Posts

ফিকশন

এক অসহায় বাবা

August 6, 2026

Md Josam

Original Author MD samim sikdar

Translated by MD Shamim sikdar

5
View

এক অসহায় বাবা
ঢাকার একটি নামহীন বস্তিতে, যেখানে কাদামাটির রাস্তাগুলো সবসময় ভেজা থাকে আর আকাশের রং যেন কখনো পরিষ্কার হয় না, সেখানে থাকত একজন মানুষ। তার নাম ছিল করিম। বয়স পঁয়তাল্লিশের কাছাকাছি। শরীরটা কালো, শুকনো, হাতের রগগুলো ফুলে উঠেছে অনেকদিনের খাটুনিতে। চোখে একটা স্থায়ী ক্লান্তি, যেন ঘুম আর বিশ্রাম শব্দ দুটো তার জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে।
করিমের একমাত্র সম্পদ ছিল তার মেয়ে পারুল। পারুলের বয়স তখন বারো। চোখদুটো বড় বড়, কালো, আর হাসিটা এমন যেন পুরো বস্তির অন্ধকারকে একটু হলেও কেটে দেয়। মায়ের নাম ছিল রোকেয়া। রোকেয়াও একই বস্তিতে জন্মেছে, বেড়ে উঠেছে। তার হাত দুটো সবসময় কাপড় কাচা, বাসন মাজা কিংবা অন্যের বাসার কাজ করে কাটায়। তিনজনের সংসারটা একটা ছোট্ট টিনের চালের ঘরে। দেয়ালগুলো বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘেরা, মেঝেতে মাটি, আর বৃষ্টি এলে ভেতরে পানি ঢোকে।
করিম চাকরি করত একটা বড় স্কুলে। স্কুলের নাম ছিল গ্রিন ভ্যালি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। ঢাকার একটা অভিজাত এলাকায় অবস্থিত। সেখানে বাচ্চারা সাদা শার্ট, নীল টাই, চকচকে জুতা পরে আসে। তাদের ব্যাগে থাকে নতুন বই, রঙিন পেনসিল, আর বাবা-মায়ের দেওয়া প্রচুর ভালোবাসা আর টাকা। করিম সেই স্কুলের বাস চালাত। সকাল সাতটায় বাস নিয়ে বের হত, সন্ধ্যা ছয়টায় ফিরত। প্রতিদিন সেই বাচ্চাদের মুখ দেখত। তাদের হাসি, তাদের খেলা, তাদের স্বপ্ন।
কিন্তু তার নিজের মেয়ে পারুল পড়ত বস্তির পাশের একটা সরকারি প্রাথমিক স্কুলে। স্কুলের নাম ছিল না, শুধু নম্বর ছিল—৪২ নম্বর ওয়ার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে বেঞ্চ ভাঙা, ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে, আর শিক্ষকরা মাসে মাসে বেতন না পেয়ে ক্লাস ফাঁকি দেয়। পারুল সেখানেই পড়ত। করিম চেয়েছিল তার মেয়ে যেন ওই বড় স্কুলে পড়ে। যেখানে ইংরেজি শেখায়, কম্পিউটার শেখায়, যেখানে ভবিষ্যতের দরজা খোলা থাকে। কিন্তু সেই স্কুলের ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, ইউনিফর্ম, বই—সব মিলিয়ে এমন একটা অঙ্ক যেটা করিমের সারা বছরের আয়ের চেয়েও বেশি।
প্রতিদিন বাস চালিয়ে করিম ভাবত। বাসের জানালা দিয়ে বাইরের দুনিয়া দেখত। বড় বড় বাড়ি, এসি গাড়ি, শপিং মল। আর রাতে ফিরে এসে নিজের ঘরে ঢুকলেই মনে হত, সে যেন অন্য কোনো গ্রহে বাস করে। পারুল তাকে জড়িয়ে ধরত। “বাবা, আজ স্কুলে ম্যাডাম বলল আমি ক্লাসে ফার্স্ট হয়েছি।” করিম তখন তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিত। ভেতরে ভেতরে কষ্টটা আরও গভীর হত। সে জানত, এই ফার্স্ট হওয়াটা ওই ভাঙা স্কুলে। বাইরের দুনিয়ায় এর কোনো দাম নেই।
রোকেয়া মাঝে মাঝে বলত, “করিম, মেয়েকে ওই বড় স্কুলে ভর্তি করার স্বপ্ন ছেড়ে দাও। আমাদের সাধ্যে কুলায় না।” করিম চুপ থাকত। সে জানত রোকেয়া ঠিকই বলে। কিন্তু স্বপ্ন তো ছেড়ে দেওয়া যায় না। স্বপ্ন তো মানুষের শেষ অবলম্বন।
