। বন্ধুরা ফোন ধরত না। কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। সবাই বলত, “নিজের দোষে হয়েছে। এত বড় ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেছে।”
নাজিল চাকরি খুঁজতে শুরু করল। কিন্তু কেউ তাকে চাকরি দিতে চাইল না। তার নামে ঋণের রেকর্ড ছিল, মামলা ছিল। একটা ছোট দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ পেল। মাসে দশ হাজার টাকা বেতন। সেই টাকায় বাড়ির খরচ চালানো অসম্ভব। বাবা তখন অবসর নিয়েছিলেন। পেনশনের টাকায় সংসার চলত। নাজিল নিজেকে বোঝাত, “আমি আবার উঠব। এখনো সময় আছে।” কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে জানত, উঠার কোনো পথ নেই।
একদিন সে শোরুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। এখন সেখানে অন্য কেউ ব্যবসা করছে। নতুন সাইনবোর্ড, নতুন পণ্য, নতুন গ্রাহক। নাজিলের চোখ দিয়ে জল আসল। সে ভাবল, এই জায়গাটা একদিন তার ছিল। এখান থেকেই সে বিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। এখন সে একজন সাধারণ সেলসম্যান। ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে হাঁটছে।
ব্যর্থতা শুধু টাকার নয়। ব্যর্থতা ছিল তার আত্মবিশ্বাসের, তার স্বপ্নের, তার পরিবারের সম্মানের। মায়ের চোখে সবসময় উদ্বেগের ছাপ থাকত। বাবা আর আগের মতো কথা বলতেন না। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে ডাক পড়ত না। বিয়ের প্রস্তাব আসত না। মেয়েরা শুনলেই মুখ ফিরিয়ে নিত। “ঋণী মানুষ, মামলা আছে”—এই কথাটাই যথেষ্ট ছিল।
নাজিল রাত জেগে ভাবত। কী ভুল করেছিল সে? পণ্যের মান ভালো ছিল। শোরুম ভালো ছিল। কিন্তু বাজার বুঝতে পারেনি। প্রতিযোগিতা বুঝতে পারেনি। ঋণের বোঝা বুঝতে পারেনি। সে শুধু স্বপ্ন দেখেছিল। বাস্তবকে দেখেনি। ব্যবসা মানে শুধু পণ্য বিক্রি নয়। ব্যবসা মানে ঝুঁকি নেওয়া, হিসাব করা, ধৈর্য ধরা, এবং সবচেয়ে বড় কথা—নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থাকা। নাজিল নিজের সামর্থ্যের বাইরে চলে গিয়েছিল।
দিনের পর দিন কেটে যেতে লাগল। ঋণ শোধ করার কোনো উপায় ছিল না। ব্যাংকগুলো সম্পত্তি ক্রোক করার হুমকি দিতে লাগল। বাবার পেনশনের টাকাও আটকে যাওয়ার ভয় তৈরি হল। নাজিল তখন একটা সিদ্ধান্ত নিল। সে সবকিছু বিক্রি করে দিয়ে ঋণের কিছু অংশ শোধ করবে। বাড়ির কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করল। মায়ের গয়না বিক্রি করল। বাবা কিছু বললেন না। শুধু চুপ করে দেখলেন।
এরপর সে একটা ছোট ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করল। রাস্তার পাশে একটা ছোট স্টল। মোবাইলের কভার, চার্জার, ইয়ারফোন বিক্রি করত। কিন্তু সেখানেও লাভ হত না। প্রতিদিনের খরচই উঠত না। গ্রাহকরা দরদাম করত, অনেকে কিনত না। নাজিল দাঁড়িয়ে থাকত সারাদিন। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে ক্লান্ত শরীর নিয়ে শুয়ে পড়ত।
একদিন বৃষ্টির মধ্যে সে স্টলে বসেছিল। হঠাৎ একজন পুরনো বন্ধু এসে দাঁড়াল। বন্ধু বলল, “নাজিল, তুই এখনো এভাবে আছস? চাকরি কর না কেন?” নাজিল হাসিমুখে বলল, “চাকরি পাই না। ঋণের রেকর্ড আছে।” বন্ধু একটু চুপ করে থেকে বলল, “তোর বাবা তো ভালো চাকরি করতেন। তুই কেন এত ঝুঁকি নিলি?” নাজিল কোনো উত্তর দিতে পারল না। বন্ধু চলে গেল। নাজিল একা বসে রইল। বৃষ্টির ফোঁটা তার গাল বেয়ে গড়াতে লাগল।
