মেট্রোর ভিড়ে অচেনা পরিচিতি
সেদিন বিকেলটা অন্য সব বিকেলের মতোই ছিল। শহরের ব্যস্ততা, রাস্তায় মানুষের ভিড়, যানবাহনের শব্দ—সবকিছুই ছিল চেনা। অথচ সেই সাধারণ বিকেলটাই যে তার জীবনের একটি অদ্ভুত গল্পের শুরু হয়ে থাকবে, সেটা তখন সে জানত না।
মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছেলেটি টিকিট কাটল। তার গন্তব্য মিরপুর-১২। প্রতিদিনের মতোই বাড়ি ফেরার একটা স্বাভাবিক যাত্রা। মেট্রোরেলে ওঠার পর সে ভিড়ের মধ্যে নিজের জন্য একটু জায়গা খুঁজছিল।
হঠাৎ তার চোখ থেমে গেল।
কয়েকজন যাত্রীর মাঝখানে একটি মেয়ে বসে ছিল।
মেয়েটি খুব বেশি কিছু করছিল না। চুপচাপ বসে জানালার দিকে তাকাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ তার চোখ ছেলেটির চোখের সঙ্গে মিলল।
এক মুহূর্ত।
তারপর মেয়েটি চোখ সরিয়ে নিল।
ছেলেটিও অন্যদিকে তাকাল।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার চোখাচোখি হলো।
এবার ছেলেটির মনে হলো, মেয়েটি যেন তাকে শুধু দেখছে না—চেনার চেষ্টা করছে।
অদ্ভুত ব্যাপার।
তারা একে অপরের নাম জানে না। কখনো কথা হয়নি। এমনকি আগে কোথাও দেখা হয়েছে কি না, সেটাও ছেলেটির মনে পড়ছিল না।
তবু মেয়েটির চোখে এমন একটা পরিচিত ভাব ছিল, যা তাকে অস্বস্তির চেয়ে বেশি কৌতূহলী করে তুলল।
মেট্রোরেল এগিয়ে চলল।
শহরের ব্যস্ত ভবনগুলো পেছনে সরে যেতে লাগল। স্টেশনের নাম ঘোষণা হতে লাগল একের পর এক।
ছেলেটি মনে মনে ভাবছিল—
‘এ মেয়েটি কে?’
আর মেয়েটিও মাঝে মাঝে তার দিকে তাকাচ্ছিল।
তৃতীয়বার চোখাচোখি হওয়ার পর ছেলেটির মনে হলো, এবার হয়তো সত্যিই কথা বলা দরকার।
কিন্তু কীভাবে?
ভিড়ের মধ্যে অপরিচিত একজন মানুষের সঙ্গে হঠাৎ কথা শুরু করা সহজ নয়।
তারপর এল আগারগাঁও।
কিছু যাত্রী নেমে গেল। ভিড় একটু কমল। ছেলেটি হঠাৎ দেখতে পেল, মেয়েটির পাশে একটি আসন খালি হয়েছে।
সে ধীরে ধীরে সেখানে বসতে গেল।
ঠিক তখনই মেয়েটি তার দিকে তাকিয়ে বলল,
—বসুন।
ছেলেটি একটু অবাক হলো।
—জি?
—এখানে বসতে পারেন।
ছেলেটি বসে পড়ল।
কয়েক সেকেন্ড দুজনের মধ্যে কোনো কথা হলো না।
মেট্রোরেলের শব্দের মধ্যে একটা অদ্ভুত নীরবতা তৈরি হলো।
তারপর মেয়েটিই প্রথম কথা বলল।
—আপনি এখান থেকে কোথায় যাবেন?
ছেলেটি বলল,
—মিরপুর-১২।
—ওহ।
—আপনি?
মেয়েটি জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
—উত্তরা উত্তর। ওখানেই আমার বাসা।
ছেলেটি মাথা নাড়ল।
তারপর আবার নীরবতা।
কিন্তু এবার সেই নীরবতা আগের মতো অস্বস্তিকর ছিল না।
মেয়েটি আবার বলল,
—আপনি কি প্রতিদিন মেট্রোতে আসা-যাওয়া করেন?