একদিন স্কুলের অফিস থেকে খবর এল। নতুন সেশনের ভর্তি শুরু হয়েছে। পারুলের জন্য ওই বড় স্কুলে একটা আসন খালি আছে, যদি কেউ সুপারিশ করে। করিম জানত, সে বাসের ড্রাইভার। সুপারিশ পাওয়ার কোনো উপায় নেই। তবুও সে চেষ্টা করল। স্কুলের প্রিন্সিপালের কাছে গিয়ে হাত জোড় করে দাঁড়াল। “স্যার, আমার মেয়ে খুব ভালো পড়ে। একটু সুযোগ দিলে...” প্রিন্সিপাল তার দিকে তাকিয়ে হাসল না। শুধু বলল, “ড্রাইভার সাহেব, আপনার মেয়ের জন্য আলাদা কোনো কোটা নেই। টাকা জমা দিতে হবে। ভর্তি ফি পঞ্চাশ হাজার, আর তিন মাসের বেতন অগ্রিম।”
পঞ্চাশ হাজার। করিমের মাথা ঘুরে গেল। তার মাসিক বেতন বারো হাজার। বাড়িভাড়া, খাওয়া, ওষুধ—সব মিলিয়ে মাসে মাসে টানটান অবস্থা। পঞ্চাশ হাজার কোথায় পাবে?
সেদিন রাতে করিম ঘুমাতে পারেনি। পারুল পাশের বিছানায় ঘুমাচ্ছিল। তার মুখে হাসি। করিম ভাবল, এই হাসিটা যদি চিরকাল থাকে। যদি মেয়েটা বড় হয়ে ডাক্তার হয়, ইঞ্জিনিয়ার হয়, কিংবা অন্তত একটা ভালো চাকরি পায়। যদি আর কখনো এই বস্তির অন্ধকারে ফিরে না আসে।
পরের কয়েকদিন করিম চেষ্টা করল টাকা জোগাড় করার। আত্মীয়-স্বজনের কাছে গেল। কেউ টাকা দিতে রাজি হল না। কেউ বলল, “ভাই, নিজেই কষ্টে আছি।” কেউ বলল, “মেয়েকে ওই স্কুলে পড়িয়ে লাভ কী? শেষমেশ তো আবার এই বস্তিতেই ফিরে আসবে।” করিমের বুকের ভেতরটা যেন কেউ চেপে ধরল।
একদিন বাস চালানোর সময় তার চোখে পড়ল একটা সুযোগ। স্কুলের অফিস রুমে ক্যাশিয়ার সাহেবের টেবিলে প্রতিদিন অনেক টাকা আসে। ছাত্রদের বেতন, ভর্তি ফি। ক্যাশিয়ার সাহেব বয়স্ক মানুষ, দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নেন। করিম জানত সেই রুমের চাবি কোথায় রাখা হয়। সে জানত নিরাপত্তা কেমন শিথিল।
সেদিন দুপুরে করিম সিদ্ধান্ত নিল। সে আর সহ্য করতে পারছিল না। পারুলের ভবিষ্যতের জন্য সে কিছু একটা করবে। সে অফিস রুমে ঢুকল। হাত কাঁপছিল। ক্যাশিয়ার সাহেব ঘুমাচ্ছিলেন। টেবিলের ড্রয়ারে টাকার বান্ডিল। করিম একটা বান্ডিল তুলে নিল। পঞ্চাশ হাজারের মতো। তারপর দ্রুত বেরিয়ে এল।
টাকা হাতে পেয়ে সে খুশিতে উড়ে বেড়াচ্ছিল। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে রোকেয়াকে বলল, “আমি টাকা জোগাড় করেছি। কাল পারুলকে বড় স্কুলে ভর্তি করাব।” রোকেয়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কোথায় পেলে এত টাকা?” করিম মিথ্যা বলল, “স্কুল থেকে অগ্রিম বেতন পেয়েছি। আর কিছু লোন নিয়েছি।”
পরের দিন সকালে করিম পারুলকে নিয়ে স্কুলে গেল। ভর্তির ফর্ম ভরল। টাকা জমা দিল। পারুলের মুখে আনন্দের ঢেউ। সে প্রথমবার এমন পরিষ্কার ক্লাসরুম দেখল, এমন সুন্দর বেঞ্চ দেখল। করিম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মেয়েকে দেখছিল। তার চোখে জল এসে গিয়েছিল। সে ভাবল, এবার সব ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু সব ঠিক হয়নি।
স্কুলের ক্যাশিয়ার সাহেব দুপুরে ঘুম থেকে উঠে টাকা গুনতে গিয়ে দেখলেন টাকা কম। সিসিটিভি ক্যামেরায় করিমের চেহারা ধরা পড়ল। পুলিশ ডাকা হল। করিম তখন বাস গ্যারেজে বাস পরিষ্কার করছিল। পুলিশ এসে তাকে ধরল। হাতকড়া পরাল। করিম প্রতিবাদ করল, “আমি কিছু করিনি...” কিন্তু কেউ শুনল না। টাকা তার পকেটেই ছিল। প্রমাণ স্পষ্ট।
পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় করিম পেছন ফিরে তাকাল। স্কুলের গেটের সামনে পারুল দাঁড়িয়েছিল। সে ভর্তি হয়েই বাড়ি ফিরছিল। বাবার হাতে হাতকড়া দেখে সে দৌড়ে এল। “বাবা! বাবা কী হয়েছে?” করিম কিছু বলতে পারল না। শুধু চোখের জলে ভিজে গেল তার মুখ। পারুল চিৎকার করতে লাগল। রোকেয়া দূর থেকে দৌড়ে এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরল। দুজনেই রাস্তায় বসে কাঁদতে লাগল।
করিমকে নিয়ে যাওয়া হল থানায়। তারপর আদালতে। বিচার হল দ্রুত। চুরির অপরাধে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হল। কারাগারে ঢোকার আগে করিম একবার শুধু বলতে পেরেছিল, “পারুলকে ভালো করে রেখো... ওকে পড়তে দিও...”
রোকেয়া আর পারুল ফিরে এল বস্তিতে। কিন্তু এবার তাদের অবস্থা আরও খারাপ। করিমের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। রোকেয়া একা মানুষের বাসায় কাজ করে সংসার চালায়। কিন্তু সেই আয়ে পারুলের স্কুলের বেতন চলে না। বড় স্কুল থেকে নোটিশ এল—বেতন না দিলে নাম কেটে দেওয়া হবে। রোকেয়া গিয়ে অনুনয় করল। কেউ শুনল না। পারুলকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হল।
পারুল আবার ফিরে এল বস্তির ছোট স্কুলে। কিন্তু এবার তার চোখে আর সেই উজ্জ্বলতা নেই। সে জানে তার বাবা জেলে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সে জেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, যদিও ভেতরে ঢোকা যায় না। রোকেয়া মাঝে মাঝে জেলে গিয়ে করিমের সঙ্গে দেখা করে। করিম শুধু জিজ্ঞেস করে, “পারুল কেমন আছে? পড়াশোনা করছে তো?” রোকেয়া মিথ্যা বলে, “হ্যাঁ, ভালোই আছে।”
বছর চলে যায়। পারুল বড় হয়। কিন্তু তার পড়াশোনা আর এগোয় না। টাকার অভাবে বই কেনা যায় না, প্রাইভেট পড়ানো যায় না। স্কুলের পর সে মায়ের সঙ্গে অন্যের বাসায় কাজ করে। কাপড় কাচে, মেঝে মুছে, বাসন মাজে। তার হাত দুটো করিমের মতোই শুকনো হয়ে যায়। স্বপ্নগুলো এক এক করে মরে যায়।
করিম পাঁচ বছর পর জেল থেকে বের হয়। শরীর আরও দুর্বল। চোখে আলো নেই। সে বাড়ি ফিরে দেখে পারুল আর সেই ছোট মেয়ে নেই। সে একজন ক্লান্ত যুবতী। রোকেয়াও বুড়িয়ে গেছে। করিম মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে। “আমি তোর জন্য সব করেছিলাম... ক্ষমা করে দিবি?” পারুল কিছু বলে না। শুধু কাঁদে।
এর পরের জীবনটা আরও কঠিন। করিম আর কোনো ভালো চাকরি পায় না। চোরের তকমা লেগে থাকে। সে রিকশা চালায়, কখনো দিনমজুরি করে। পারুলের বিয়ে দেওয়ার কথা ওঠে। কিন্তু কেউ ভালো পাত্র চায় না। শেষমেশ একটা গরিব ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়। পারুল চলে যায় অন্য একটা বস্তিতে। তার জীবনও মায়ের মতোই হয়ে যায়—কাজ, কষ্ট, আর স্বপ্নহীন দিন।
করিম আর রোকেয়া একা হয়ে যায়। একদিন রোকেয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। টাকার অভাবে ভালো ডাক্তার দেখানো যায় না। রোকেয়া মারা যায়। করিম একা হয়ে যায় পুরোপুরি। সে এখন রাস্তায় বসে থাকে। ভিক্ষা করে। মানুষ তাকে চিনতে পারে না। কেউ জানে না সে একসময় একটা বড় স্কুলের বাস চালাত। কেউ জানে না তার একটা মেয়ে ছিল যার জন্য সে সবকিছু হারিয়েছে।
