Posts

নিউজ

ইয়োসার শেষ উপন্যাসটি পেরুর প্রতি এক ভালোবাসার চিঠি

August 16, 2026

নিউজ ফ্যাক্টরি

Featured Image
7
View

নোবেলজয়ী লেখক মারিও ভার্গাস ইয়োসার শেষ উপন্যাসটি ছিল তার জন্মভূমি পেরু এবং এর লোকসংগীতের প্রতি একটি আন্তরিক ও আবেগঘন ভালোবাসার চিঠি। এই উপন্যাসে লেখক তুলে ধরেছেন কীভাবে শিল্প ও সংগীত মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করতে পারে।  

'আই গিভ ইউ মাই সাইলেন্স' উপন্যাসটি চলতি বছরের ১৩ আগস্ট যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হয়। বইটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অ্যাড্রিয়ান নাথান ওয়েস্ট। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটি ২০২৩ সালে 'le dedico mi silencio' শিরোনামে স্প্যানিশ ভাষায় প্রথম প্রকাশিত হয়।      

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র তোয়ো আসপিলকুয়েতা পেরুর রাজধানী লিমায় বসবাস করেন। আদর্শবাদী এই নায়ক পেশায় একজন সঙ্গীত সাংবাদিক ও গবেষক। তিনি সবসময়ই পেরুভিয়ান সঙ্গীতের অধ্যাপক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু উপন্যাসের শুরুতে দেখা যায়, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা এবং বিশেষায়িত সাময়িকীতে নিবন্ধ লিখে তিনি কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সৌভাগ্যবশত, তার সহনশীল স্ত্রী মাটিল্ডা তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেন।       

এদিকে এক গোপন আসরে লালো মলফিনো নামের এক প্রতিভাবান গিটার বাদকের জাদুকরি পরিবেশনা শুনে তোয়োর জীবন বদলে যায়। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, পেরুর ঐতিহ্যবাহী 'ভালস' নৃত্য এবং স্থানীয় সঙ্গীত সাধারণ মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে। পাশাপাশি দেশের সহিংস অতীত ও বিভেদ দূর করতে পারে। এই ভাবনা থেকেই তিনি লালোর জীবনী এবং পেরুর সংগীত নিয়ে একটি বই লেখার কাজে মনোযোগ দেন।  

মূলত তোয়োর চরিত্রটি আধুনিক ডন কুইক্সোটের মতো। তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্প সমাজের আমূল পরিবর্তন আনতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত এক ট্র্যাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক যাত্রায় রূপ নেয়। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে লেখা এই ছোট ও মননশীল উপন্যাসটিতে ইয়োসা তার চিরচেনা রাজনৈতিক তীব্রতার পাশাপাশি এক অপূর্ব কোমলতা ও মায়া ফুটিয়ে তুলেছেন। এটি কেবল একটি উপন্যাস নয় বরং লাতিন আমেরিকার এই মহান লেখকের দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রার এক পরম ও সুন্দর সমাপ্তি।        

উল্লেখ্য, মারিও ভার্গাস ইয়োসা ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল ৮৯ বছর বয়সে লিমায় নিজ বাড়িতে মারা যান। তিনি ‘এল বুম’ নামে পরিচিত লাতিন আমেরিকার সাহিত্য আন্দোলনের শেষ জীবিত সদস্য ছিলেন। এই আন্দোলনের কারণে ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ এর দশকে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, কার্লোস ফুয়েন্তেস, জুলিও কর্তাজার এবং আরও অনেক তরুণ লাতিন আমেরিকান উপন্যাসিক ইউরোপ ও সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তিনি ২০১০ সালে সাহিত্যে নোবেল প্রাইজ জিতেছেন।  

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

Comments

    Please login to post comment. Login