—সব সময় না। তবে মাঝে মাঝে করি।
—আজ হঠাৎ উঠলেন?
—হ্যাঁ।
মেয়েটি মৃদু হাসল।
—আমিও আজ একটু অন্য সময়ে বের হয়েছি।
ছেলেটি লক্ষ্য করল, মেয়েটির কথাবার্তায় অদ্ভুত স্বাভাবিকতা আছে। যেন তারা অপরিচিত নয়। যেন কোনো পুরোনো পরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলছে।
কিছুক্ষণ পর ছেলেটি সাহস করে জিজ্ঞেস করল,
—আপনাকে কি আগে কোথাও দেখেছি?
মেয়েটি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
—আমারও মনে হচ্ছে আপনাকে কোথাও দেখেছি।
ছেলেটি অবাক হলো।
—সত্যি?
—হ্যাঁ। কিন্তু কোথায়, সেটা মনে করতে পারছি না।
এই কথাটাই ছেলেটির মনে গভীরভাবে দাগ কাটল।
কারণ তার নিজেরও একই অনুভূতি হচ্ছিল।
মেয়েটিকে যেন সে বহুদিন ধরে চেনে।
অথচ পরিচয় নেই।
নাম নেই।
ঠিকানা নেই।
কোনো স্মৃতি নেই।
তবু একটা অদ্ভুত পরিচিতি আছে।
মেট্রো এগিয়ে যাচ্ছিল।
কথা ধীরে ধীরে আরও বাড়ল।
পড়াশোনা, শহর, গ্রামের বাড়ি—ছোটখাটো অনেক বিষয় নিয়ে কথা হলো।
এক পর্যায়ে মেয়েটি গ্রামের কথা বলতেই ছেলেটি থমকে গেল।
—আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়?
মেয়েটি গ্রামের নাম বলল।
ছেলেটির বুকের ভেতর যেন হঠাৎ কিছু একটা কেঁপে উঠল।
এটা তো তারও গ্রামের নাম!
সে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
—আপনি কি ওই গ্রামের?
মেয়েটি অবাক হয়ে তাকাল।
—হ্যাঁ। আপনি চেনেন?
ছেলেটি বলল,
—আমার গ্রামের বাড়িও ওই এলাকায়।
মেয়েটির মুখেও বিস্ময়ের ছাপ ফুটে উঠল।
—সত্যি?
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
মেট্রোরেলের ভেতরের ভিড়, মানুষের কথাবার্তা, ট্রেনের শব্দ—সবকিছু যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য দূরে সরে গেল।
একই গ্রাম!
এত বড় শহরের মধ্যে, এত মানুষের ভিড়ে, একই গ্রামের দুজন মানুষের এভাবে দেখা হয়ে যাওয়া নিছক কাকতালীয় হলেও ঘটনাটা অদ্ভুত।
কিন্তু গল্পের আসল রহস্য তখনও তাদের অজানা।
মেয়েটি উত্তরা উত্তর স্টেশনে নামার আগে শুধু বলল,
—আচ্ছা, তাহলে আজ যাই।
ছেলেটি বলল,
—জি।
মেয়েটি নামতে নামতে একবার পেছনে তাকাল।
ছেলেটিও তাকিয়ে ছিল।
দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
মেট্রো আবার চলতে শুরু করল।
কিন্তু ছেলেটির মনে হলো, তার যাত্রাটা যেন এখানেই শেষ হলো না।
বরং শুরু হলো।
বাড়ি ফেরার পরও মেয়েটির কথা তার মাথা থেকে যাচ্ছিল না।
কেন?