পারুল মাঝে মাঝে এসে বাবাকে দেখে যায়। কিন্তু সেও এখন নিজের সংসারের কষ্টে ডুবে আছে। তার নিজেরও একটা মেয়ে হয়েছে। সে মেয়েটাকে দেখে পারুল মনে মনে বলে, “আমি তোকে বড় স্কুলে পড়াবো...” কিন্তু কথাগুলো মুখে আসে না। কারণ সে জানে, এই স্বপ্নগুলো শুধু স্বপ্নই থেকে যায়।
করিমের শেষ দিনগুলো কাটে একটা ফুটপাতে। শীতকালে কাঁপে, গরমে ঘামে। রাতে আকাশের তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে সে ভাবে পারুলের কথা। ভাবে সেই দিনের কথা যখন সে টাকা চুরি করেছিল। যদি সেদিন সে চুরি না করত? যদি সে ধৈর্য ধরত? যদি... অনেক যদি। কিন্তু যদিগুলো আর কোনো কাজে আসে না।
এক শীতের রাতে করিমের শরীর আর সইতে পারে না। সে ফুটপাতে শুয়ে থাকে। চোখ বন্ধ করে। তার মনে হয় পারুল এসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। “বাবা, আমি বড় হয়েছি... আমি ভালো আছি...” করিম হাসে। তার শ্বাস থেমে যায়।
সকালে রাস্তার লোকেরা তাকে দেখতে পায়। কেউ চেনে না। পুলিশ এসে নেয়। অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বৃদ্ধ। তাকে সরকারি কবরে পুঁতে দেওয়া হয়। কোনো নাম নেই, কোনো পরিচয় নেই।
পারুল খবর পায় অনেক দিন পর। সে এসে বাবার কবর খুঁজে পায় না। শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদে। তার মেয়েটা জিজ্ঞেস করে, “মা, কেন কাঁদছ?” পারুল বলে, “তোর দাদুর কথা মনে পড়ছে।” মেয়েটা বোঝে না। সে শুধু মায়ের হাত ধরে রাখে।
গল্পটা এখানেই শেষ হয় না। কারণ অসহায় বাবারা প্রতিদিন এই শহরে জন্মায়। তাদের মেয়েরা স্বপ্ন দেখে। আর স্বপ্নগুলো একদিন রাস্তায় গড়াগড়ি খায়। করিমের মতো মানুষগুলো চুরি করে না শুধু টাকার জন্য। তারা চুরি করে ভালোবাসার জন্য। আর সেই ভালোবাসাই তাদের শেষ করে দেয়।
পারুল এখন মা। সে তার মেয়েকে নিয়ে একই বস্তিতে থাকে। রাতের বেলা মেয়েকে গল্প বলে। গল্পে থাকে একজন বাবা, যে তার মেয়েকে ভালো জায়গায় পড়াতে চেয়েছিল। গল্পটা শুনে মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়ে। পারুল জানালা দিয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার মনে হয়, বাবা যদি আজ বেঁচে থাকত... যদি...
কিন্তু যদিগুলো আর ফিরে আসে না। শুধু কষ্টটা থেকে যায়। অসহায় বাবার কষ্ট। যে কষ্ট কোনোদিন শেষ হয় না। যে কষ্ট বস্তির গলি দিয়ে বয়ে যায়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
এভাবেই চলতে থাকে জীবন। করিমের মতো মানুষরা হারিয়ে যায়। পারুলের মতো মেয়েরা বেড়ে ওঠে স্বপ্নহীন। আর শহরটা চলতে থাকে তার নিজের গতিতে—বড় স্কুল, বড় বাড়ি, বড় স্বপ্ন। কেউ ফিরে তাকায় না সেই অসহায় বাবার দিকে, যে একদিন শুধু তার মেয়ের জন্য সব হারিয়েছিল।

১ লাখ টাকা পুরস্কার জেতার সুযোগ!

আমার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন। তারপর যেকোনো ভিডিওতে এই কমেন্টটি করুন:

🔗 https://youtube.com/@jaminatvmt
📝 @jaminatvmt

ধন্যবাদ ❤️

Comments

    Please login to post comment. Login