ব্যর্থতা এভাবেই তাকে গ্রাস করেছিল। ধীরে ধীরে, দিনের পর দিন। কোনো বড় ধাক্কা নয়, বরং ছোট ছোট ব্যর্থতার সমষ্টি। একটা কিস্তি বাকি, আরেকটা কিস্তি বাকি। একজন কর্মচারী চলে গেল, আরেকজন চলে গেল। একজন গ্রাহক এল না, আরেকজন এল না। স্বপ্ন ভেঙে গেল টুকরো টুকরো হয়ে।
নাজিল এখনো মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নে সে আবার সেই শোরুমে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রাহকরা ভিড় করছে। ব্যাংকের ম্যানেজার হাসছে। বাবা বলছেন, “শাবাশ ছেলে।” কিন্তু ঘুম ভেঙে গেলেই বাস্তব ফিরে আসে। ছোট ঘর, পুরনো বিছানা, মায়ের উদ্বিগ্ন মুখ, বাবার নীরবতা। আর নিজের কাঁধে ঋণের ভারী বোঝা।
সে কখনো কখনো ভাবে, যদি সেদিন লোন না নিত? যদি ছোট করে শুরু করত? যদি চাকরি করত? যদি বাবার কথা শুনত? কিন্তু অতীত আর ফেরানো যায় না। ব্যর্থতা একবার এলে সে সহজে যায় না। সে থেকে যায় মানুষের নামে, মানুষের মুখে, মানুষের স্মৃতিতে।
নাজিল আহমেদ এখন একজন সাধারণ মানুষ। বিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বপ্ন অনেক আগেই মরে গেছে। ব্যবসার স্বপ্নও মরে গেছে। এখন শুধু বেঁচে থাকার সংগ্রাম। প্রতিদিন সকালে উঠে স্টলে যাওয়া, সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকা, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসা। কোনো স্বপ্ন নেই, কোনো পরিকল্পনা নেই। শুধু একটা কথা মাথায় ঘোরে—আমি ব্যর্থ হয়েছি।
এই ব্যর্থতা তাকে শুধু টাকা হারায়নি। তাকে হারিয়েছে তার আত্মসম্মান, তার পরিবারের শান্তি, তার ভবিষ্যতের আশা। সে এখন জানে, ব্যবসা করা সহজ নয়। স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন। আর ঋণ নিয়ে স্বপ্ন দেখা আরও কঠিন। কারণ ঋণ শুধু টাকা নয়, ঋণ একটা শৃঙ্খল। সেই শৃঙ্খল একবার গলায় পড়লে আর খুলে না।
নাজিলের গল্প শেষ হয়নি। সে এখনো বেঁচে আছে। কিন্তু তার ভেতরে যে নাজিল ছিল—যে নাজিল বিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখত—সে মরে গেছে। তার জায়গায় এখন একজন ক্লান্ত, হতাশ, ঋণী মানুষ হাঁটছে। প্রতিদিন। কোনো গন্তব্য ছাড়াই।
ব্যর্থতা এভাবেই আসে। জোরে শব্দ করে নয়। ধীরে ধীরে, নীরবে, সবকিছু কেড়ে নিয়ে। আর একবার এলে সে আর যায় না। সে থেকে যায় মানুষের সঙ্গে, মানুষের মতোই।
নাজিল আহমেদ এখনো মাঝে মাঝে বাবার কথা মনে করে। বাবা বলেছিলেন, “টাকা অর্জন করতে হয়, টাকা খরচ করতে হয় না।” কিন্তু নাজিল টাকা অর্জন করতে পারেনি। সে শুধু ঋণ করেছে, আর ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে। এই বোঝা কখনো নামবে কিনা, সে নিজেও জানে না।
গল্পের শেষে শুধু একটাই সত্য থাকে—নাজিল আহমেদ ব্যর্থ হয়েছিল। আর এই ব্যর্থতা তাকে গিলে ফেলেছিল পুরোপুরি।

অনেক লাবিদ পথভ্রষ্ট হবে।

🎉 ১ লাখ টাকা পুরস্কার জেতার সুযোগ!

আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। তারপর যেকোনো ভিডিওতে এই কমেন্টটি করুন:

🔗 https://youtube.com/@jaminatvmt
📝 @jaminatvmt

ধন্যবাদ ❤️

Comments

    Please login to post comment. Login