সে নিজেই জানত না।
মেয়েটির সঙ্গে তো খুব বেশি কথা হয়নি।
নামটাও ঠিকমতো জানা হয়নি।
কোথায় থাকে সেটাও শুধু এতটুকুই জানা—উত্তরা উত্তর।
তবু সেই মুখটা বারবার মনে পড়ছিল।
বিশেষ করে চোখদুটো।
যেভাবে সে প্রথমে তাকিয়েছিল।
যেভাবে পরে আবার তাকিয়েছিল।
আর মেট্রোতে পাশে বসার পর যেভাবে স্বাভাবিকভাবে বলেছিল,
‘বসুন।’
ছেলেটি সেদিন রাতে অনেকক্ষণ ভাবল।
হয়তো এই ঘটনাটা এখানেই শেষ।
হয়তো আর কখনো দেখা হবে না।
ঢাকার মতো বিশাল শহরে একজন মানুষকে দ্বিতীয়বার খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।
কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু ঘটনা থাকে, যেগুলো শেষ হয়ে গেলেও মনে হয় শেষ হয়নি।
সেদিনের ঘটনাটাও তেমনই ছিল।
দুই দিন পর আবার দেখা হলো।
এবারও মেট্রোরেলে।
ছেলেটি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিল না।
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখে তার মনে হলো, চোখ হয়তো ভুল করছে।
কিন্তু না।
সেই একই মানুষ।
মেয়েটিও তাকে দেখে থেমে গেল।
দুজনের চোখাচোখি হলো।
মেয়েটির মুখে এবার স্পষ্ট বিস্ময়।
তারপর সে হেসে ফেলল।
ছেলেটির মনে হলো, যেন কোনো পুরোনো পরিচিত মানুষকে আবার ফিরে পাওয়া গেছে।
এইবার কথা বলতে বেশি সময় লাগল না।
মেয়েটি বলল,
—আপনি আবার!
ছেলেটি হেসে বলল,
—হ্যাঁ। মনে হচ্ছে মেট্রো আমাদের বারবার একই জায়গায় এনে ফেলছে।
মেয়েটি বলল,
—হয়তো কাকতালীয়।
ছেলেটি বলল,
—হতে পারে।
কিছুক্ষণ পর মেয়েটি বলল,
—আপনার নামটা তো সেদিন জিজ্ঞেস করা হয়নি।
ছেলেটি নিজের নাম বলল।
মেয়েটিও তার নাম বলল।
নামটা শোনার পর ছেলেটির মনে হলো, কোথাও যেন এই নামটি সে আগে শুনেছে।
কিন্তু কোথায়?
সেটা সে মনে করতে পারল না।
মেয়েটিও ছেলেটির নাম শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
—আপনার নামটাও পরিচিত লাগছে।
ছেলেটি অবাক হয়ে বলল,
—আমার?
—হ্যাঁ। মনে হচ্ছে আগে কোথাও শুনেছি।
আবার সেই একই অনুভূতি।
অচেনা অথচ পরিচিত।
সেদিনের কথাবার্তা একটু দীর্ঘ হলো।
গ্রামের কথা উঠল।
কে কোন পরিবারের—সে বিষয়ে কথা হতে হতে দুজনেই বুঝতে পারল, তাদের পরিবারগুলোর মধ্যে কোনো না কোনো পুরোনো পরিচয় রয়েছে।
কিন্তু পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হচ্ছিল না।
ছেলেটি তখনও জানত না, তার নিজের পরিবারে এই মেয়েটিকে নিয়ে কোনো কথা কখনো হয়েছে কি না।
কয়েক দিন পর গ্রামের বাড়ি থেকে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় হঠাৎ সে মেয়েটির কথা তুলল।
—মা, আমাদের গ্রামের অমুক পরিবারের একটা মেয়ে ঢাকায় থাকে না?
মা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।
তারপর বললেন,
—কেন?
—এমনিই জিজ্ঞেস করলাম।
মা আবার বললেন,
—তুমি কি কারও সঙ্গে দেখা করেছ?
ছেলেটি অবাক হলো।
—কেন?
মা বললেন,
—কিছুদিন আগে তো ওই পরিবারের সঙ্গে তোমাকে নিয়ে একটা পারিবারিক কথা উঠেছিল।
ছেলেটি থমকে গেল।
—আমাকে নিয়ে?
—হ্যাঁ। তবে সেটা তো শুধু পরিবারের মধ্যে কথাবার্তা। কিছু ঠিক হয়নি।
ছেলেটি আর কিছু বলল না।
তার মাথায় তখন মেট্রোর সেই বিকেলটা ফিরে আসছিল।
মেয়েটির তাকানো।
তারপর পাশে বসতে বলা।
গ্রামের কথা।
পরিচিত নাম।
সবকিছু যেন ধীরে ধীরে এক সুতোয় বাঁধা পড়ছে।
কিন্তু মেয়েটি কি এসব জানত?
সে কি জানত যে দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই কোনো কথা হয়েছিল?
নাকি তারও কিছুই জানা ছিল না?
এই প্রশ্নের উত্তর ছেলেটি তখনও জানত না।
পরেরবার যখন তাদের দেখা হলো, ছেলেটি সরাসরি কোনো প্রশ্ন করল না।
সে শুধু বলল,
—আপনার পরিবার কি আমাদের পরিবারের কাউকে চেনে?
মেয়েটি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
—সম্ভবত।
—আপনি জানেন?
—কিছুটা।
—কী?
মেয়েটি মৃদু হেসে বলল,
—সব কথা মেট্রোতে বলা যায় না।
ছেলেটিও হেসে ফেলল।
—তাহলে কোথায় বলা যায়?
মেয়েটি বলল,
—যেদিন সবকিছু পরিষ্কার হবে, সেদিন।
এই কথার পর দুজনেই চুপ করে গেল।
তাদের মধ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না।
কোনো দাবি ছিল না।
ছিল শুধু একটা অদ্ভুত পরিচিতির অনুভূতি।
যেন জীবন তাদের দুজনকে হঠাৎ একই রাস্তায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
এরপর শুরু হলো অপেক্ষা।
কখন আবার দেখা হবে?
কোন মেট্রোতে?
কোন সময়?
কোন স্টেশনে?
কেউ জানত না।
ছেলেটি কখনো মেয়েটিকে খুঁজতে শহরের পথে পথে ঘুরে বেড়ায়নি। সে জানত, মানুষের নিজের জীবন, নিজের পরিবার, নিজের সীমা আছে।
কিন্তু মনের ভেতর একটা প্রশ্ন থেকে গেল—
‘সেদিন যদি আমি ওই মেট্রোতে না উঠতাম?’
তাহলে কি তাদের দেখা হতো?
হয়তো না।
‘যদি আগারগাঁওয়ে আসনটা খালি না হতো?’
তাহলে কি কথা হতো?
হয়তো না।
‘যদি মেয়েটি তাকে বসতে না বলত?’
তাহলে?
হয়তো তারা দুজনেই একে অপরকে দেখে চলে যেত।
কতগুলো ছোট ছোট ঘটনাই যে মানুষের জীবনে বড় গল্পের দরজা খুলে দেয়!
কয়েক সপ্তাহ পর গ্রামের বাড়ি থেকে খবর এলো।
দুই পরিবার আবার বসবে।
ছেলেটি তখন সব বুঝতে শুরু করল।
মেট্রোর সেই অপরিচিত মেয়েটি আসলে সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিল না।
তাদের পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয়ের একটা সূত্র ছিল।
তাদের দেখা হওয়ার কথা হয়তো কেউ পরিকল্পনা করেনি।
কিন্তু ভাগ্যের মতোই ঘটনাগুলো একটার পর একটা ঘটেছিল।
দুই পরিবার যখন বসে কথা বলছিল, তখন ছেলেটি প্রথমবার মেয়েটিকে পারিবারিক পরিবেশে দেখল।
মেট্রোর সেই মেয়েটিই।
কিন্তু আজ সে আর কোনো অপরিচিত যাত্রী নয়।
তার পরিবারের মানুষজনও ছেলেটির পরিবারকে চিনত।
মেয়েটির চোখে তখনও সেই একই শান্ত বিস্ময়।
কিছুক্ষণ পর তাদের চোখাচোখি হলো।
দুজনেই হেসে ফেলল।
কেউ কিছু বলল না।
কিন্তু দুজনের মনেই যেন একই কথা—
‘তাহলে সেদিনের সেই দেখা সত্যিই শুধু কাকতালীয় ছিল না।’
তবু গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অংশ ছিল এই যে, তাদের গল্প শুরু হয়েছিল কোনো বড় ঘটনা দিয়ে নয়।
একটি সাধারণ মেট্রোরেল।
একটি সাধারণ বিকেল।
ভিড়ের মধ্যে দুবার চোখাচোখি।
একটি খালি আসন।
একটি ছোট্ট কথা—
‘বসুন।’
তারপর একটি প্রশ্ন—
‘আপনি কোথায় যাবেন?’
তারপর গ্রামের নাম।
তারপর পরিচিতির রহস্য।
আর শেষে জানা গেল, যে মানুষটিকে এত অচেনা মনে হচ্ছিল, তার সঙ্গে পরিবারের বহুদিনের একটি সম্পর্কের সূত্র আগে থেকেই কোথাও লেখা ছিল।
ছেলেটি পরে প্রায়ই ভাবত—
মানুষ কখনো কখনো কাউকে প্রথম দেখাতেই কেন পরিচিত মনে করে?
হয়তো মানুষের স্মৃতির চেয়েও গভীর কিছু আছে।
হয়তো কোনো মুখের ভঙ্গি, চোখের দৃষ্টি, কথা বলার ধরন—অজান্তেই মনের ভেতর পুরোনো কোনো অনুভূতির দরজা খুলে দেয়।
আর কখনো কখনো, একটি অচেনা মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরও মনে হয়—
‘এই মানুষটিকে যেন অনেক আগে থেকেই চিনি।’
মেয়েটির ক্ষেত্রেও কি একই অনুভূতি ছিল?
ছেলেটি জানত না।
হয়তো কোনোদিন পুরোপুরি জানবেও না।
কিন্তু সে এটুকু বুঝেছিল—
জীবনের কিছু দেখা হঠাৎ ঘটে, কিন্তু তার অর্থ বুঝতে সময় লাগে।
সেদিন বিকেলে মেট্রোরেলের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সে ভেবেছিল, হয়তো মেয়েটির সঙ্গে আর কখনো দেখা হবে না।
কিন্তু জীবন তার জন্য অন্য গল্প লিখে রেখেছিল।
আর সেই গল্পের প্রথম পাতায় ছিল—
মতিঝিল থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি মেট্রোরেল,
আগারগাঁওয়ের একটি খালি আসন,
দুজন অচেনা মানুষের চোখাচোখি,
আর একটি সহজ প্রশ্ন—
‘আপনি এখান থেকে কোথায় যাবেন?’
সেই প্রশ্নের উত্তর ছিল—
‘মিরপুর-১২।’
‘উত্তরা উত্তর।’
কিন্তু তারা কেউ জানত না, তাদের পথ হয়তো শুধু মেট্রোরেলের দুই ভিন্ন গন্তব্যে শেষ হবে না।
হয়তো সেই যাত্রার আসল গন্তব্য ছিল আরও অনেক দূরে।
সময়ের কাছে।
পরিবারের কাছে।
পরিচয়ের কাছে।
আর এমন এক ভবিষ্যতের কাছে, যার কথা সেদিন বিকেলে মেট্রোরেলের সেই ছোট্ট কামরায় বসে তাদের কেউই জানত না।
কিছু গল্পের শুরুতে পরিচয় থাকে না।
থাকে শুধু একটি দৃষ্টি।
একটি প্রশ্ন।
একটি অদ্ভুত পরিচিতি।
তারপর সময় ধীরে ধীরে বলে দেয়—
কেন সেই মানুষটির সঙ্গে দেখা